হাসিনাকে সমর্থনের অভিযোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের শাস্তি দেওয়া হচ্ছে: এইচআরডব্লিউ

প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে ছাত্র আন্দোলন দমনে পুলিশের কঠোর অভিযানে শত শত মানুষ নিহত হন। এর পর শেখ হাসিনা দেশ ছাড়েন। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের মধ্য দিয়ে বিএনপি আবার ক্ষমতায় আসে। এর আগে ২০২৫ সালের মে মাসে অন্তর্বর্তী সরকার আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ৪৪ জন শিক্ষককে দায়িত্ব পালন থেকে বিরত রাখা হয়। আরও ২৫ জনের পাঠদানের দায়িত্ব সীমিত করা হয়। পরে তদন্ত কমিটির সুপারিশে ছয়জনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। আরও ১৪ জন শিক্ষকের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়েছে।
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ১২ জন শিক্ষককে চাকরিচ্যুত, সাময়িক বরখাস্ত বা দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। আরও ৩৪ জনের পদাবনতি কিংবা একাডেমিক কার্যক্রম সীমিত করা হয়েছে। শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ১২ জন শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত এবং ১০ জনকে একাডেমিক কার্যক্রম থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। আরও ৮৫ জন শিক্ষক পদোন্নতি পাননি। সব মিলিয়ে ২০ টির বেশি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ২০২৫ সালের মার্চে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ১২৬ জন শিক্ষার্থীকে সাময়িক বহিষ্কার করে এবং তাঁদের পরীক্ষার সনদ আটকে দেয়। ২০২৪ সালের আন্দোলনে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের ওপর হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগে তাঁদের বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়। আরও ২৭৭ জন আওয়ামী লীগপন্থী শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে পুলিশের কাছে অভিযোগ করা হয়েছে। তবে অভিযুক্ত অনেক শিক্ষার্থী অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁদের বক্তব্যের জবাব দেওয়ার যথাযথ সুযোগও দেওয়া হয়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

