মিরপুরে বাংলাদেশকে স্পিনে হারানোর রহস্য জানালেন স্যামি

ঘরের মাঠে স্পিন বোলিংকে বরাবরই বড় শক্তি হিসেবে বিবেচনা করে বাংলাদেশ। অথচ মিরপুরে সেই স্পিনেই স্বাগতিকদের হারিয়ে দিয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। বাংলাদেশের স্পিনাররা যেখানে দুই ইনিংস মিলিয়ে নিয়েছেন মাত্র ৮ উইকেট, সেখানে ক্যারিবীয় স্পিনারদের শিকার ১৬টি। শুধু বোলিং নয়, স্পিনের বিপক্ষে ব্যাটিংয়েও বাংলাদেশকে ছাড়িয়ে যাওয়ার দাবি করেছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রধান কোচ ড্যারেন স্যামি। তার মতে, এই দুই বিভাগে শ্রেষ্ঠত্বই মিরপুর টেস্টে ক্যারিবীয়দের জয়ের অন্যতম বড় কারণ।
গত শনিবার (৩১ অক্টোবর) মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সিরিজের প্রথম টেস্টে বাংলাদেশকে ৮ উইকেটে হারায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। দুই ম্যাচের সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যাওয়ার পর বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সিলেটে শুরু হবে দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট।
সোমবার (২ নভেম্বর) আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রতিবেদনে ক্যারিবীয় কোচের বক্তব্য তুলে ধরা হয়। স্যামি বলেন, ‘আমার মনে হয়, আমাদের স্পিনাররা ওদের স্পিনারদের চেয়ে ভালো বোলিং করেছে। আমাদের ব্যাটাররাও ওদের তুলনায় স্পিন ভালো সামলেছে।’
মিরপুর টেস্টের পরিসংখ্যানও স্যামির বক্তব্যের পক্ষে কথা বলছে। প্রথম ইনিংসে ২৭২ রান করা বাংলাদেশ দ্বিতীয় ইনিংসে গুটিয়ে যায় মাত্র ১৪২ রানে। দুই ইনিংস মিলিয়ে বাংলাদেশের ২০ উইকেটের মধ্যে ১৬টিই নিয়েছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের স্পিনাররা।
সবচেয়ে সফল ছিলেন বাঁহাতি স্পিনার জোমেল ওয়ারিক্যান। প্রথম ইনিংসে ৫ ও দ্বিতীয় ইনিংসে ৪ উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরা হন তিনি। অন্যদিকে দ্বিতীয় ইনিংসে মাত্র ৩৬ রানে ৫ উইকেট নিয়ে বাংলাদেশের ব্যাটিংক্রম ধসিয়ে দেন অধিনায়ক রোস্টন চেজ। প্রথম ইনিংসে আরও ২ উইকেট নেন স্পিনার জশুয়া বিশপ।
বিপরীতে বাংলাদেশের স্পিনাররা ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রথম ইনিংসে ৮ উইকেট নিলেও দ্বিতীয় ইনিংসে ছিলেন নিষ্প্রভ। ১৭০ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নামা ক্যারিবীয়দের বিপক্ষে কোনো উইকেটই নিতে পারেননি তাইজুল ইসলাম, মেহেদী হাসান মিরাজ কিংবা নাঈম হাসান। সফরকারীদের দুটি উইকেট নেন পেসার শরিফুল ইসলাম ও হাসান মাহমুদ।
বিশেষ করে চতুর্থ ইনিংসে দুর্দান্ত ব্যাটিং করেন ব্র্যান্ডন কিং। ১১৫ বলে অপরাজিত ৮১ রান করে দলের জয় নিশ্চিত করেন তিনি। জন ক্যাম্পবেল করেন ৪৯ রান। তাদের ব্যাটিংয়ে স্পিন সহায়ক উইকেটেও বাংলাদেশের বোলারদের খুব একটা সুযোগ দেয়নি ক্যারিবীয়রা।
স্যামির মতে, বাংলাদেশ সফরের আগে ভারতে বিশেষ প্রস্তুতিই মিরপুরে তাদের সাফল্যের বড় কারণ। চেন্নাইয়ের সুপার কিংস একাডেমি ও শ্রী রামচন্দ্র সেন্টার ফর স্পোর্টস সায়েন্সে দুই সপ্তাহের প্রস্তুতি ক্যাম্প করেছিলেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের টেস্ট দলের ক্রিকেটাররা। সেখানে স্পিনের বিপক্ষে ব্যাটিংয়ের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।

এই প্রস্তুতির জন্য ক্রিকেট ওয়েস্ট ইন্ডিজকে কৃতিত্ব দিয়েছেন স্যামি। বিশেষ করে ব্যাটিং কোচ ফ্লয়েড রেইফার ও একাডেমির হাই-পারফরম্যান্স কোচ শ্রীরাম কৃষ্ণমূর্তির কাজের প্রশংসা করেন তিনি।
ক্যারিবীয় কোচ বলেন, ‘চেন্নাইয়ে অনুশীলনের সুযোগ করে দেওয়ায় ক্রিকেট ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ধন্যবাদ। ফ্লয়েড ও তার সহযোগীরা ব্যাটারদের এই কন্ডিশনের জন্য প্রস্তুত করতে যে কাজ করেছেন, বাংলাদেশে স্পিনের বিপক্ষে ব্যাটিংয়ে আমরা তার ফল পেয়েছি।’
তবে মিরপুরে বড় জয় পেলেও সিলেটে বাংলাদেশকে হালকাভাবে নিচ্ছেন না স্যামি। স্বাগতিক দলের প্রধান কোচ ফিল সিমন্সকে ভালোভাবেই চেনেন তিনি। তাই দ্বিতীয় টেস্টে বাংলাদেশ যে ঘুরে দাঁড়ানোর সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে, সে বিষয়ে সতর্ক ক্যারিবীয় কোচ।

