লোগো
Advertisement

জাতিসংঘে জাইমা রহমানের নতুন দায়িত্ব, কীভাবে পেলেন এই পদ এবং কী করবেন তিনি?

নিজস্ব প্রতিবেদক ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:১২ এএম
Advertisement

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতির কার্যালয়ে ‘লিগ্যাল অফিসার’ হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমান। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতির কার্যালয়ের (Office of the President of the General Assembly) ওয়েবসাইটে প্রকাশিত কর্মকর্তাদের তালিকায় তার নামের পাশে ‘Legal Officer’ পদবি উল্লেখ করা হয়েছে।

জাইমা রহমান দায়িত্ব পালন করবেন ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি ও বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের কার্যালয়ের অধীনে। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি হিসেবে খলিলুর রহমান ২০২৬ সালের ২ জুন নির্বাচিত হন এবং ৮ সেপ্টেম্বর অধিবেশনের উদ্বোধনের সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

জাইমার এই দায়িত্ব পাওয়ার খবর প্রকাশের পর থেকেই বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে প্রশ্ন উঠেছে—সাধারণ পরিষদের সভাপতির কার্যালয়ে একজন লিগ্যাল অফিসারের প্রয়োজন কেন, তার কাজ কী এবং জাইমা রহমানকে কী ধরনের যোগ্যতার ভিত্তিতে এই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে?

জাতিসংঘের সভাপতির কার্যালয়ের তথ্য ও সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য বলছে, পদটি সাধারণ পরিষদের সভাপতির কার্যালয়ের একটি দায়িত্ব। এটি জাতিসংঘের মূল আইন বিভাগের ‘লিগ্যাল অফিসার’ পদ বা সাধারণ পরিষদের ষষ্ঠ কমিটির আইনবিষয়ক কাঠামোর সঙ্গে এক বিষয় নয়। সভাপতির কার্যালয়ে আইন ও নীতিগত বিষয়ে সভাপতিকে সহায়তা করাই এ দায়িত্বের মূল বিষয়।

সাধারণ পরিষদের সভাপতির কার্যালয় আসলে কী?

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ হলো সংস্থাটির প্রধান নীতিনির্ধারণী ও প্রতিনিধিত্বশীল অঙ্গ। জাতিসংঘের ১৯৩টি সদস্যরাষ্ট্রই সাধারণ পরিষদে প্রতিনিধিত্ব করে এবং প্রত্যেক দেশের একটি করে ভোট রয়েছে। সাধারণ পরিষদ পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনের পাশাপাশি ছয়টি প্রধান কমিটির মাধ্যমে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বিষয় নিয়ে কাজ করে।

এর মধ্যে সাধারণ পরিষদের সভাপতি অধিবেশনের বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন, সদস্যদেশগুলোর আলোচনায় নেতৃত্ব দেন, বিভিন্ন আলোচনা ও পরামর্শ প্রক্রিয়া পরিচালনা করেন এবং সাধারণ পরিষদের প্রতিনিধিত্ব করেন।

এই বিশাল পরিসরের কাজ একা পরিচালনা করা সভাপতির পক্ষে সম্ভব নয়। সে কারণে সভাপতির কার্যালয়ে বিভিন্ন দেশ ও বিভিন্ন পেশাগত দক্ষতার ব্যক্তিদের নিয়ে একটি টিম কাজ করে।

৮১তম অধিবেশনের সভাপতির কার্যালয়ে বর্তমানে ২৯টি দেশের ৪০ জন বিভিন্ন নির্বাহী ও পরামর্শমূলক দায়িত্বে রয়েছেন। বাংলাদেশি নাগরিকদের মধ্যেও কয়েকজনকে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তাদের তালিকায় এবার যুক্ত হয়েছেন জাইমা রহমান।

লিগ্যাল অফিসার হিসেবে জাইমার মূল কাজ কী?

‘লিগ্যাল অফিসার’ শব্দটি শুনলে অনেকের ধারণা হতে পারে, তিনি জাতিসংঘের পুরো আইন বিভাগের হয়ে কাজ করবেন। বিষয়টি এমন নয়।

জাইমা রহমান যে পদে রয়েছেন, সেটি সাধারণ পরিষদের সভাপতির কার্যালয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। তার মূল দায়িত্ব হবে সভাপতিকে আইন ও নীতিগত বিষয়ে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া এবং সভাপতির বিভিন্ন কার্যক্রম জাতিসংঘের নিয়ম, বিধি ও প্রতিষ্ঠিত কার্যপ্রণালির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ রাখতে সহায়তা করা।

সাধারণ পরিষদের বৈঠকে বিভিন্ন দেশ নানা ধরনের প্রস্তাব উত্থাপন করে। কোনো প্রস্তাবের ওপর সংশোধনী আসে, কোনো সদস্যরাষ্ট্র কার্যপ্রণালি নিয়ে আপত্তি তোলে, আবার কোনো কোনো বিষয়ে সভাপতির তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত বা রুলিং প্রয়োজন হতে পারে।

এসব ক্ষেত্রে জাতিসংঘের বিধি, সাধারণ পরিষদের কার্যপ্রণালি, সনদ এবং অতীতের নজির বিবেচনায় সভাপতিকে প্রয়োজনীয় আইনি পরামর্শ দেওয়ার দায়িত্ব থাকে লিগ্যাল অফিসারের।

অর্থাৎ, কোনো বিষয়ে সভাপতি কীভাবে সিদ্ধান্ত দেবেন বা কোনো প্রস্তাব কীভাবে আলোচনায় নেওয়া হবে—এসব প্রশ্নে আইনগত দিকটি যাচাই করে সভাপতিকে সহায়তা করা তার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কাজ।

‘পয়েন্ট অব অর্ডার’ উঠলে কী হবে?

সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে সদস্যদেশগুলোর প্রতিনিধিরা কোনো বিষয়ে ‘পয়েন্ট অব অর্ডার’ তুলতে পারেন। তখন সভাপতিকে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে হয়, ওই আপত্তি কার্যপ্রণালির দৃষ্টিতে গ্রহণযোগ্য কি না এবং পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে।

এ ধরনের পরিস্থিতিতে সভাপতির কাছে সংশ্লিষ্ট বিধি, নিয়ম এবং আগের নজির তুলে ধরতে পারেন লিগ্যাল অফিসার।

একইভাবে কোনো প্রস্তাবের সংশোধনী গ্রহণ করা যাবে কি না, কোনো বিষয় ভোটে নেওয়ার পদ্ধতি কী হবে কিংবা কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে কি না—এসব বিষয়েও আইনি সহায়তা প্রয়োজন হতে পারে।

ফলে লিগ্যাল অফিসারের কাজ কেবল কাগজপত্র যাচাইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে সভাপতির সিদ্ধান্ত গ্রহণের পেছনে প্রয়োজনীয় আইনগত ভিত্তি তৈরিতেও এই দায়িত্ব গুরুত্বপূর্ণ।

স্পর্শকাতর আন্তর্জাতিক ইস্যুতেও আইনি সহায়তা

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে এমন অনেক আন্তর্জাতিক ইস্যু নিয়ে আলোচনা হয়, যেগুলো রাজনৈতিক ও কূটনৈতিকভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল। যুদ্ধ, শান্তি, মানবাধিকার, আন্তর্জাতিক আইন, রাষ্ট্রগুলোর পারস্পরিক বিরোধ কিংবা বিভিন্ন অঞ্চলের সংঘাত—এ ধরনের বিষয় নিয়মিত আলোচনায় আসে।

এ ধরনের কোনো বিষয়ে সভাপতিকে সিদ্ধান্ত দিতে হলে তাকে একই সঙ্গে নিরপেক্ষতা বজায় রাখা এবং জাতিসংঘের নির্ধারিত নিয়ম অনুসরণ করতে হয়।

লিগ্যাল অফিসার এখানে সভাপতিকে সংশ্লিষ্ট নিয়ম ও আইনি কাঠামো বুঝতে সহায়তা করতে পারেন। কোনো সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে জাতিসংঘ সনদের কোন বিধান প্রযোজ্য, সাধারণ পরিষদের কার্যপ্রণালিতে কী বলা আছে বা অতীতে একই ধরনের পরিস্থিতিতে কী ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে—এসব বিষয়ও পর্যালোচনা করা হতে পারে।

এর ফলে সভাপতির সিদ্ধান্তকে প্রাসঙ্গিক বিধি ও নজিরের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ রাখার ক্ষেত্রে আইনি সহায়তা পাওয়া যায়।

প্রস্তাব ও রেজুলেশনের ক্ষেত্রেও ভূমিকা

সাধারণ পরিষদে বিভিন্ন ধরনের রেজুলেশন ও সিদ্ধান্তের খসড়া নিয়ে কাজ হয়। এসব প্রস্তাবের আইনগত ও প্রক্রিয়াগত দিকও গুরুত্বপূর্ণ।

কোনো প্রস্তাব বিদ্যমান নিয়মের সঙ্গে সাংঘর্ষিক কি না, সেটি কীভাবে উপস্থাপন করা হবে, সংশোধনী গ্রহণের ক্ষেত্রে কোনো বিধি প্রযোজ্য কি না—এসব বিষয় যাচাই করতে আইনগত দক্ষতার প্রয়োজন হয়।

কোনো প্রস্তাবের বাস্তবায়নের সঙ্গে জাতিসংঘের অন্য কোনো সংস্থা বা কমিটির এখতিয়ার জড়িত থাকলে বিষয়টিও বিবেচনায় আসতে পারে।

এ কারণে সভাপতির কার্যালয়ে একজন আইন ও নীতি বিশেষজ্ঞ থাকলে এসব বিষয়ে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়।

সভাপতির বক্তব্য তৈরিতেও সহায়তা

লিগ্যাল অফিসারের আরেকটি সম্ভাব্য গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব হলো আন্তর্জাতিক চুক্তি, আইনগত বিষয় বা নীতিগত কোনো বিষয়ে সভাপতির বক্তব্য প্রস্তুত করতে সহায়তা করা।

সভাপতি কোনো আন্তর্জাতিক আইন বা জাতিসংঘের বিধির বিষয়ে বক্তব্য দিলে সেখানে ব্যবহৃত তথ্য, ভাষা ও অবস্থান সংশ্লিষ্ট আইনি কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়া প্রয়োজন।

সেই জায়গায় লিগ্যাল অফিসার প্রয়োজনীয় আইনি তথ্য ও বিশ্লেষণ দিয়ে সহায়তা করতে পারেন।

জাইমা রহমানের শিক্ষাগত ও পেশাগত যোগ্যতা

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতির কার্যালয়ের ওয়েবসাইটে জাইমা রহমানকে ‘Barrister and legal and policy professional’ হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, যুক্তরাজ্য ও বাংলাদেশে তার পেশাগত অভিজ্ঞতা রয়েছে।

জাইমা রহমান লন্ডনের কুইন মেরি ইউনিভার্সিটি থেকে আইন বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেছেন। এরপর যুক্তরাজ্যে ব্যারিস্টারি পেশায় প্রবেশের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও যোগ্যতা অর্জন করেন। ২০২৬ সালের জুনে বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের আইনজীবী তালিকাভুক্তির প্রথম ধাপের পরীক্ষাতেও তিনি উত্তীর্ণ হন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

জাতিসংঘের সভাপতির কার্যালয়ের জীবনীতে তার পেশাগত আগ্রহ ও অভিজ্ঞতার মধ্যে আইন, নীতি, সুশাসন, অন্তর্ভুক্তিমূলক জননীতি, বিচার পাওয়ার অধিকার, শিক্ষা, লিঙ্গসমতা এবং ডিজিটাল নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ছাড়া যুক্তরাজ্য ও বাংলাদেশে আইন ও নীতিসংক্রান্ত বিভিন্ন ক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতার কথাও সেখানে তুলে ধরা হয়েছে।

নিয়োগ নিয়ে কেন এত আলোচনা?

জাইমা রহমানের পরিচয়ই এই নিয়োগকে আলোচনায় নিয়ে এসেছে। তিনি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কন্যা। ফলে জাতিসংঘের মতো আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি গুরুত্বপূর্ণ কার্যালয়ে তার দায়িত্ব পাওয়া নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

বিশেষ করে তার নিয়োগের প্রক্রিয়া, প্রয়োজনীয় যোগ্যতা এবং দায়িত্বের পরিধি নিয়ে আলোচনা হচ্ছে।

এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব কে এম নাজমুল হক বাসসকে বলেছেন, জাইমা রহমানের ক্ষেত্রে জাতিসংঘের বিদ্যমান নিয়ম ও নিয়োগপ্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে।

অন্যদিকে, সাধারণ পরিষদের সভাপতির কার্যালয় একটি নির্দিষ্ট অধিবেশনকে কেন্দ্র করে পরিচালিত হয়। ফলে এই কার্যালয়ের বিভিন্ন পদে দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের কাজও সভাপতির দায়িত্ব পালনে সহায়তা করার সঙ্গে যুক্ত।

এখানে একটি বিষয় পরিষ্কার করা প্রয়োজন—জাইমা রহমানকে জাতিসংঘের স্থায়ী কাঠামোর প্রধান আইন কর্মকর্তা বা জাতিসংঘের মূল ‘Legal Affairs’ বিভাগের কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়নি। তিনি ৮১তম অধিবেশনের সভাপতির কার্যালয়ে ‘Legal Officer’ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। জাতিসংঘের নিজস্ব ওয়েবসাইটে তার পদটি এভাবেই উল্লেখ করা হয়েছে।

সভাপতির কার্যালয়ে আরও পাঁচ বাংলাদেশি

জাইমা রহমান একমাত্র বাংলাদেশি নন, ৮১তম অধিবেশনের সভাপতির কার্যালয়ে আরও পাঁচ বাংলাদেশি বিভিন্ন দায়িত্বে রয়েছেন।

বাংলাদেশি কূটনীতিক আবদুল আলিম দায়িত্ব পালন করছেন কার্যালয়ের উপপ্রধান হিসেবে। মোয়াজ্জেম হোসেন রয়েছেন উপদেষ্টা ও প্রশাসনিক সহকারী হিসেবে।

মাফিজুল ইসলাম তথ্য, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও কৌশলগত পূর্বাভাসবিষয়ক জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করছেন। জাকির আহমেদ দায়িত্বে রয়েছেন টেকসই উন্নয়ন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা হিসেবে।

আর মো. রফিকুল আলম মোল্লা বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন দেশগুলোবিষয়ক জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

সব মিলিয়ে সভাপতির কার্যালয়ে ২৯টি দেশের ৪০ জন বিভিন্ন দায়িত্বে কাজ করছেন। অর্থাৎ জাইমা রহমানের দায়িত্বটি ওই কার্যালয়ের বৃহত্তর একটি টিমের অংশ হিসেবেই পরিচালিত হবে।

এক বছরের অধিবেশন, দায়িত্বও নির্দিষ্ট সময়ের

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশন ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ শুরু হয়েছে এবং অধিবেশনটি ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৭ পর্যন্ত চলবে। এই সময়ের জন্যই ড. খলিলুর রহমান সাধারণ পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন।

জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, সাধারণ পরিষদের সভাপতি অধিবেশনের বৈঠকে সভাপতিত্ব করা, সদস্যরাষ্ট্রগুলোর মধ্যে আলোচনা ও পরামর্শ প্রক্রিয়ায় নেতৃত্ব দেওয়া এবং সাধারণ পরিষদের প্রতিনিধিত্ব করার মতো দায়িত্ব পালন করেন।

এই পুরো সময় সভাপতির কার্যালয়ের বিভিন্ন কর্মকর্তা নিজ নিজ ক্ষেত্রে তাকে সহায়তা করবেন। জাইমা রহমানের ক্ষেত্রেও মূল দায়িত্ব থাকবে আইন ও নীতিগত বিষয়গুলোতে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া।

মূল কথা

জাইমা রহমানের নতুন দায়িত্ব নিয়ে আলোচনা মূলত তার পরিচয় এবং পদটির গুরুত্বকে ঘিরে। তবে দায়িত্বের ধরন বুঝতে হলে এটিকে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতির কার্যালয়ের একটি নির্দিষ্ট পেশাগত পদ হিসেবে দেখা প্রয়োজন।

তার কাজ হবে সাধারণ পরিষদের সভাপতিকে আইনগত ও নীতিগত বিষয়ে সহায়তা করা, প্রয়োজন অনুযায়ী জাতিসংঘের বিধি ও কার্যপ্রণালি পর্যালোচনা করা এবং সভাপতির বিভিন্ন কার্যক্রমের আইনগত দিকগুলোতে পরামর্শ দেওয়া।

অন্যদিকে, জাতিসংঘের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, জাইমা রহমান আইন বিষয়ে উচ্চশিক্ষা ও ব্যারিস্টারি যোগ্যতা অর্জন করেছেন এবং বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যে আইন ও নীতিসংক্রান্ত কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে।

ফলে তার নিয়োগকে ঘিরে যে আলোচনা তৈরি হয়েছে, তার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে দুটি বিষয়—একদিকে তার পারিবারিক ও রাজনৈতিক পরিচয়, অন্যদিকে এই দায়িত্ব পালনের জন্য তার শিক্ষাগত ও পেশাগত যোগ্যতা। নিয়োগের বিষয়ে জাতিসংঘের সভাপতির কার্যালয়ের প্রকাশিত তথ্য এবং সরকারের বক্তব্যে নিয়ম ও প্রক্রিয়া অনুসরণের কথা বলা হয়েছে।

আরও সংবাদ লোড হচ্ছে...