বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের ৭৪ দশমিক ২ শতাংশের মধ্যে বিষণ্নতার লক্ষণ: গবেষণা

প্রতিবেদনে বলা হয়, অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ১২ দশমিক ৩ শতাংশের বিষণ্নতার লক্ষণ মৃদু, ২৮ দশমিক ৭ শতাংশের মাঝারি, ১২ দশমিক ৩ শতাংশের তীব্র এবং ২০ দশমিক ৯ শতাংশের অত্যন্ত তীব্র পর্যায়ে ছিল।
গবেষণায় পারিবারিক সম্পর্কের অবনতি, আত্মহত্যার চিন্তা, অনিয়মিত ঘুম ও খাদ্যাভ্যাস, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অতিরিক্ত ব্যবহার এবং ক্যাম্পাসে নিরাপত্তাহীনতাকে বিষণ্নতার ঝুঁকির সঙ্গে সম্পর্কিত বিষয় হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
জরিপে অংশ নেওয়া ২৯ দশমিক ১ শতাংশ শিক্ষার্থী জানান, তারা নিয়মিত পড়াশোনার জন্য দিনে এক ঘণ্টাও সময় দেন না। দিনে পাঁচ ঘণ্টার বেশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করেন ৫৪ দশমিক ৫ শতাংশ শিক্ষার্থী। আর ঘুম থেকে ওঠার আধা ঘণ্টার মধ্যে মোবাইল ফোন দেখেন ৮৭ দশমিক ৪ শতাংশ।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ২৫ দশমিক ৮ শতাংশ শিক্ষার্থীর মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতি হয়েছে। অন্যদিকে, ২২ দশমিক ৫ শতাংশ শিক্ষার্থী মানসিক স্বাস্থ্যসেবা প্রয়োজন বলে মনে করলেও তা নিতে পারছেন না।
শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য পরিস্থিতির উন্নয়নে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে নিয়মিত ও গোপনীয় মানসিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র চালু, সহজে পাওয়া যায় এমন পেশাদার কাউন্সেলিং সেবা নিশ্চিত এবং অভিভাবকদের সচেতনতা বাড়ানোর সুপারিশ করেছে গবেষণা দল। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের আবাসন ও যাতায়াতব্যবস্থা উন্নত করা এবং দৈনন্দিন জীবনে ভারসাম্য বজায় রাখতে প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।
আলোচনায় বক্তারা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য কেবল ব্যক্তিগত বিষয় নয়; এটি শিক্ষা, জনস্বাস্থ্য ও সামাজিক নীতির সঙ্গে জড়িত জাতীয় গুরুত্বের বিষয়। শিক্ষার্থীদের সুস্থ ও নিরাপদ জীবন নিশ্চিত করতে রাষ্ট্র, সমাজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।

