সিম তুলতে গিয়ে জানলেন নিজের এনআইডিতে ১৮ সিম, বিপাকে প্রবাসী

মালেকের দাবি, রবির দুটি সিম ইতিমধ্যে বাতিল করা হয়েছে। বাংলালিংকের চারটি সিম বাতিল করতে তাকে ঢাকায় যেতে বলা হয়েছে। অন্যদিকে, টেলিটকের নামে নিবন্ধিত ১২টি সিমের মধ্যে তিনটি বাতিল করা হয়েছে। বাকি সিমগুলো ধাপে ধাপে বাতিল করার কথা জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
‘আমি তো একটা সিমও তুলিনি, নিবন্ধন করল কারা?’
আব্দুল মালেক বলেন, ‘আমি তো একটা সিমও তুলিনি। এই সিমগুলো তুলল কারা, কী ভালো-মন্দ কাজে ব্যবহার হচ্ছে, কিছুই জানি না। কষ্ট করে কয়েকটি সিম বাতিল করিয়েছি। কিন্তু ভবিষ্যতে আবার যদি ওই চক্র সিম তুলে নেয়, তখন আমি কী করব?’
তিনি আরও বলেন, জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরির সময় শুধু নির্বাচন অফিসেই আঙুলের ছাপ দিয়েছেন। এর বাইরে অন্য কোথাও আঙুলের ছাপ দেননি বলে দাবি তার। তাহলে তার পরিচয়পত্রের তথ্য কিংবা আঙুলের ছাপ ব্যবহার করে কীভাবে এতগুলো সিম নিবন্ধন করা হলো, সেই প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
এ ঘটনায় থানায় যোগাযোগ করলে তাকে নির্বাচন অফিসে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয় বলে জানান মালেক। তার আশঙ্কা, এসব সিম ব্যবহার করে কেউ অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড ঘটালে হয়রানির শিকার হতে পারেন তিনি। মালেকের দাবি, শুধু সিমগুলো বাতিল করাই যথেষ্ট নয়; ভবিষ্যতে যেন তার পরিচয়পত্র ব্যবহার করে নতুন করে কোনো সিম নিবন্ধন করা না যায়, সে জন্যও কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।

মতলব উত্তর উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি শামসুজ্জামান ডলার বলেন, একজন নাগরিকের অজান্তে তার এনআইডির বিপরীতে ১৮টি সিম নিবন্ধনের অভিযোগ অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এটি ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা ও সিম নিবন্ধন ব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে।
দায় এড়াতে চায় সংশ্লিষ্টরা
এ বিষয়ে মতলব উত্তর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা সুলতানা এলিন বলেন, ‘আমার চাকরিজীবনে এ ধরনের ঘটনা প্রথম দেখলাম। একজন ব্যক্তির আঙুলের ছাপ ছাড়া কীভাবে তার জাতীয় পরিচয়পত্রের বিপরীতে এতগুলো সিম নিবন্ধন করা সম্ভব, তা আমার বোধগম্য নয়। তবে আমাদের অফিসের সার্ভার হ্যাক করা সম্ভব নয় বলে আমি মনে করি। এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া গেলে বিষয়টি যাচাই করে দেখা প্রয়োজন।’
চাঁদপুর জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা জিয়াউর রহমান খলিফা বলেন, ‘এটার দায়ভার আমাদের নয়। এই দায়ভার নিতে হবে সিম কোম্পানিগুলোকে।’
চাঁদপুর বিটিসিএলের সহকারী ব্যবস্থাপক হাসিব আহম্মেদ বলেন, ‘এসব বিষয় নিয়ে আমরা কাজ করি না। এটি বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) বিষয়।’

