রোদের তীব্রতা বাড়লেই ত্বক নিয়ে দুশ্চিন্তা শুরু হয় অনেকের। সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি বা ইউভি থেকে ত্বককে সুরক্ষিত রাখতে নিয়মিত সানস্ক্রিন ব্যবহার করেন নারী-পুরুষ উভয়েই। কিন্তু সানস্ক্রিন ব্যবহারের পরও অনেকের ত্বকে ট্যান, কালচে ছোপ, লালচে ভাব কিংবা রোদে পোড়ার মতো সমস্যা দেখা যায়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এর অন্যতম কারণ হতে পারে সানস্ক্রিন ব্যবহারের ভুল পদ্ধতি। শুধু সানস্ক্রিন মাখলেই সুরক্ষা নিশ্চিত হয় না; কোন ধরনের সানস্ক্রিন ব্যবহার করছেন, কতটা লাগাচ্ছেন এবং কতক্ষণ পরপর পুনরায় ব্যবহার করছেন—এসব বিষয়ও গুরুত্বপূর্ণ।
সানস্ক্রিন কেনার সময় কী দেখবেন?
সানস্ক্রিন বাছাইয়ের সময় প্যাকেটের এসপিএফ ও ইউভিএ সুরক্ষার তথ্য দেখা জরুরি। এসপিএফ বা সান প্রোটেকশন ফ্যাক্টর মূলত ইউভিবি রশ্মির বিরুদ্ধে সুরক্ষার মাত্রা বোঝায়। ইউভিবি ত্বকে রোদে পোড়া বা সানবার্নের অন্যতম কারণ।
অন্যদিকে ইউভিএ রশ্মি ত্বকের গভীর স্তরে প্রভাব ফেলতে পারে এবং দীর্ঘমেয়াদে ত্বকের বয়সজনিত পরিবর্তন ও বলিরেখার সঙ্গে সম্পর্কিত। তাই শুধু এসপিএফ দেখলেই হবে না, ব্রড-স্পেকট্রাম সানস্ক্রিন বেছে নেওয়াও গুরুত্বপূর্ণ।
সাধারণ ব্যবহারের ক্ষেত্রে এসপিএফ ৩০ বা তার বেশি এবং ইউভিএ সুরক্ষাসহ ব্রড-স্পেকট্রাম সানস্ক্রিন ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়। যারা দীর্ঘ সময় বাইরে থাকেন, তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী উচ্চতর এসপিএফের সানস্ক্রিন বেছে নেওয়া যেতে পারে।
ত্বকের ধরন অনুযায়ী ফর্মুলাও বেছে নেওয়া যায়। তৈলাক্ত ত্বকে হালকা জেল বা নন-কমেডোজেনিক ফর্মুলা তুলনামূলক আরামদায়ক হতে পারে। শুষ্ক ত্বকের ক্ষেত্রে ময়েশ্চারাইজিং উপাদানযুক্ত ক্রিম বা লোশনভিত্তিক সানস্ক্রিন সুবিধাজনক হতে পারে।
পরিমাণ কম হলে সুরক্ষাও কমে
সানস্ক্রিন ব্যবহারের ক্ষেত্রে সবচেয়ে সাধারণ ভুলগুলোর একটি হলো প্রয়োজনের তুলনায় কম পরিমাণ ব্যবহার করা। খুব অল্প পরিমাণ সানস্ক্রিন লাগালে প্যাকেটের গায়ে উল্লেখ করা এসপিএফের পূর্ণ সুরক্ষা পাওয়া যায় না।
মুখ ও ঘাড়ে পর্যাপ্ত পরিমাণ সানস্ক্রিন লাগানো প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে ‘দুই আঙুলের নিয়ম’ একটি প্রচলিত নির্দেশনা—তর্জনী ও মধ্যমা আঙুলের ওপর দুই লাইন পরিমাণ সানস্ক্রিন মুখ ও ঘাড়ে ব্যবহারের জন্য একটি আনুমানিক পরিমাণ হিসেবে ধরা হয়। তবে মুখের আকার ও পণ্যের ধরন অনুযায়ী প্রয়োজন কিছুটা ভিন্ন হতে পারে।
শুধু মুখ নয়, কানের পাশ, ঘাড় এবং রোদে উন্মুক্ত অন্যান্য অংশেও সানস্ক্রিন লাগানো উচিত।
ময়েশ্চারাইজারের সঙ্গে মিশিয়ে নয়
অনেকে ময়েশ্চারাইজারের সঙ্গে সানস্ক্রিন মিশিয়ে একসঙ্গে মুখে লাগান। এটি না করাই ভালো। কারণ আলাদা পণ্যের উপাদান মিশিয়ে দিলে সানস্ক্রিনের কাঙ্ক্ষিত সুরক্ষা কতটা পাওয়া যাবে, তা নিশ্চিত করা কঠিন।
প্রয়োজনে প্রথমে ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করে তা ত্বকে শোষিত হওয়ার পর সানস্ক্রিন লাগানো যেতে পারে। সানস্ক্রিনকে ত্বকের ওপর আলাদা একটি স্তর হিসেবে ব্যবহার করাই ভালো।
বাইরে যাওয়ার কতক্ষণ আগে লাগাবেন?
বাইরে যাওয়ার ঠিক মুহূর্তে সানস্ক্রিন লাগানোর বদলে কিছুটা আগে ব্যবহার করা সুবিধাজনক। বিশেষ করে রাসায়নিক ফিল্টারযুক্ত সানস্ক্রিন ত্বকে কাজ শুরু করতে কিছুটা সময় নেয়। তাই বাইরে যাওয়ার প্রায় ১৫ মিনিট আগে সানস্ক্রিন লাগানোর পরামর্শ দেওয়া হয়।
তবে ঘরের ভেতরে থাকলেও জানালার কাছাকাছি দীর্ঘ সময় অবস্থান করা বা দিনের বড় অংশ বাইরে কাটানোর ক্ষেত্রে সানস্ক্রিনের প্রয়োজন হতে পারে।
দুই ঘণ্টা পরপর কি আবার লাগাতে হবে?
সানস্ক্রিন একবার লাগিয়ে সারাদিন নিশ্চিন্ত থাকার সুযোগ নেই। ঘাম, পানি, মুখ মোছা কিংবা দীর্ঘ সময় বাইরে থাকার কারণে সানস্ক্রিনের কার্যকারিতা কমে যেতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের সাধারণ পরামর্শ হলো, বাইরে থাকলে প্রায় দুই ঘণ্টা পরপর সানস্ক্রিন পুনরায় ব্যবহার করা। সাঁতার কাটা বা অতিরিক্ত ঘাম হলে ওয়াটার-রেজিস্ট্যান্ট সানস্ক্রিন হলেও নির্দেশনা অনুযায়ী আরও ঘন ঘন ব্যবহার করতে হতে পারে।
সানস্ক্রিনই একমাত্র সুরক্ষা নয়
ত্বককে সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মি থেকে রক্ষা করতে শুধু সানস্ক্রিনের ওপর নির্ভর না করাই ভালো। রোদ তীব্র থাকলে ছাতা, টুপি, সানগ্লাস ও শরীর ঢেকে রাখে এমন পোশাক ব্যবহার করা যেতে পারে। সম্ভব হলে দিনের সবচেয়ে তীব্র রোদে দীর্ঘ সময় সরাসরি বাইরে থাকা এড়িয়ে চলাও উপকারী।
সানস্ক্রিন ব্যবহারের পরও যদি ত্বকে নিয়মিত লালচে ভাব, চুলকানি, জ্বালা, র্যাশ বা অস্বাভাবিক দাগ দেখা দেয়, তাহলে নিজের মতো করে পণ্য বদলানোর বদলে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া ভালো।
সঠিক পণ্য নির্বাচন, পর্যাপ্ত পরিমাণে ব্যবহার এবং প্রয়োজন অনুযায়ী পুনরায় প্রয়োগ—এই তিনটি বিষয় মেনে চললেই সানস্ক্রিন থেকে প্রত্যাশিত সুরক্ষা পাওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে।


