মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬
চুয়াডাঙ্গা ডট নেট
শিরোনাম
বিজ্ঞাপন

ইউক্রেনে মানবিক সহায়তা বিতরণকেন্দ্রে রাশিয়ার হামলা, নিহত ২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক০৩ নভেম্বর ২০২৬, ০৯:৩০ এএম
ইউক্রেনে মানবিক সহায়তা বিতরণকেন্দ্রে রাশিয়ার হামলা, নিহত ২৬

ইউক্রেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় জাপোরিঝঝিয়ায় মানবিক সহায়তা বিতরণের একটি স্কুলে রাশিয়ার বিমান হামলায় অন্তত ২৬ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে দুজন উদ্ধারকর্মী ও চারজন পুলিশ সদস্য রয়েছেন। স্থানীয় সময় সোমবার (২ নভেম্বর) এ হামলার ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষ।

ইউক্রেনের দাবি, খেরসন অঞ্চলে যুদ্ধবিরতি শেষ হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এ হামলা চালায় রাশিয়া। গত মঙ্গলবার থেকে শুরু হওয়া ওই যুদ্ধবিরতি রোববার শেষ হয়। রাশিয়া ও ইউক্রেন, কোনো পক্ষই যুদ্ধবিরতি চলাকালে কোনো লঙ্ঘনের অভিযোগ করেনি।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানান, জাপোরিঝঝিয়ার একটি গ্রামের স্কুলে প্রতি সোমবার স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে মানবিক সহায়তা বিতরণ করা হতো। হামলার দিনও সহায়তা নিতে সেখানে জড়ো হয়েছিলেন সাধারণ মানুষ।

জেলেনস্কির ভাষ্য অনুযায়ী, মানুষ সেখানে পৌঁছানোর পরপরই রাশিয়া কয়েকটি বিমানবোমা নিক্ষেপ করে। পরে দ্বিতীয় দফায় হামলা চালানো হয়, যার লক্ষ্য ছিল আশ্রয়কেন্দ্রটি।

আঞ্চলিক ভারপ্রাপ্ত গভর্নর মিখাইলো সেমিকিন টেলিগ্রামে জানান, নিহতদের মধ্যে দুজন উদ্ধারকর্মী এবং চারজন পুলিশ সদস্য রয়েছেন। ইউক্রেনের জরুরি সেবা বিভাগ নিহত উদ্ধারকর্মীদের ডেনিস কোনোভালেঙ্কো ও ওলেক্সি সুশচেভস্কি হিসেবে শনাক্ত করেছে। তাদের দুজনেরই বয়স ছিল ৪৪ বছর।

জরুরি সেবা বিভাগ এক বিবৃতিতে জানায়, বিপজ্জনক পরিস্থিতির মধ্যেও প্রতিদিন মানুষের সহায়তায় কাজ করতেন ওই উদ্ধারকর্মীরা।

হামলার পর ইউক্রেনের জরুরি সেবা বিভাগের প্রকাশ করা ভিডিওতে স্কুল ভবনটি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হতে দেখা যায়। সেখানে উদ্ধারকর্মীদের ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে তল্লাশি চালাতেও দেখা গেছে।

জেলেনস্কি বলেন, ওলেশকিতে মানবিক অভিযান শেষে এমন একটি সময় এসেছিল, যখন পরবর্তী পদক্ষেপের মাধ্যমে শান্তির পথে অগ্রগতির সম্ভাবনা তৈরি হতে পারত। কিন্তু এই হত্যাকাণ্ড তার বিপরীত বার্তা দিচ্ছে।

যুদ্ধবিরতি ও ওলেশকি থেকে উদ্ধার অভিযান

রাশিয়ার দখলে থাকা ইউক্রেনের ওলেশকি শহরে মানবিক উদ্ধার অভিযান পরিচালনার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় স্থানীয় যুদ্ধবিরতিটি কার্যকর হয়েছিল। মঙ্গলবার শুরু হয়ে রোববার শেষ হওয়া এই বিরতি ছিল ২০২২ সালে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসন শুরুর পর দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘতম যুদ্ধবিরতি।

এই যুদ্ধবিরতির আওতায় ওলেশকি থেকে বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়া হয়। তাদের কেউ ইউক্রেন-নিয়ন্ত্রিত এলাকায় এবং কেউ রাশিয়ার সঙ্গে সংযুক্ত ক্রিমিয়ায় আশ্রয় নেন।

ইউক্রেনের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা রোববার এএফপিকে জানান, যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছিল কিয়েভ, তবে মস্কো তা প্রত্যাখ্যান করেছে।

এদিকে ইউক্রেনের সামরিক বাহিনীর অভিযোগ, যুদ্ধবিরতির সুযোগে নিজেদের সামরিক অবস্থান আরও শক্তিশালী করেছে রাশিয়া।

রাশিয়ার প্রেসিডেন্টের দপ্তর ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ এ অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেননি। সোমবার সাংবাদিকদের তিনি বলেন, এ ধরনের পরিস্থিতিতে সামরিক অবস্থান শক্তিশালী করা সম্পূর্ণ স্বাভাবিক চর্চা। তার দাবি, অতীতেও ইউক্রেনীয় বাহিনী যুদ্ধবিরতির সময় নিজেদের পুনর্গঠনের সুযোগ নিয়েছে।

আন্তর্জাতিক থেকে আরও পড়ুন
আরও সংবাদ লোড হচ্ছে...