মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬
চুয়াডাঙ্গা ডট নেট
শিরোনাম
মিরপুরে শ্রমিক আন্দোলন ঘিরে উত্তেজনা, অলিগলিতে পুলিশের মাইকিংবিদেশে উচ্চশিক্ষা: বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মের জন্য সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত এবং শ্রীলঙ্কায় IIT-এর ভূমিকাএভারেস্ট বেস ক্যাম্পের কাছে দুই হেলিকপ্টারের সংঘর্ষবিএনপি নেতাকে ‘ঘাড় থেকে মাথা সরিয়ে দেওয়ার’ হুঁশিয়ারি স্বেচ্ছাসেবক দল নেতারনারী ইমার্জিং ট্রফির জন্য বাংলাদেশের দল ঘোষণাবাংলাদেশের ইমার্জিং নেশনস ট্রফির দলে যাঁরা আছেনআশুলিয়ায় শ্রমিক-পুলিশের পাল্টাপাল্টি ধাওয়া, অর্ধশতাধিক কারখানায় ছুটিমিরপুরে দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া; পুলিশ সদস্যকে বেধড়ক পিটুনিরোনালদোকে ছাড়াই আল নাসরের গোলবন্যাশেখ হাসিনা জীবিত থাকাকালে নাশকতার চেষ্টা থামবে না, মন্তব্য তথ্য উপদেষ্টার
বিজ্ঞাপন

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও বিআরইবির শতকোটির কাজ ভাগাভাগি, শাস্তির বদলে মিলল দায়মুক্তি

নিজস্ব প্রতিবেদক০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১১:৪৪ এএম
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও বিআরইবির শতকোটির কাজ ভাগাভাগি, শাস্তির বদলে মিলল দায়মুক্তি

দরপত্রে বিগত তিন বছরে ৪০ কোটি টাকার কাজের অভিজ্ঞতাসহ নানা শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়। একটি কাজকে ভাগ করা হয় দুটি লটে। কমিশনের প্রতিবেদনে বলা হয়, এটি সরকারি ক্রয় আইন ২০০৬ এবং ২০০৮ সালের ক্রয় বিধিমালার লঙ্ঘন।

কমিশন বলছে, দাপ্তরিক প্রাক্কলন মূল্য বাজারদরের চেয়ে অনেক বেশি ধরা হয়। ঠিকাদারদের যোগ্যতার শর্তে কঠোর বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হয়। এ ছাড়া মাস্টার সিমেক্স পেপার লিমিটেড ও প্রিন্ট মাস্টার প্রিন্টিং অ্যান্ড প্যাকেজিং লিমিটেডকে কাজ পাইয়ে দিতে দরদাতার সংখ্যা কমিয়ে আনা হয়েছে।

প্রথম লটে মাস্টার সিমেক্স পেপার লিমিটেড ৫৪ কোটি ৩৪ লাখ ২ হাজার ৫০০ টাকায় কার্যাদেশ পায়। দ্বিতীয় লটে প্রিন্ট মাস্টার প্রিন্টিং অ্যান্ড প্যাকেজিং লিমিটেড কার্যাদেশ পায় ৫৪ কোটি ২৫ লাখ ৭৭ হাজার ৫০০ টাকায়।

এই দরপত্রে উপাচার্য ড. এ. এস. এম. আমানুল্লাহ, ট্রেজারার ড. এ. টি. এম. জাফরুল আজম এবং প্রধান প্রকৌশলী মো. মিজানুর রহমানের প্রত্যক্ষ যোগসাজশ পাওয়া গেছে বলে তদন্তে উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রতিযোগিতা আইন, ২০১২-এর ১৫ (১) ও (২) ধারার স্পষ্ট লঙ্ঘন এবং ‘দরপত্র জালিয়াতি’র প্রাথমিক সত্যতা তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে।

জালিয়াতির প্রমাণ মিললেও বিচার হয়নি। অভিযোগকারী প্রতিষ্ঠান ‘বাংলাদেশ পেপার মিলস অ্যাসোসিয়েশন’ মামলা না চালানোর আবেদন করলে গত ৮ জানুয়ারি কমিশন সেই আবেদন মঞ্জুর করে মামলাটি নিষ্পত্তি করে। তবে কোনো অভিযুক্তদের কোনো জরিমানা বা শাস্তির আওতায় আনা হয়নি। কমিশন অভিযুক্তদের শুধু ‘ভবিষ্যতে সতর্ক থাকার পরামর্শ’ দেয়।

বিআরইবির এক হাজার মোটরসাইকেল

বিআরইবির জন্য এক হাজার হোন্ডা এসপি ১২৫ মোটরসাইকেল কেনার সিদ্ধান্ত হয় ২০২৫ সালের ১৮ মার্চ। কমিশনের আদেশ ও তদন্ত সূত্র বলছে, হোন্ডার বাংলাদেশি সরবরাহকারী এবং বাংলাদেশ মেশিন টুলস ফ্যাক্টরি লিমিটেডকে (বিএমটিএফ) সমানভাবে মোটরসাইকেল সরবরাহের কার্যাদেশ দেওয়া হয়। প্রথম প্রতিষ্ঠানটি এটলাস বাংলাদেশ।

সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে (ডিপিএম) কিছু কিনতে হলে উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি করতে হয়। অথচ কার্যাদেশ পাওয়া দুই প্রতিষ্ঠান মোটরসাইকেল তৈরি বা সংযোজন করে না।

গত বছরের ৩০ এপ্রিল বাংলাদেশ হোন্ডা প্রাইভেট লিমিটেড (বিএইচএল) ও এটলাসের মধ্যে একটি চুক্তি হয়। চুক্তির ১.১ অনুচ্ছেদে বলা আছে, এটলাস সরকারি প্রতিষ্ঠানের কাছে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে হোন্ডা মোটরসাইকেল বিক্রি করবে।

একই সময়ে বিএইচএল বিএমটিএফের কাছে মোটরসাইকেল সরবরাহে অস্বীকৃতি জানায়। এটলাস বাংলাদেশের বাইরে কোনো প্রতিষ্ঠানকে মোটরসাইকেল দিতে রাজি হয়নি তারা।

এমন পরিস্থিতিতে বিএইচএলের বিরুদ্ধে সরকারি ক্রয় নীতিমালা ভঙ্গের অভিযোগে প্রতিযোগিতা কমিশনে মামলা করে বিএমটিএফ। তদন্তে অনিয়মের প্রাথমিক সত্যতা মিললেও মামলা নিষ্পত্তি হয় অভিযোগকারীর আবেদনের ভিত্তিতে।

বিএমটিএফ ২০২৫ সালের ৯ অক্টোবর ‘স্বেচ্ছায়’ মামলা প্রত্যাহারের আবেদন করে। ২০ অক্টোবর কমিশন তা মঞ্জুর করে। আদেশে বিএইচএল, এটলাস, বিএমটিএফ ও বিআরইবিকে প্রতিযোগিতাবিরোধী কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকতে বলা হয়।

দুই আদেশে স্বাক্ষর করেন কমিশনের চেয়ারপারসন এ এইচ এম আহসান এবং সদস্য ড. মো. আখতারুজ্জামান তালুকদার ও ড. আফরোজা বিলকিস।

বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশনের সদস্য ড. মো. আখতারুজ্জামান তালুকদার (বাঁয়ে) এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব মো. দেলোয়ার হোসেন।
বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশনের সদস্য ড. মো. আখতারুজ্জামান তালুকদার (বাঁয়ে) এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব মো. দেলোয়ার হোসেন।

মামলা দুটি নিষ্পত্তির পর বিষয়টি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে তদন্ত শুরু হয়। তদন্ত কমিটির প্রধান করা হয় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব মো. দেলোয়ার হোসেনকে। কমিশনের দেওয়া দায়মুক্তির সিদ্ধান্তের পক্ষে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রতিবেদন দাখিল করেন তিনি।

এশিয়া পোস্টের অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, কমিশনের সদস্য ড. মো. আখতারুজ্জামান তালুকদার ক্ষমতার অপব্যবহার করে অনিয়মে জড়িতদের শাস্তি না দিয়ে মামলা দুটি নিষ্পত্তিতে মূল ভূমিকা রাখেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কর্মকর্তা এশিয়া পোস্টকে বলেছেন, কমিশনের প্রশাসনিক অভিভাবক বাণিজ্য মন্ত্রণালয় হওয়ায় দেলোয়ার হোসেনের ক্ষেত্রে ‘স্বার্থের সংঘাতের’ অভিযোগ উঠেছে। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি অনৈতিক সুবিধা নিয়ে অভিযুক্ত সদস্যকে রেহাই দিয়ে প্রতিবেদন দাখিল করেছেন।

নিজের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মো. দেলোয়ার হোসেন। তিনি এশিয়া পোস্টকে বলেন, ‘আমার সম্পর্কে ভুল তথ্য দেওয়া হয়েছে। এটি অনাকাঙ্ক্ষিত। কর্তৃপক্ষের কাছে তিন সদস্যের কমিটির প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে। এটি কোনোভাবেই একক সিদ্ধান্তে হয়নি।’

বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশনের সদস্য ড. মো. আখতারুজ্জামান তালুকদার বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থে‌কে দুজনের আর্থিক বিষয় তদন্তের জন্য বলা হ‌য়ে‌ছি‌ল। কিন্তু আমরা যখন তদন্ত শুরু ক‌রি তখন কোনো অভিযোগকারী পাইনি। অর্থাৎ, বেনা‌মি অভিযোগ। আমরা কিছু পর্যবেক্ষণ দি‌য়ে‌ছি।’

রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন
আরও সংবাদ লোড হচ্ছে...