সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬
চুয়াডাঙ্গা ডট নেট
শিরোনাম
বিজ্ঞাপন

সীমান্তে মাদক ও চোরাচালান রোধে আপসহীন অবস্থান: মহেশপুর ব্যাটালিয়নের ১১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন

নিজস্ব প্রতিবেদক০২ নভেম্বর ২০২৬, ০২:৪৩ পিএম

সীমান্ত পাহারা, চোরাচালান প্রতিরোধ ও মাদক নির্মূলের প্রত্যয়ে দায়িত্ব পালনের ১১ বছর পূর্ণ করল বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর মহেশপুর ব্যাটালিয়ন (৫৮ বিজিবি)। গৌরবময় এ পথচলা স্মরণে ব্যাটালিয়ন সদর দপ্তরে কেক কাটা, দোয়া মাহফিল ও প্রীতিভোজের আয়োজন করা হয়। রোববার দুপুরে নানা আনুষ্ঠানিকতায় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এ পর্ব উদযাপিত হয়।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মহেশপুর ব্যাটালিয়নের (৫৮ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. রফিকুল আলম। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন বিজিবির দক্ষিণ-পশ্চিম রিজিয়ন, যশোরের রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাহমুদুল হাসান, পিবিজিএম, বিপিএম (সেবা), পিএসসি। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন কুষ্টিয়া সেক্টর কমান্ডার কর্নেল মোহাম্মদ ইফতেখার হোসেন এবং কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়নের (৪৭ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. রাশেদ কামাল রনি। ব্যাটালিয়নের সদস্য ছাড়াও স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা, সাংবাদিক ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা আয়োজনে শামিল হন।

অনুষ্ঠানে ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রফিকুল আলম দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন, "মাদক ও চোরাচালান দমনে ৫৮ বিজিবি সবসময় কঠোর অবস্থানে রয়েছে। সীমান্তে বিজিবির তৎপরতা শুধু অপরাধ দমনেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং স্থানীয় জনগণের নিরাপত্তা ও আস্থার প্রতীক হিসেবেও কাজ করছে।"

ব্যাটালিয়ন প্রতিষ্ঠার পটভূমি

বিডিআর পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে ২০১০ সালের ১৯ জানুয়ারি নতুন একটি ব্যাটালিয়ন গড়ার উদ্যোগ নেয় কুষ্টিয়া সেক্টর। প্রাথমিকভাবে তিনটি সম্ভাব্য জায়গা বিবেচনায় নেওয়ার পর ঝিনাইদহের খালিশপুর এলাকাকে চূড়ান্ত করা হয়। পরবর্তীতে ২০১৩ সালের ৮ এপ্রিল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সীমান্ত শাখা-১ নতুন সদর দপ্তরের জমি অধিগ্রহণের ছাড়পত্র দেয়। জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় ১৩ দশমিক ৯৩ একর ব্যক্তিমালিকানাধীন এবং সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের ১১ একর জমি অধিগ্রহণ শেষে কার্যক্রম গুছিয়ে নেওয়া হয়।

২০১৪ সালের ৯ জুলাই একটি অস্থায়ী টিনশেড ঘরে আনুষ্ঠানিকভাবে মহেশপুর ব্যাটালিয়নের যাত্রা শুরু হয়েছিল। ওই বছরই ১৪ জুলাই ব্যাটালিয়নের স্থায়ী ভিত্তিপ্রস্তর উন্মোচন করেন রিজিয়ন কমান্ডার হাবিবুল করিম। এরপর ২০১৫ সালের ১ নভেম্বর তৎকালীন বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আজিজ আহমেদ আনুষ্ঠানিকভাবে পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে ব্যাটালিয়নটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।

নেতৃত্বের ধারাবাহিকতা ও সীমান্ত সুরক্ষা

প্রতিষ্ঠার পর ব্যাটালিয়নের প্রথম অধিনায়ক হিসেবে হাল ধরেন লেফটেন্যান্ট কর্নেল তাজুল ইসলাম। এরপর পর্যায়ক্রমে দায়িত্ব সামলেছেন লেফটেন্যান্ট কর্নেল জিল্লুর রহমান, লেফটেন্যান্ট কর্নেল কামরুল আহসান, লেফটেন্যান্ট কর্নেল শাহিন আজাদ, লেফটেন্যান্ট কর্নেল মাসুদ পারভেজ রানা এবং লেফটেন্যান্ট কর্নেল আজিজুশ শহীদ।

২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ৫৮ বিজিবির অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. রফিকুল আলম, যাঁর নেতৃত্বে ব্যাটালিয়নের সীমান্ত কার্যক্রম আরও গতি পেয়েছে। গত ১১ বছরের নিরবচ্ছিন্ন পথচলায় ব্যাটালিয়নটি শুধু সীমান্ত সুরক্ষাই নিশ্চিত করেনি, অপরাধ দমন, আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং স্থানীয় মানুষের আস্থা অর্জনেও প্রশংসনীয় ভূমিকা পালন করে চলেছে।

আঞ্চলিক সংবাদ থেকে আরও পড়ুন
আরও সংবাদ লোড হচ্ছে...