শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬
চুয়াডাঙ্গা ডট নেট
শিরোনাম
বিজ্ঞাপন

'রাষ্ট্র সবার, কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দেশ গড়তে হবে': ঢাকেশ্বরী মন্দিরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

নিজস্ব প্রতিবেদক২১ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৩১ পিএম
'রাষ্ট্র সবার, কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দেশ গড়তে হবে': ঢাকেশ্বরী মন্দিরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

ধর্মীয় ভেদাভেদ ভুলে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে দেশ গড়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, ধর্ম যার যার আলাদা হতে পারে, কিন্তু রাষ্ট্র সবার। এই ভূখণ্ডে প্রত্যেক নাগরিকের সমান অধিকার রয়েছে এবং সবার নিরাপত্তা দেওয়া রাষ্ট্রের মৌলিক দায়িত্ব।

গতকাল সোমবার রাজধানীর ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে শারদীয় দুর্গাপূজার মণ্ডপ পরিদর্শনে গিয়ে হিন্দু সম্প্রদায়ের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। এ অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এবং সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেনও বক্তব্য রাখেন।

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়কালে তারেক রহমান বলেন, ‘এই দেশ আপনার, এই দেশ আমার। আমরা সকলে মিলে একসঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দেশটিকে গড়ি।’

নাগরিক অধিকার ও পারস্পরিক দায়িত্বের কথা তুলে ধরে সরকারপ্রধান বলেন, ‘ধর্মটা হতেই পারে আমার একটি ধর্ম, আপনার একটি ধর্ম। কিন্তু রাষ্ট্রটা আমাদের সকলের। বাংলাদেশ নামক যে রাষ্ট্র, এই রাষ্ট্রটি আমাদের সকলের। এই দেশটিতে আপনার যেমন অধিকার আছে, আমারও অধিকার আছে। এই দেশের প্রতি আপনার যেমন কর্তব্য আছে, আমারও এই দেশের প্রতি কর্তব্য আছে।’

নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘রাষ্ট্রের দায়িত্ব হচ্ছে আপনাকে নিরাপত্তা দেয়া, ঠিক একইভাবে এই রাষ্ট্রের দায়িত্ব হচ্ছে আমাকেও নিরাপত্তা দেওয়া। আমাদের সবার দায়িত্ব হচ্ছে আমরা একে অপরকে দেখে রাখব। আমরা একে অপরের সঙ্গে কাজ করে এ দেশটাকে এগিয়ে নিয়ে যাব।’

উপস্থিত ভক্ত ও পুণ্যার্থীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা সকলেই এই দেশের সন্তান, এই দেশের মানুষ, বাংলাদেশি। আমরা প্রত্যেকে মানুষ। এটি হচ্ছে আমাদের সবচেয়ে আগের পরিচয়। এখানে উপস্থিত আমরা প্রত্যেকেই বাংলাদেশি।’

মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনের দৃষ্টান্ত

বক্তব্যে মহান মুক্তিযুদ্ধের পটভূমি টেনে তারেক রহমান বলেন, ‘১৯৭১ সালে যখন মুক্তিযুদ্ধ হয়েছিল, সেই যুদ্ধে যখন এই দেশের মানুষ ঝাঁপিয়ে পড়েছিল স্বাধীনতার সূর্যকে ছিনিয়ে আনার জন্য, তখন কিন্তু আমরা কেউ দেখিনি কে মুসলমান, কে হিন্দু, কে বৌদ্ধ, কে খ্রিস্টান। যুদ্ধের মাঠে কিন্তু এটা আমরা দেখিনি, কখনো জিজ্ঞেসও করিনি।’

একইভাবে পরবর্তী সময়ে ভোটাধিকার ও গণতন্ত্র রক্ষার লড়াইয়ের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, গণতন্ত্র যখনই হুমকির মুখে পড়েছে, মানুষ রাজপথে নেমেছে। তখন এক আন্দোলনকারী পাশের জনের কাছে তাঁর ধর্ম জানতে চায়নি; সবার লক্ষ্য ছিল মানুষের বাকস্বাধীনতা ও ভোটাধিকার ফিরিয়ে আনা।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আত্মত্যাগ

অতি সাম্প্রতিক ইতিহাসের দিকে ইঙ্গিত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বেশি দিন আগের কথা নয়। এই তো মাত্র আড়াই বছরও হয়নি বোধ হয়। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট। চোখটা বন্ধ করলেই আমাদের চোখের সামনে সবগুলো দৃশ্য ভেসে ওঠে। সেই গণঅভ্যুত্থানের সময় হাজার হাজার, লাখ লাখ মানুষ রাজপথে নেমে এসেছিল। কেউ কি আমরা কাউকে জিজ্ঞেস করেছি, ভাই আপনি কোন ধর্মের মানুষ?’

তিনি জানান, এদিন সকালেই তিনি ওসমানী উদ্যানে জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভ উদ্বোধন করেছেন। সেই স্মৃতিচারণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সেদিন তো সব ধর্মের মানুষই ছিল। এই যে যারা শহীদ হয়েছেন, আজকেই আমি ওসমানী উদ্যানে জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভ উদ্বোধন করে এসেছি। সেখানে তো হিন্দু মানুষও আছে, মুসলমান মানুষও আছে, বৌদ্ধও আছে, খ্রিস্টানও আছে। সবাই তো সেদিন জান কোরবানি দিয়েছেন মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠিত করার জন্য।’

দেশের ভবিষ্যৎ প্রসঙ্গে তিনি সবাইকে মানুষ হিসেবে দেখার ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, ‘এই দেশটির যদি পরিবর্তন ঘটে, এ দেশের মানুষের যদি পরিবর্তন ঘটে, তাহলে আপনি যেমন উপকৃত হবেন, আমিও উপকৃত হব। যখন কেউ ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তখন যেমন দেখে না কোন ধর্মের মানুষ, যখন মানুষ ভালো থাকে, তখনো মানুষ দেখে না। শুধু দেখে আপনিও মানুষ, আমিও মানুষ।’

বক্তব্যের ইতি টেনে প্রধানমন্ত্রী আহ্বান জানান, ‘আসুন, আমরা আমাদেরকে মানুষ হিসেবে বিবেচনা করি। একজন আরেকজনকে আমরা চিনি, জানি এই দেশের নাগরিক, বাংলাদেশি হিসেবে।’ শারদীয় দুর্গাপূজার আবহকে আনন্দের উল্লেখ করে তিনি দিনটিকে একটি সুন্দর মিলনমেলা হিসেবে আখ্যা দেন।

আঞ্চলিক সংবাদ থেকে আরও পড়ুন
আরও সংবাদ লোড হচ্ছে...