চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে অবৈধভাবে মজুদ করে রাখা ৪০৩ বস্তা ডিএপি সার জব্দ করেছে উপজেলা প্রশাসন। জেলা এনএসআই, চুয়াডাঙ্গার গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে জীবননগর পৌরসভার দত্তনগর সড়কের মেসার্স শান্তনা এন্টারপ্রাইজে অভিযান চালিয়ে এসব সার জব্দ করা হয়।
অভিযান পরিচালনার সময় প্রতিষ্ঠানের মালিক মো. আবুল কালাম আজাদ ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।
শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে এ অভিযান শুরু হয়। জীবননগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুমাইয়া সুলতানা এ্যানির নেতৃত্বে উপজেলা প্রশাসন ও কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা এতে অংশ নেন। অভিযানে জীবননগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সোলায়মান শেখের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল সহযোগিতা করে।
অভিযানকালে প্রতিষ্ঠানের গুদাম ও সংশ্লিষ্ট স্থানে তল্লাশি চালিয়ে ৪০৩ বস্তা ডিএপি সার পাওয়া যায়। পরে এসব সার জব্দ করা হয়। জব্দকৃত সার জীবননগর থানায় নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করা হয়।
উপজেলা প্রশাসন ও অভিযান সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মেসার্স শান্তনা এন্টারপ্রাইজের মালিক মো. আবুল কালাম আজাদ জীবননগর উপজেলার কোর্টপাড়ার বাসিন্দা। তাঁর বাবার নাম ফকির মুহাম্মদ। প্রতিষ্ঠানটির সার বিক্রির বৈধ লাইসেন্স না থাকার পরও সেখানে সরকারি ডিএপি সার মজুদ ও বিক্রি করা হচ্ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।
জেলা এনএসআই, চুয়াডাঙ্গার গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনের নজরে আসে। পরে প্রশাসন, কৃষি বিভাগ, পুলিশ ও এনএসআইয়ের সমন্বয়ে অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযানে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. পাভেল রানাসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এ ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনে নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে অভিযান সংশ্লিষ্ট সূত্র।
উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, সরকারি সার নির্ধারিত নিয়মের বাইরে মজুদ, কালোবাজারি বা নিয়মবহির্ভূতভাবে বিক্রির সুযোগ নেই। সরকারি সার নিয়ে অনিয়মের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী অভিযান অব্যাহত থাকবে।


