যশোর কারাগার: সাজা শেষ, তবু ফেরা হচ্ছে না ৪৩ ভারতীয়র

ভারতের উত্তর প্রদেশের চিতামারী জেলার মেজরগঞ্জ থানার কাঁকড়ারা গ্রামের বাসিন্দা বাছুল মাঝি। ২০১৩ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি খাগড়াছড়ির রামগড় সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে প্রবেশের দায়ে আটক হন তিনি। পরদিন আদালত তাঁকে ছয় মাসের বিনা শ্রম কারাদণ্ড দেন। সাজা শেষ হওয়ার পর দেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ২০১৮ সালের ২০ নভেম্বর তাঁকে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে স্থানান্তর করা হয়। এরপর দীর্ঘদিন সেখানেই বন্দী ছিলেন বাছুল।
কারাগারে থাকা অবস্থায় সিজোফ্রেনিয়াসহ বিভিন্ন জটিল রোগে আক্রান্ত হন তিনি। ৯ অক্টোবর বুকে ব্যথা শুরু হলে তাঁকে যশোর জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। সাজা শেষ হওয়ার পরও দীর্ঘদিন বন্দী থাকা এই ভারতীয় নাগরিকের স্বদেশে ফেরার আকুতি শেষ হয়েছে মৃত্যুর মধ্য দিয়ে।
একই হাসপাতালের মর্গে পড়ে আছে আরেক ভারতীয় গাজী মণ্ডলের মরদেহ। পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার বাসিন্দা গাজী অস্ত্র আইনের একটি মামলায় যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডপ্রাপ্ত কয়েদি ছিলেন। ১৯ অক্টোবর তিনি মারা যান।
হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক হুসাইন শাফায়াত বলেন, ‘হাসপাতালের মর্গে মরদেহ রাখার চারটি চেম্বার রয়েছে। এর মধ্যে একটি দীর্ঘদিন ধরে নষ্ট। দুটিতে ভারতীয় বন্দীদের মরদেহ। ফলে অন্য মরদেহ রাখার ক্ষেত্রে সমস্যা হচ্ছে।’

