চুয়াডাঙ্গায় সার ডিলার নিয়োগে অনিয়ম ও দলীয়করণের অভিযোগ জামায়াতের

চুয়াডাঙ্গা জেলার চার উপজেলায় সার ডিলার নিয়োগ প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের অনিয়ম, দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ও রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ তুলে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। বুধবার সকাল ১১টায় চুয়াডাঙ্গা জেলা জামায়াত কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এ দাবি তুলে ধরা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের সংসদ সদস্য, জেলা জামায়াতের আমির ও কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরার সদস্য মো. রুহুল আমিন এবং চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মাসুদ পারভেজ রাসেলসহ দলের স্থানীয় শীর্ষ পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।
৪৫টি ডিলারশিপের বিপরীতে আবেদন ৬৪২টি
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়, ২০২৬ সালে জেলার চারটি উপজেলায় ৪৫টি সার ডিলারশিপের জন্য মোট ৬৪২ জন ব্যবসায়ী আবেদন করেন। তবে পুরো প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্বের মাধ্যমে প্রকৃত ও যোগ্য আবেদনকারীদের বঞ্চিত করার অভিযোগ উঠেছে। এ কারণে পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়ার প্রতিটি ধাপে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করে নিরপেক্ষ তদন্তের জোর দাবি জানান নেতৃবৃন্দ।
বক্তব্যে বলা হয়, আবেদনকারী প্রার্থীদের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, নিজস্ব গুদাম ও আর্থিক সক্ষমতার মতো আবশ্যক বিষয়গুলো নির্ধারিত নীতিমালা মেনে ঠিকঠাক যাচাই করা হয়েছে কি না, তা জনসমক্ষে পরিষ্কার করতে হবে। একই সঙ্গে ডিলারশিপ পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে কোনো ধরনের আর্থিক লেনদেন কিংবা অবৈধ প্রভাব খাটানো হয়েছে কি না, তা খুঁজে বের করে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
৮ দফা দাবি উপস্থাপন
নিয়োগপ্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ফেরাতে সংবাদ সম্মেলন থেকে আট দফা দাবি উত্থাপন করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে—অনিয়ম তদন্তে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ কমিটি গঠন, চূড়ান্তভাবে নির্বাচিতদের যোগ্যতা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখা, নিয়োগের সার্বিক মানদণ্ড ও ফলাফল উন্মুক্ত করা এবং বাদ পড়া আবেদনকারীদের আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জানানোর সুযোগ রাখা। এ ছাড়া কোনো অনিয়ম প্রমাণিত হলে দায়ীদের আইনের আওতায় আনা এবং তদন্ত চলাকালীন প্রয়োজনে অন্তর্বর্তী পদক্ষেপ গ্রহণের দাবিও জানানো হয়।
জেলা প্রশাসন, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ও কৃষি মন্ত্রণালয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করে জামায়াত নেতৃবৃন্দ বলেন, রাজনৈতিক পরিচয় কিংবা ব্যক্তিগত প্রভাবের ঊর্ধ্বে উঠে সততা ও কৃষকসেবার সক্ষমতাকে প্রাধান্য দিয়ে ডিলার নিয়োগ দিতে হবে। যাতে তৃণমূলের কৃষকেরা ন্যায্যমূল্যে এবং সঠিক সময়ে প্রয়োজনীয় সার পেতে পারেন।

