গঙ্গা পানি চুক্তি নবায়নে ভারতের ওপর চাপ বাড়াচ্ছে বাংলাদেশ: এএফপির প্রতিবেদন

জলবায়ু পরিবর্তনে বাড়ছে সংকট
বাংলাদেশের কৃষিনির্ভর অর্থনীতি ইতোমধ্যে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে চাপে রয়েছে। নদীর প্রবাহের ধরন বদলে যাওয়ায় শুষ্ক মৌসুমে পানির সংকট বাড়ছে। অন্যদিকে, বর্ষায় তীব্র বন্যায় কৃষিজমি ও গ্রাম ভেসে যাচ্ছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নদীর প্রশস্ততা প্রায় তিন কিলোমিটার বেড়েছে, অর্থাৎ নদীটির আকার প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে বলে জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। জেলার ফিল্ডার বাজার গ্রামের ৫০ বছর বয়সী রেহানা খাতুন জানিয়েছেন, বন্যার পানিতে তাঁর বাড়ি ধ্বংস হয়ে যাওয়ার সময় নদীর গর্জন ছিল ভয়াবহ। তিনি বলেন, নদীটি হিংস্র রূপ নিয়ে তীরবর্তী সবকিছু গ্রাস করতে শুরু করেছিল। বাড়িঘর হারিয়ে এখন তিনি বাঁশের তৈরি একটি আশ্রয়ে বসবাস করছেন। রেহানা খাতুন বলেন, বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পরও শিশুদের মনে সেই ভয়াবহ অভিজ্ঞতার মানসিক ক্ষত দীর্ঘদিন থেকে যায়।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক চৌধুরী সারওয়ার জাহান সতর্ক করে বলেছেন, নদীতে পর্যাপ্ত পানি না থাকলে এর পরিণতি বিপর্যয়কর হতে পারে।
১৯৯৬ সালের গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তিতে মেয়াদ স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাড়ানোর কোনো বিধান নেই। ফলে আগামী ১২ ডিসেম্বরের আগে নতুন সমঝোতায় পৌঁছাতে না পারলে বাংলাদেশে শুষ্ক মৌসুমের পানিসংকট আরও গভীর হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এর প্রভাব শুধু কৃষি উৎপাদনে সীমাবদ্ধ থাকবে না; মৎস্যসম্পদ, সুন্দরবনের পরিবেশগত ভারসাম্য এবং নদীতীরবর্তী কোটি কোটি মানুষের জীবন-জীবিকাও এর ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

