মসজিদে আলোচনা নিয়ে কুষ্টিয়ায় বিএনপি-জামায়াত হাতাহাতি, উভয় পক্ষের আহত ৪

কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলায় আসরের নামাজের পর মসজিদে আলোচনাকে কেন্দ্র করে বিরোধে জড়িয়েছে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী। দুই পক্ষের নেতাকর্মীদের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা থেকে শুরু হওয়া হাতাহাতিতে ইউনিয়ন জামায়াতের আমিরসহ অন্তত চারজন আহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার বিকেলে উপজেলার কুর্শা ইউনিয়নের তারাচাঁদ মণ্ডল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন মসজিদে এ ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আসরের নামাজ শেষ হওয়ার পর মসজিদের ভেতরে দ্বীনি আলোচনা চলছিল। ওই আলোচনা চলাকালীন দুই পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে উভয় পক্ষের লোকজন হাতাহাতি ও মারামারিতে জড়িয়ে পড়েন।
সংঘর্ষে কুর্শা ইউনিয়ন জামায়াতের আমির জয়নাল আবেদীন এবং ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক স্বপন শেখসহ চারজন আহত হন। ঘটনার পর স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে মিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেন।
ঘটনার বিবরণ দিয়ে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক টিপু সুলতান বলেন, জামায়াতের লোকজন মসজিদের ভেতরে সাধারণ মানুষকে দলীয় নিয়মে শপথ পড়াচ্ছিল। তখন বিএনপি নেতাকর্মীরা মসজিদে এ ধরনের রাজনৈতিক আলোচনা না করার অনুরোধ জানালে জামায়াত কর্মীরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে এবং বিএনপি কর্মীদের মারধর করে। এ থেকেই হাতাহাতির সূত্রপাত হয়।
তবে এই অভিযোগ অস্বীকার করে উপজেলা জামায়াতের আমির রেজাউল হক বলেন, নামাজ শেষে সেখানে নিয়মিত কোরআন ও হাদিসের আলোকে আলোচনা চলছিল। সেখানে কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচি বা উদ্দেশ্য ছিল না। সম্পূর্ণ অযৌক্তিকভাবে সেই ধর্মীয় আলোচনায় বাধা দেওয়া হয় এবং পরে জামায়াত নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালানো হয়। হামলায় ইউনিয়ন আমির জয়নাল আবেদীন, কর্মী ইব্রাহিমসহ তাঁদের তিনজন আহত হয়েছেন।
মিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহিদুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, মসজিদে আলোচনাকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াত সমর্থকদের মধ্যে হাতাহাতিতে কয়েকজন আহত হওয়ার খবর পেয়ে তিনি নিজে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। বর্তমানে এলাকার পরিবেশ শান্ত রয়েছে এবং যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি ঠেকাতে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।

