সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনের মৃত্যুর ঘটনায় করা আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় তাঁকে ও তাঁর প্রথম স্ত্রী মাকছুদা বেগমকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পরে তাঁদের আদালতে হাজির করা হলে সংসদ সদস্য গাজী নজরুলকে চার দিন এবং মাকছুদা বেগমকে এক দিনের রিমান্ডে নেওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়।
এর আগে রোববার রাতে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে মরিয়ম খাতুনের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহতের বাবা বাদী হয়ে শেরেবাংলা নগর থানায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মামলা করেন। মামলায় গাজী নজরুল ইসলাম ও তাঁর প্রথম স্ত্রী মাকছুদা বেগম ছাড়াও মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমানকে আসামি করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, ন্যাম ভবনের ৫ নম্বর ভবনের একটি ফ্ল্যাটে মরিয়মের মরদেহ ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পাওয়া যায়। খবর পেয়ে শেরেবাংলা নগর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পরে আলামত সংগ্রহের জন্য পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) ও পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)–এর সংশ্লিষ্ট সদস্যরা ঘটনাস্থলে কাজ করেন। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠানো হয়।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে গাজী নজরুল ও তাঁর প্রথম স্ত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডের আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত গাজী নজরুলের চার দিন এবং মাকছুদা বেগমের এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
আগের মামলায় জামিনের পর নতুন মামলা
এর আগে মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমান পল্লবী থানায় গাজী নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মামলা করেছিলেন। ওই মামলায় উচ্চ আদালত থেকে জামিন পাওয়ার পর তিনি ঢাকার আদালতে জামিননামা দাখিল করেছিলেন বলে জানা যায়।
মরিয়মের মৃত্যুর ঘটনায় নতুন মামলায় এখন তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। একই মামলায় তাঁর প্রথম স্ত্রী মাকছুদা বেগমকেও গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
যে কারণে আলোচনায় এসেছিলেন নজরুল-মরিয়ম
গত জুলাইয়ে ঢাকার মগবাজারের একটি আবাসিক হোটেলে গাজী নজরুল ইসলাম ও এক তরুণীর ব্যক্তিগত মুহূর্তের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। পরে নজরুল ইসলাম জানান, ওই তরুণী তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুন।
ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনেও আলোচনা তৈরি হয়। পরে ২২ জুলাই জামায়াতে ইসলামী গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কার করে এবং তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য স্পিকার ও নির্বাচন কমিশনসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে চিঠি দেয় বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
মরিয়ম খাতুনের মৃত্যুর ঘটনায় করা মামলার তদন্ত ও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর ঘটনার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে আরও তথ্য জানা যাবে।


