দামুড়হুদায় দেড় হাজার বস্তা সার জব্দ

চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদায় অবৈধভাবে সার মজুতের অভিযোগে একটি গোডাউনে অভিযান চালিয়ে ১ হাজার ৫০০ বস্তা সার জব্দ করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় গোডাউনটি সিলগালা করা হয়েছে। গোডাউনের মালিক হাসানুজ্জামান নাঈমকে পলাতক উল্লেখ করে থানায় লিখিত এজাহার দিয়েছেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা। এদিকে, অভিযানের পর নাঈমের মাকে জামায়াতে ইসলামীর রুকন পরিচয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে উপজেলা জামায়াত।
রোববার (২৫ অক্টোবর) চুয়াডাঙ্গা ডট নেটের প্রতিবেদনে জানা যায়, গতকাল শনিবার (২৪ অক্টোবর) সন্ধ্যায় দামুড়হুদা উপজেলার নতুন হাউলী গ্রামসংলগ্ন এলাকায় নাঈম অটোমোবাইল ও বীজ ভান্ডারের গোডাউনে এ অভিযান চালানো হয়। এতে উপজেলা প্রশাসন, কৃষি বিভাগ ও থানা পুলিশের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
অভিযানে জব্দ করা সারের মধ্যে রয়েছে ৩৭০ বস্তা টিএসপি, ১ হাজার ১২০ বস্তা ডিএপি এবং ১০ বস্তা এমওপি সার। অভিযান শেষে গোডাউনটি সিলগালা করে দেওয়া হয়।
দামুড়হুদা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মেজবাহ উদ্দিন জানান, অবৈধভাবে সার মজুতের অভিযোগে গোডাউনটিতে অভিযান চালিয়ে ১ হাজার ৫০০ বস্তা সার জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষ্ণ সরকার বলেন, অবৈধভাবে সার মজুতের অভিযোগে গোডাউনটিতে অভিযান চালিয়ে সার জব্দ করা হয়েছে। এ সময় তিনি ও কৃষি বিভাগের অন্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেবে পুলিশ।
অন্যদিকে, দামুড়হুদা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাজ্জাদ হোসেন বলেন, ওই অভিযানে পুলিশ অংশ নেয়। তিনি সেখানে উপস্থিত ছিলেন, তবে অভিযান পরিচালনা করেনি।
নাঈমের মাকে নিয়ে অপপ্রচারের অভিযোগ জামায়াতের
সার জব্দের ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গোডাউনের মালিক হাসানুজ্জামান নাঈমের মাকে জামায়াতে ইসলামীর রুকন হিসেবে পরিচয় দিয়ে প্রচার চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন দামুড়হুদা উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি আবেদ উদ দৌলা টিটন।
তিনি বলেন, নাঈমের গোডাউনে অভিযান চালানোর পরপরই তাঁর মাকে জামায়াতের রুকন হিসেবে পরিচয় দিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করা হচ্ছে। তাঁর দাবি, এ প্রচার সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।
হাসানুজ্জামান নাঈম দামুড়হুদার দশমী গ্রামের মৃত মফিজুল হক ওরফে মফির ছেলে। তাঁর বিরুদ্ধে অবৈধভাবে সার মজুতের অভিযোগে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রাতে দামুড়হুদা মডেল থানায় লিখিত এজাহার দায়ের করেন।
এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

