মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া: ১৩ কোটি টাকার প্রকল্পের পানিতেও আর্সেনিক

বালিয়াটি ইউনিয়নের খলিলাবাদ গ্রামের রিপন হোসেনের বাড়িতে ৫০০ ফুট গভীরতার একটি সাবমারসিবল নলকূপ স্থাপনের কথা থাকলেও ঠিকাদারের লোকজন প্রায় ৪০০ ফুট পাইপ বসিয়ে কাজ শেষ করেন। নিচে পাথর থাকায় আর গভীরে যাওয়া সম্ভব নয় বলে জানান তাঁরা। পরে পানির রং হলুদ হওয়ায় পরীক্ষা করালে তাতে আর্সেনিক শনাক্ত হয়। কিন্তু এরপরও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রিপনের।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন উপকারভোগী জানান, নলকূপ স্থাপনের সময় ঠিকাদারের লোকজন ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা অতিরিক্ত দাবি করেন। টাকা দিলে ভালো পানি পাওয়া যাবে, না দিলে পাওয়া যাবে না বলেও জানানো হয়।
এই উপজেলার আবুল হোসেন বলেন, ‘এই নলকূপের পানি দিয়ে গোসল কিংবা কাপড় ধুলে কাপড় নষ্ট হয়ে যায়। সাদা কাপড়ে হলুদ দাগ পড়ে। তাই বাইরে থেকে পানি এনে গোসল ও কাপড় ধোয়ার কাজ করতে হচ্ছে।’
সাটুরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ রোকেয়া বেগম বলেন, দীর্ঘদিন আর্সেনিকযুক্ত পানি পান করলে ত্বকের নানা সমস্যা, ফুসকুড়ি ও ক্যানসারের ঝুঁকি রয়েছে। কিডনি ও লিভারের সমস্যাও হতে পারে।
উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রকৌশলী আজিজুল হাকিম বলেন, সাটুরিয়ার অধিকাংশ ইউনিয়নের ভূগর্ভস্থ পানির মান ভালো নয়। পানির স্তরের পরিস্থিতির কারণে অনেক ক্ষেত্রে আর্সেনিক ও আয়রনমুক্ত পানি পাওয়া যাচ্ছে না। তবে প্রকল্পের কাজ নির্ধারিত শিডিউল অনুযায়ী হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। ঠিকাদারের লোকজন ও বাড়ির মালিকদের সমন্বয়ে কাজ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

