লোগো
Advertisement

ইউপি নির্বাচনের নতুন বিধিমালা প্রকাশ

নিজস্ব প্রতিবেদক ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:২১ পিএম
Advertisement

ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে চেয়ারম্যান ও সদস্য প্রার্থীদের নির্বাচনি ব্যয়সীমা এবং জামানতের পরিমাণ বাড়িয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সংশোধিত বিধিমালায় চেয়ারম্যান প্রার্থীর সর্বোচ্চ নির্বাচনি ব্যয় ১০ লাখ এবং সদস্য প্রার্থীর ২ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

একই সঙ্গে চেয়ারম্যান প্রার্থীর জামানত ৫ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ২৫ হাজার এবং সদস্য প্রার্থীর জামানত ১ হাজার থেকে বাড়িয়ে ৫ হাজার টাকা করা হয়েছে। নতুন নিয়মে প্রদত্ত মোট ভোটের ১৫ শতাংশের কম পেলে প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হবে।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন বিধিমালা, ২০১০-এর সংশোধনী গেজেট প্রকাশ করে ইসি। এর আগে গত ১৭ সেপ্টেম্বর ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ সংশোধনীতে স্বাক্ষর করেন।

ব্যয়ের সীমা দ্বিগুণ

সংশোধিত বিধিমালা অনুযায়ী, চেয়ারম্যান প্রার্থী নির্বাচনে সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা ব্যয় করতে পারবেন। সাধারণ ও সংরক্ষিত সদস্য প্রার্থীদের জন্য এই সীমা ২ লাখ টাকা।

আগের বিধিমালায় চেয়ারম্যান প্রার্থীর সর্বোচ্চ ব্যয়সীমা ছিল ৫ লাখ এবং সদস্য প্রার্থীর জন্য ১ লাখ টাকা। অর্থাৎ দুই পদেই অনুমোদিত সর্বোচ্চ নির্বাচনি ব্যয় দ্বিগুণ করা হয়েছে।

চেয়ারম্যান প্রার্থীকে নির্বাচনি ব্যয়ের হিসাব পরিচালনার জন্য তফসিলি ব্যাংকে পৃথক হিসাব খুলতে হবে। নির্বাচনি ব্যয়ের অর্থ ওই হিসাবের মাধ্যমেই পরিচালনা করতে হবে। ২০ হাজার টাকা বা তার বেশি কোনো খাতে ব্যয় হলে চেকের মাধ্যমে অর্থ পরিশোধের বিধানও রাখা হয়েছে।

১৫ শতাংশ ভোট না পেলে জামানত বাজেয়াপ্ত

নতুন নিয়মে কোনো প্রার্থী সংশ্লিষ্ট নির্বাচনে প্রদত্ত মোট ভোটের অন্তত ১৫ শতাংশ না পেলে তার জামানত বাজেয়াপ্ত হবে। আগে এই সীমা ছিল ১২ দশমিক ৫ শতাংশ।

চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হতে ২৫ হাজার এবং সদস্য পদে ৫ হাজার টাকা জামানত ট্রেজারি চালান, পে-অর্ডার অথবা ব্যাংক ড্রাফটের মাধ্যমে জমা দিতে হবে। একই প্রার্থীর পক্ষে একাধিক মনোনয়নপত্র দাখিল করা হলেও একাধিক জামানত দেওয়ার প্রয়োজন হবে না।

হলফনামায় দেশে-বিদেশের সম্পদের তথ্য

চেয়ারম্যান প্রার্থীদের হলফনামায় নিজেদের এবং নির্ভরশীলদের দেশে ও বিদেশে থাকা সম্পদের বিবরণ দেওয়ার বিধানও যুক্ত হয়েছে। এতে প্রার্থীদের সম্পদসংক্রান্ত তথ্য আরও স্পষ্টভাবে উপস্থাপনের সুযোগ তৈরি হয়েছে।

অনিয়মে ভোট স্থগিত বা বাতিল করতে পারবে ইসি

সংশোধিত বিধিমালায় নির্বাচনি অনিয়মের ক্ষেত্রে কমিশনের ক্ষমতা বাড়ানো হয়েছে। কোনো প্রার্থী বা তার নির্বাচনি এজেন্টের বিরুদ্ধে বিধিমালা লঙ্ঘনের অভিযোগ পাওয়া গেলে রেকর্ড বা লিখিত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে কমিশন তদন্তের উদ্যোগ নিতে পারবে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ থাকবে।

কোনো ভোটকেন্দ্রে বলপ্রয়োগ, ভয়ভীতি প্রদর্শন, কারসাজি বা অন্য কোনো অনিয়মের কারণে ভোটের ফল গুরুতরভাবে প্রভাবিত হলে কমিশন ওই কেন্দ্রের ফল স্থগিত করতে পারবে। পরবর্তী অনুসন্ধানে প্রয়োজন মনে হলে কেন্দ্রটির নির্বাচন বাতিল করে পুনরায় ভোট নেওয়ার নির্দেশও দিতে পারবে।

সমান ভোট হলে লটারি নয়, পুনঃভোট

দুই বা ততোধিক প্রার্থী সর্বোচ্চ সমান ভোট পেলে এবার আর লটারির মাধ্যমে বিজয়ী নির্ধারণ করা হবে না। সংশোধিত বিধিমালা অনুযায়ী, সর্বোচ্চ সমান ভোট পাওয়া প্রার্থীদের মধ্যে পুনরায় ভোটগ্রহণের ব্যবস্থা করবে নির্বাচন কমিশন।

প্রতিবন্ধী ভোটারকে সহায়তায় নতুন বিধান

দৃষ্টি বা শারীরিক প্রতিবন্ধকতা কিংবা অন্য কোনো কারণে ভোট দিতে সহায়তা প্রয়োজন এমন ভোটার একজন সহায়তাকারী সঙ্গে নিতে পারবেন। ওই সহায়তাকারীর বয়স কমপক্ষে ২১ বছর হতে হবে এবং তাকে প্রিসাইডিং কর্মকর্তার অনুমতি নিতে হবে।

ভোটার নিজে ব্যালট পেপারে চিহ্ন দিতে না পারলে তার নির্দেশনা অনুযায়ী সহায়তাকারী চিহ্ন দিতে পারবেন। তবে সহায়তাকারী কোনো প্রার্থী, প্রার্থীর এজেন্ট, ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা কিংবা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য হতে পারবেন না।

ভোটারের পছন্দের তথ্য গোপন রাখার বিষয়েও সহায়তাকারীকে নির্দেশনা দিতে হবে। এ ধরনের ভোটারদের তালিকাও সংরক্ষণ করবেন প্রিসাইডিং কর্মকর্তা।

হুমকি বা বাধা দিলে শাস্তি

নির্বাচনি দায়িত্বে থাকা ব্যক্তি, কমিশন অনুমোদিত গণমাধ্যমকর্মী বা পর্যবেক্ষককে হুমকি, ভয়ভীতি দেখানো, আঘাত করা, বলপ্রয়োগের মাধ্যমে দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়া কিংবা তাদের ব্যবহৃত সরঞ্জাম ক্ষতিগ্রস্ত করাকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে।

একইভাবে ভোটারকে ভোটকেন্দ্রে যেতে বাধা দেওয়া অথবা কোনো প্রার্থীকে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া থেকে বিরত রাখা কিংবা মনোনয়ন প্রত্যাহারে বাধ্য করাও অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে। এসব অপরাধে সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড বা ১০ হাজার টাকা জরিমানা, অথবা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

তফসিলের পর মনিটরিং কমিটি

ইউপি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর নির্বাচনি অপরাধ ও আচরণবিধি লঙ্ঘনের ঘটনা পর্যবেক্ষণে প্রয়োজন অনুযায়ী মনিটরিং কমিটি গঠন করতে পারবে নির্বাচন কমিশন।

এ ছাড়া কোনো প্রার্থী, নির্বাচনি এজেন্ট বা পোলিং এজেন্ট নির্ধারিত সময়ে উপস্থিত না থাকলেও তাদের অনুপস্থিতির কারণে আইন অনুযায়ী সম্পন্ন কোনো কার্যক্রম অবৈধ হবে না। তবে তাদের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে রিটার্নিং বা প্রিসাইডিং কর্মকর্তাকে যথাসাধ্য চেষ্টা করতে হবে এবং অনুপস্থিতির কারণ লিখিতভাবে কমিশনকে জানাতে হবে।

নির্দলীয় প্রতীকে হবে ইউপি নির্বাচন

সংশোধিত বিধিমালা অনুযায়ী আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন হবে নির্দলীয় প্রতীকে। চেয়ারম্যান পদে ২০টি, সাধারণ সদস্য পদে ১২টি এবং সংরক্ষিত সদস্য পদে ১০টি প্রতীক রাখা হয়েছে।

ইউপি নির্বাচনের বিধিমালায় এসব পরিবর্তনের পাশাপাশি মনোনয়ন, হলফনামা, নির্বাচনি ব্যয়, ভোটগ্রহণ ও অনিয়ম মোকাবিলাসহ নির্বাচন পরিচালনার বিভিন্ন ক্ষেত্রে নতুন বিধান যুক্ত করা হয়েছে।

আরও সংবাদ লোড হচ্ছে...