ছাত্রদল নেতা শাকিল হত্যায় সন্দেহভাজন ৭ জনের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞার আবেদন

ছাত্রদল নেতা শাকিল ইসলাম হত্যা মামলার সন্দেহভাজন ব্যক্তি ইরফান নিয়াজ ফেসবুক লাইভে এসে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন। একই সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করার দাবি জানিয়েছেন। সোমবার রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে অজ্ঞাত স্থান থেকে লাইভে এসে ৭ মিনিট ৭ সেকেন্ড বক্তব্য দেন ইফরান নিয়াজ। তিনি নূরুজ্জামানের অনুসারী হিসেবে পরিচিত।
এর আগে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা জানান, হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত হয়েছে বলে সন্দেহ করা মোটরসাইকেলটি গুরুদাসপুর উপজেলার নয়াবাজার থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। নিবন্ধনহীন মোটরসাইকেলটি ইরফান নিয়াজের বলে ধারণা করছে পুলিশ। নিহত শাকিলের বাবা রবিউল করিম তাঁর ছেলে হত্যাকাণ্ডে ইরফান নিয়াজ জড়িত বলে গণমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন।
সূত্রমতে, ২৭ অক্টোবর রাত দশটার দিকে এমপির ছেলে নুরুজ্জামান মিন্টুকে হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে আটক করে পরদিন গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে তোলা হয়। প্রথম দফায় আদালত তিন দিনের রিমান্ড দেন। মিন্টু রিমান্ডে থাকাকালীন দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আল আমিন ও আনিসুর রহমান নামের দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়। উদ্ধার করা হয় মোটরসাইকেলটিও। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে সাতজনের পাসপোর্টের কার্যক্রম প্রক্রিয়া বন্ধ রাখা হয়েছে। সন্দেহভাজনেরা যাতে দেশত্যাগ করতে না পারেন, সে জন্য দেশের সব স্থল ও বিমানবন্দরে নিষেধাজ্ঞা ছেড়ে চিঠি পাঠিয়েছে ডিবি। ওই সব ব্যক্তিরা অবৈধ পথেও দেশত্যাগের চেষ্টা চালাচ্ছেন। তাদের গ্রেপ্তারে পুলিশের বিশেষ টিম কাজ করছে।
এদিকে ‘মিন্টু হাসান গুরুদাসপুর’ নামের তাঁর ফেসবুক আইডি এখনো সক্রিয় রয়েছে। বর্তমানে মিন্টুর ওই আইডি তাঁর স্ত্রী চালাচ্ছেন বলে জানিয়েছে ডিবি পুলিশ।
জেলা গোয়েন্দা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. নজরুল ইসলাম বলেন, ‘ছাত্রদল নেতা শাকিল হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তার আসামি মিন্টুকে অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দ্বিতীয় দফায় ২ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। রহস্য উদ্ঘাটনে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে।’
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানা গেছে, গত ১৪ অক্টোবর রাত ৯টার দিকে গুরুদাসপুর পৌর শহরের চাঁচকৈড় বাজারপাড়া এলাকায় হেলমেট পরা সশস্ত্র দুর্বৃত্তদের হামলার শিকার হন পৌর ছাত্রদলের সদস্যসচিব শাকিল ইসলাম (৩২)। ওই ঘটনায় ১৯ অক্টোবর থানায় মামলা দায়ের করেন শাকিলের বাবা রবিউল ইসলাম।
হাসপাতালে ১২ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে শাকিলের মৃত্যু হয়। মঙ্গলবার শাকিলের জানাজা শেষে হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহ আমেরিকা প্রবাসী রাসেলের শপিংমলে ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়।

