এক ম্যাচেই তিন তারকার চোট, আক্রমণভাগ নিয়ে মহাবিপদে বায়ার্ন

বরুসিয়া ডর্টমুন্ডের বিপক্ষে জয় হাতছাড়া হওয়ার হতাশা কাটতে না কাটতেই আরও বড় দুঃসংবাদ পেল বায়ার্ন মিউনিখ। জার্মান ক্লাসিকোয় এক ম্যাচেই চোটে পড়েছেন দলের আক্রমণভাগের তিন গুরুত্বপূর্ণ ফুটবলার। ইসমায়েল সাইবারি ও সার্জ নাব্রির ছিটকে যাওয়া নিশ্চিত হয়েছে। অনিশ্চয়তা রয়েছে মাইকেল ওলিসেকে নিয়েও। আগে থেকেই চোটে মাঠের বাইরে জামাল মুসিয়ালা ও লুইস দিয়াজ। এর সঙ্গে অসুস্থতার কারণে ডাগআউটে নেই প্রধান কোচ ভিনসেন্ট কোম্পানি। সব মিলিয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে আতলেটিকো মাদ্রিদের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে বড় সংকটে পড়েছে জার্মান জায়ান্টরা।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) মিউনিখের আলিয়াঞ্জ অ্যারেনায় বুন্দেসলিগার ম্যাচে ডর্টমুন্ডের সঙ্গে ২-২ গোলে ড্র করে বায়ার্ন। হ্যারি কেইনের পেনাল্টি মিস ও শেষ মুহূর্তে গোল হজম করে জয় হাতছাড়া করার পাশাপাশি একের পর এক খেলোয়াড় হারাতে হয়েছে স্বাগতিকদের। ম্যাচ চলাকালে সাইবারি, নাব্রি ও ওলিসে চোট পেয়ে মাঠ ছাড়েন। তাদের মধ্যে দুজনের চোটের বিস্তারিত রোববার (১ নভেম্বর) নিশ্চিত করেছে বায়ার্ন কর্তৃপক্ষ।
সবচেয়ে বড় ধাক্কা এসেছে মরক্কোর মিডফিল্ডার সাইবারির চোটে। ম্যাচের প্রথমার্ধে ডর্টমুন্ড গোলরক্ষক গ্রেগর কোবেলের সঙ্গে বল দখলের লড়াইয়ে ডান গোড়ালিতে আঘাত পান তিনি। মাঠে চিকিৎসা দেওয়ার পরও খেলতে পারেননি। ২৯তম মিনিটে তাকে তুলে নিয়ে নাথানিয়েল ব্রাউনকে মাঠে নামানো হয়।
ম্যাচ শেষে ক্রাচে ভর দিয়ে স্টেডিয়াম ছাড়েন ২৫ বছর বয়সী এই ফুটবলার। প্রাথমিকভাবেই তার চোট গুরুতর বলে আশঙ্কা করেছিলেন বায়ার্নের কর্মকর্তারা। রোববার পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর সেই আশঙ্কাই সত্যি হয়েছে।
এক বিবৃতিতে বায়ার্ন জানিয়েছে, সাইবারির ডান গোড়ালির সিন্ডেসমোসিস লিগামেন্ট ছিঁড়ে গেছে। ইতিমধ্যে সফল অস্ত্রোপচারও হয়েছে তার। তবে কত দিন মাঠের বাইরে থাকতে হবে, তা আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়নি ক্লাবটি।
জার্মান সংবাদমাধ্যম বিল্ডের দাবি, অন্তত তিন মাসের জন্য ছিটকে যেতে পারেন সাইবারি। সেই হিসাবে নতুন বছরের শুরুতেও তাকে পাওয়ার সম্ভাবনা কম। যদিও তার ফেরার নির্দিষ্ট সময় এখনো নিশ্চিত নয়।
সাইবারিকে হারানোর ধাক্কা সামলে ওঠার আগেই আরেকটি দুঃসংবাদ পায় বায়ার্ন। দুই মিনিটের ব্যবধানে চোট নিয়ে মাঠ ছাড়েন সার্জ নাব্রিও। প্রতিপক্ষের কোনো খেলোয়াড়ের সংস্পর্শ ছাড়াই মাঠে বসে পড়েন জার্মান ফরোয়ার্ড। পরে তার পরিবর্তে মাঠে নামানো হয় ইয়োসিপ স্তানিসিচকে।
বায়ার্নের চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, নাব্রির বাঁ ঊরুর পেছনের পেশিতে চোট লেগেছে। তার ক্ষেত্রেও মাঠে ফেরার নির্দিষ্ট সময় ঘোষণা করা হয়নি। তবে জার্মান সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, চার থেকে ছয় সপ্তাহ মাঠের বাইরে থাকতে হতে পারে ৩১ বছর বয়সী এই ফুটবলারকে।
দুই ফুটবলারের চোট নিশ্চিত হলেও মাইকেল ওলিসেকে নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটেনি। ডর্টমুন্ডের বিপক্ষে ম্যাচের ৮৪তম মিনিটে ডান হাঁটুতে অস্বস্তি নিয়ে মাঠ ছাড়েন ফরাসি এই তারকা। ম্যাচ শেষে তাকেও খুঁড়িয়ে হাঁটতে দেখা যায়।
রোববার সাইবারি ও নাব্রির চোট নিয়ে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দিলেও ওলিসের বিষয়ে কোনো তথ্য জানায়নি বায়ার্ন। ফলে মঙ্গলবার আতলেটিকো মাদ্রিদের বিপক্ষে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ম্যাচে তিনি খেলতে পারবেন কি না, তা এখনো অনিশ্চিত।
তবে ওলিসেকে নিয়ে কিছুটা আশাবাদী ক্লাবের ক্রীড়া পরিচালক ম্যাক্স এবার্ল। ডর্টমুন্ড ম্যাচ শেষে তিনি জানিয়েছিলেন, প্রাথমিকভাবে ওলিসের চোট ততটা গুরুতর মনে হচ্ছে না। যদিও ম্যাচের পরপরই চোটের প্রকৃত অবস্থা বোঝা কঠিন বলেও সতর্ক করেছিলেন তিনি।
বায়ার্নের বিপদ আরও বেড়েছে আগে থেকে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকজন ফুটবলারের অনুপস্থিতিতে। চোটের কারণে ডর্টমুন্ডের বিপক্ষে খেলতে পারেননি জামাল মুসিয়ালা ও লুইস দিয়াজ। তাদের অনুপস্থিতিতেই নতুন করে তিনজন চোট পাওয়ায় কার্যত ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে বায়ার্নের আক্রমণভাগ।
জার্মান সংবাদমাধ্যম বিল্ডের হিসাবে, ওলিসেও খেলতে না পারলে বায়ার্নের মূল দলের নিয়মিত আক্রমণভাগের খেলোয়াড়দের মধ্যে পুরোপুরি ফিট থাকবেন কেবল হ্যারি কেইন ও তরুণ লেনার্ট কার্ল। এতে আতলেটিকোর বিপক্ষে একাদশ সাজাতে বড় সমস্যায় পড়তে পারে দলটি।
এমন পরিস্থিতিতে বিকল্প পরিকল্পনাও ভাবতে হচ্ছে বায়ার্নের কোচিং স্টাফকে। প্রয়োজনে আলফোনসো ডেভিসকে রক্ষণভাগ থেকে তুলে আক্রমণের বাঁ প্রান্তে খেলানো হতে পারে। মাঝমাঠের টম বিশফ কিংবা নাথানিয়েল ব্রাউনকেও তুলনামূলক আক্রমণাত্মক ভূমিকায় ব্যবহারের সম্ভাবনা রয়েছে।

