লোগো
Advertisement

ইরানের শান্তি প্রস্তাব নাকচ, চুক্তিতে আগ্রহী তেহরান: ট্রাম্প

নিজস্ব প্রতিবেদক ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:১৬ এএম
Advertisement

ইরান বর্তমানে কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছে এবং সে কারণেই দেশটি দ্রুত যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি চুক্তিতে যেতে চাইছে বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে তেহরানের দেওয়া প্রস্তাব তিনি প্রত্যাখ্যান করেছেন বলেও স্পষ্ট করেছেন।

শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) হোয়াইট হাউসের সাউথ লনে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প বলেন, ইরান ‘খুব শোচনীয়ভাবে হেরে যাচ্ছে’। দেশটি একটি চুক্তিতে যেতে আগ্রহী এবং তিনিও চুক্তি করতে পছন্দ করেন বলে জানান তিনি।

এর আগে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছিলেন, নির্দিষ্ট কিছু শর্ত পূরণ করা হলে সাত দিনের মধ্যেই হরমুজ প্রণালী খুলে দিয়ে সেখানে স্বাভাবিক নৌ চলাচল পুনরায় চালু করা সম্ভব।

তেহরানের প্রস্তাব অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের ওপর আরোপ করা নৌ অবরোধ ও তেল বিক্রির নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করতে হবে এবং যুদ্ধবিরতি মেনে চলতে হবে। এসব শর্ত বাস্তবায়ন হলে হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার কথা জানিয়েছে ইরান।

আরাগচির ভাষ্য, প্রাথমিক প্রয়োজনীয় পদক্ষেপগুলো সম্পন্ন করতে চার থেকে পাঁচ দিন সময় লাগবে। এরপর ষষ্ঠ দিনে হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়া এবং সপ্তম দিনে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরুর পরিকল্পনা রয়েছে।

তবে ইরানের এই প্রস্তাবের প্রতি ট্রাম্পের সর্বশেষ বক্তব্যে ইতিবাচক মনোভাবের ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি। বরং তেহরান বর্তমান পরিস্থিতির চাপে পড়েই দ্রুত সমঝোতায় যেতে চাইছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

এর আগে ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, ট্রাম্প ইরানের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন। একই প্রতিবেদনে নভেম্বরের মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানের বিরুদ্ধে ফের হামলা চালানোর পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা বলা হয়েছিল। তবে ওই পরিকল্পনার বিষয়ে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়ার মতো তথ্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।

এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হরমুজ প্রণালীর একটি ছবি প্রকাশ করে সেটিকে ব্যঙ্গাত্মকভাবে ‘ট্রাম্প প্রণালী’ নামে উল্লেখ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

অন্যদিকে মার্কিন প্রশাসনের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে আলোচনা এখনও ইতিবাচক ও গঠনমূলকভাবে চলছে। তবে কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে যুক্তরাষ্ট্র তাড়াহুড়া করছে না। রয়টার্সও মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা অব্যাহত থাকার কথা জানিয়েছে।

ইরানের প্রস্তাবটি যুদ্ধের অবসানের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে স্থিতিশীলতা ফেরানোর ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে জ্বালানির দাম কমানোর সম্ভাবনাও এ আলোচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে তাদের কেউ কেউ মনে করছেন। তবে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বক্তব্যে আপাতত তেহরানের প্রস্তাব গ্রহণের কোনো স্পষ্ট ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি।

ইরানের অভ্যন্তরেও কূটনৈতিক উদ্যোগ নিয়ে মতপার্থক্যের আভাস মিলেছে। কট্টরপন্থি কয়েকজন রাজনীতিক সরকারের উদ্যোগের সমালোচনা করেছেন। তবে প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, দেশের পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে সিদ্ধান্ত বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ের মাধ্যমে যৌথভাবে নেওয়া হয়।

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালী। দীর্ঘ সময় এ নৌপথ বন্ধ থাকলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের পাশাপাশি সমুদ্রপথের বাণিজ্যেও বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে। এরই মধ্যে প্রণালীকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের উত্তেজনা বৈশ্বিক বাজারে অনিশ্চয়তা বাড়িয়েছে।

আরও সংবাদ লোড হচ্ছে...