শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬
চুয়াডাঙ্গা ডট নেট
শিরোনাম
বিজ্ঞাপন

মরক্কো ফাইনাল পেলে ২০৩০ বিশ্বকাপ থেকে সরে দাঁড়ানোর হুঁশিয়ারি স্পেনের বিরোধী নেতার

নিজস্ব প্রতিবেদক০৬ নভেম্বর ২০২৬, ১১:৪৫ পিএম
মরক্কো ফাইনাল পেলে ২০৩০ বিশ্বকাপ থেকে সরে দাঁড়ানোর হুঁশিয়ারি স্পেনের বিরোধী নেতার

২০৩০ ফুটবল বিশ্বকাপের আয়োজক তিন দেশ স্পেন, পর্তুগাল ও মরক্কো। তবে আসরের ফাইনাল কোথায় হবে, তা নিয়ে এখনো সিদ্ধান্ত নেয়নি ফিফা। এর মধ্যেই বিষয়টি ঘিরে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে স্পেনে।

দেশটির প্রধান বিরোধী দলের নেতা আলবার্তো নুনিয়েস ফেইহো হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, ফাইনাল আয়োজনের দায়িত্ব মরক্কোকে দেওয়া হলে বিশ্বকাপের সহ-আয়োজক হিসেবে স্পেনের অংশগ্রহণ প্রত্যাহারের পক্ষে অবস্থান নেবেন তিনি। আগামী নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী হতে পারলে সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেবেন বলেও জানিয়েছেন ফেইহো।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) রাতে স্প্যানিশ টেলিভিশনের জনপ্রিয় ফুটবল অনুষ্ঠান ‘এল চিরিঙ্গিতো’তে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এমন মন্তব্য করেন দেশটির রক্ষণশীল পিপলস পার্টির নেতা। শুক্রবার তার বক্তব্য নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্সসহ স্পেনের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম।

ফেইহোর মতে, বিশ্বকাপের ফাইনাল স্পেনেই হওয়া উচিত। এর বিপরীত কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে আয়োজক হিসেবে দেশটির থাকা উচিত নয়।

তিনি বলেন, ‘বিশ্বকাপের ফাইনাল যেখানে হওয়া ন্যায্য, যথাযথ এবং প্রশ্নাতীত, সেখানেই হওয়া উচিত। আর সেই জায়গা স্পেন।’

নিজের অবস্থানের পক্ষে কয়েকটি যুক্তিও তুলে ধরেন ফেইহো। তার দাবি, বড় আন্তর্জাতিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা সফলভাবে আয়োজনের সামর্থ্য আগেই প্রমাণ করেছে স্পেন। তা ছাড়া বিশ্বকাপ আয়োজনের যৌথ পরিকল্পনা প্রথমে স্পেন ও পর্তুগাল নিয়েছিল। পরে সেই উদ্যোগে যুক্ত হয় মরক্কো।

স্পেনের ফুটবলীয় সাফল্যের কথাও উল্লেখ করেন বিরোধী নেতা। তার মতে, পুরুষ ও নারী উভয় বিভাগে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ায় ফাইনাল আয়োজনের দাবিদার স্পেনই।

এরপর আরও কঠোর অবস্থান জানান ফেইহো। তিনি বলেন, ‘স্পেনের বিশ্বকাপ ফাইনাল আয়োজন করা উচিত। আর সেটি যদি না হয়, আমার মতে, বিশ্বকাপ আয়োজনেও আমাদের অংশ নেওয়া উচিত নয়।’

সাক্ষাৎকারে তাকে সরাসরি প্রশ্ন করা হয়, আগামী ২৯ নভেম্বরের সাধারণ নির্বাচনের পর প্রধানমন্ত্রী হলে এবং মরক্কো ফাইনালের দায়িত্ব পেলে স্পেনকে বিশ্বকাপ আয়োজন থেকে সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নেবেন কি না।

জবাবে ফেইহো বলেন, ‘হ্যাঁ। উত্তর হচ্ছে হ্যাঁ।’

তবে তার এই বক্তব্য স্পেন সরকারের আনুষ্ঠানিক অবস্থান নয়। বর্তমানে দেশটির প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ। ফেইহো প্রধান বিরোধী দল পিপলস পার্টির নেতা এবং আসন্ন নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন।

ফলে তার মন্তব্যকে বিশ্বকাপের আয়োজকত্ব প্রত্যাহারের কোনো সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এটি নির্বাচনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারলে অনুসরণের পক্ষে থাকা একটি শর্তসাপেক্ষ রাজনৈতিক অবস্থান।

অন্যদিকে বর্তমান স্পেন সরকারও বিশ্বকাপের ফাইনাল নিজেদের দেশে আয়োজনের পক্ষে কাজ করছে। গত আগস্টে প্রধানমন্ত্রী সানচেজ জানিয়েছিলেন, ফাইনাল স্পেনে আয়োজনের জন্য সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে।

স্পেন জাতীয় দলের কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তেও শুক্রবার জানিয়েছেন, ফাইনাল স্পেনেই হওয়া উচিত বলে মনে করেন তিনি। দেশটির ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি রাফায়েল লুজানও আগে একই দাবি তুলেছেন। তবে বিশ্বকাপের আয়োজকত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর বিষয়ে বর্তমান সরকার কোনো সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেনি।

মূলত বিশ্বকাপের ফাইনাল আয়োজনের দৌড়ে স্পেনের সঙ্গে মরক্কোর প্রতিদ্বন্দ্বিতা চলছে। মাদ্রিদের সান্তিয়াগো বার্নাব্যু এবং বার্সেলোনার সংস্কারকৃত ক্যাম্প ন্যু স্পেনের সম্ভাব্য ভেন্যুগুলোর মধ্যে রয়েছে।

অন্যদিকে কাসাব্লাঙ্কার কাছে বেনস্লিমানে প্রায় ১ লাখ ১৫ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতার কিং হাসান দ্বিতীয় স্টেডিয়াম নির্মাণ করছে মরক্কো। নির্মাণকাজ শেষ হলে এটি বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ফুটবল স্টেডিয়াম হবে। বিশ্বকাপের ফাইনাল আয়োজনের সম্ভাব্য ভেন্যু হিসেবেও প্রকল্পটিকে তুলে ধরছে দেশটি।

গত সেপ্টেম্বরে মরক্কোর ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি ফৌজি লেকজা দাবি করেছিলেন, ২০৩০ বিশ্বকাপের ফাইনাল তার দেশেই হবে। এমনকি বেনস্লিমানের স্টেডিয়ামের নামও উল্লেখ করেছিলেন তিনি।

তবে তার সেই বক্তব্যের পরপরই বিষয়টি পরিষ্কার করে ফিফা। বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি জানায়, ফাইনালের ভেন্যু নিয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। যথাসময়ে সেটি নির্ধারণ করা হবে।

এদিকে ২০৩০ বিশ্বকাপের সম্ভাব্য শহর ও স্টেডিয়াম পরিদর্শনের কার্যক্রমও শুরু করেছে ফিফা। গত ২৭ অক্টোবর সংস্থাটি জানায়, নভেম্বর ও ডিসেম্বরে স্পেন, পর্তুগাল এবং মরক্কোর বিভিন্ন ভেন্যু পরিদর্শন করবে প্রতিনিধিদল।

পরিদর্শনের সময় স্টেডিয়ামের প্রস্তুতি, পরিবহনব্যবস্থা, আবাসন, নিরাপত্তা ও অন্যান্য অবকাঠামো মূল্যায়ন করা হবে। আয়োজক শহর ও ভেন্যু চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়ায় এই পরিদর্শন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

২০৩০ বিশ্বকাপ বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, সেবার ফুটবল বিশ্বকাপ আয়োজনের ১০০ বছর পূর্ণ হবে। ১৯৩০ সালে উরুগুয়েতে অনুষ্ঠিত হয়েছিল প্রথম বিশ্বকাপ।

শতবর্ষ উদ্‌যাপন উপলক্ষে উরুগুয়ে, আর্জেন্টিনা ও প্যারাগুয়েতে একটি করে ম্যাচ আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ফিফা। আসরের বাকি ১০১টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে স্পেন, পর্তুগাল ও মরক্কোয়। সব মিলিয়ে তিন মহাদেশের ছয়টি দেশে অনুষ্ঠিত হবে বিশ্বকাপের ১০৪টি ম্যাচ।

২০২৪ সালের ডিসেম্বরে ফিফার বিশেষ কংগ্রেসে স্পেন, পর্তুগাল ও মরক্কোকে যৌথ আয়োজক হিসেবে আনুষ্ঠানিক অনুমোদন দেওয়া হয়। তবে কোন দেশে ফাইনাল হবে, সে সিদ্ধান্ত তখন নেওয়া হয়নি।

খেলাধুলা থেকে আরও পড়ুন
আরও সংবাদ লোড হচ্ছে...