জনতা ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান ও অর্থনীতিবিদ ড. আবুল বারকাতের স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের হিসাব চেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। তাঁর নিজের নামে এবং বেনামে থাকা সম্পদের পাশাপাশি তাঁর ওপর নির্ভরশীল ব্যক্তিদের সম্পদ, দায়-দেনা ও আয়ের উৎসের বিস্তারিত তথ্যও চাওয়া হয়েছে।
রোববার দুদকের জনসংযোগ শাখা থেকে এ তথ্য জানানো হয়।
দুদকের ব্যাংক অনুবিভাগের পরিচালক (চলতি দায়িত্ব) এ এস এম সাজ্জাদ হোসেন স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে আবুল বারকাতকে তাঁর সম্পদের পূর্ণাঙ্গ বিবরণী জমা দিতে বলা হয়েছে।
দুদকের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, প্রাথমিকভাবে প্রাপ্ত তথ্য পর্যালোচনা ও অনুসন্ধানের পর তাঁর স্বনামে ও বেনামে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত বিপুল পরিমাণ সম্পদ থাকার বিষয়ে কমিশনের বিশ্বাস জন্মেছে। এ কারণে দুদক আইন-২০০৪-এর ২৬(১) ধারায় তাঁকে সম্পদ বিবরণী দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
চিঠি পাওয়ার পর ২১ কার্যদিবসের মধ্যে আবুল বারকাতকে তাঁর এবং তাঁর ওপর নির্ভরশীল ব্যক্তিদের নামে বা বেনামে থাকা সব ধরনের স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ ও সম্পত্তি, দায়-দেনা, আয়ের উৎস এবং সম্পদ অর্জনের বিস্তারিত বিবরণ দুদকে জমা দিতে হবে।
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পদ বিবরণী জমা না দিলে অথবা ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা তথ্য দিয়ে বিবরণী দাখিল করলে দুদক আইন-২০০৪-এর ২৬(২) ধারায় ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলে জানিয়েছে কমিশন।
পিকে হালদারের ভাইয়ের বিরুদ্ধে চার্জশিট
এদিকে আলোচিত প্রশান্ত কুমার (পিকে) হালদারের ভাই ও আনান কেমিক্যাল লিমিটেডের পরিচালক প্রিতিশ কুমার হালদারের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলায় চার্জশিট অনুমোদন করেছে দুদক।
রোববার কমিশনের বৈঠকে চার্জশিটটির অনুমোদন দেওয়া হয়। প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে শিগগিরই এটি আদালতে দাখিল করা হবে বলে দুদক সূত্রে জানা গেছে।
দুদকের মামলায় প্রিতিশ কুমার হালদারের বিরুদ্ধে ৪ কোটি ৮৪ লাখ ৯৭ হাজার ৫০০ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়েছিল। মামলাটি তদন্তের পর তাঁর নামে অভিযোগের পক্ষে অবৈধ সম্পদের তথ্য-প্রমাণ পাওয়ার কথা জানিয়েছে সংস্থাটি।
তদন্ত শেষে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৬(২) ও ২৭(১) ধারা এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ৪(২) ও ৪(৩) ধারায় তাঁর বিরুদ্ধে চার্জশিট দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
চার্জশিট আদালতে দাখিলের পর মামলাটির পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম এগিয়ে যাবে।


