চুয়াডাঙ্গায় বেসরকারি একটি ক্লিনিকে চিকিৎসকের অবহেলা ও অ্যানেসথেসিয়ায় ভুলের অভিযোগে রবগুল (বয়স ৫০ ঊর্ধ্ব) নামে এক রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। পরিবারের দাবি, অপারেশনের আগে সম্পূর্ণ স্বাভাবিক থাকা রবগুল হাসিমুখে অপারেশন থিয়েটারে (ওটি) প্রবেশ করলেও অপারেশনের পর আর তার জ্ঞান ফেরেনি। পরে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টার দিকে চুয়াডাঙ্গা শহরের উপশম নার্সিং হোমে এ ঘটনা ঘটে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
নিহত রবগুল চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার সুবদিয়া কাচারিপাড়ার খেজমত মোল্লার ছেলে। তিনি পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন বলে স্বজনরা জানিয়েছেন।
পরিবারের অভিযোগ
স্বজনদের ভাষ্য, শারীরিক একটি সমস্যার চিকিৎসায় অস্ত্রোপচারের জন্য রবগুলকে উপশম নার্সিং হোমে ভর্তি করা হয়। অপারেশনের আগে তার শারীরিক অবস্থা স্বাভাবিক ছিল। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলার পাশাপাশি হাসিমুখেই তিনি অপারেশন থিয়েটারে প্রবেশ করেন।
তবে অপারেশন শেষে দীর্ঘ সময় পার হলেও তার জ্ঞান ফিরছিল না। একপর্যায়ে পরিবারের সদস্যদের জানানো হয়, রবগুলের অবস্থা আশঙ্কাজনক। পরে তার মৃত্যু হয়।
নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, অ্যানেসথেসিয়া দেওয়ার ক্ষেত্রে ভুল বা চিকিৎসা ব্যবস্থাপনায় কোনো ধরনের গাফিলতির কারণেই এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। তাদের দাবি, চিকিৎসার সময় যথাযথ সতর্কতা অবলম্বন করা হলে রবগুলের মৃত্যু নাও হতে পারত।
পরিবারের আরও অভিযোগ, রবগুলের শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে স্বচ্ছভাবে তথ্য জানানো হয়নি। ঘটনাটি আড়াল করারও চেষ্টা করা হয়েছে বলে তারা দাবি করেন।
তবে চিকিৎসকের অবহেলা, অ্যানেসথেসিয়ায় ভুল কিংবা ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের গাফিলতির অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
স্বজনদের আহাজারি, এলাকায় ক্ষোভ
রবগুলের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর স্বজনদের মধ্যে নেমে আসে শোকের ছায়া। আকস্মিক এ মৃত্যুতে পরিবারের সদস্যদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ।
স্বজনরা বলেন, সুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর একজন মানুষ অপারেশন থিয়েটারে গেলেন এবং আর জীবিত অবস্থায় বের হলেন না—এটি তারা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না।
তারা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করে বলেন, চিকিৎসায় কোনো ধরনের অবহেলা বা দায়িত্বে গাফিলতি প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে।
তদন্তের দাবি
নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে রবগুলের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে অপারেশনের আগে ও পরে তার চিকিৎসা সংক্রান্ত নথি, অ্যানেসথেসিয়ার প্রক্রিয়া এবং চিকিৎসকদের ভূমিকা খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন স্বজনরা।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে ঘটনাটি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। তদন্তে চিকিৎসাসেবায় অবহেলা, অনিয়ম কিংবা বিধিবহির্ভূত কোনো কর্মকাণ্ডের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
রবগুল মোল্লার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ তদন্ত ও চিকিৎসাসংক্রান্ত নথি পর্যালোচনার পরই নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হবে।


