বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬
চুয়াডাঙ্গা ডট নেট
শিরোনাম
ভুয়া গ্রাহক সাজিয়ে ১ কোটি ৯৩ লাখ টাকা লোপাট কৃষি ব্যাংক কর্মকর্তারভুটানকে হারিয়ে সাফে শুভসূচনা বাংলাদেশেরমালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠাতে সব এজেন্সির সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে চায় সরকারআখতারুজ্জামানের ছেলের ওপর হামলা, দ্রুত মামলা নেওয়ার দাবি জামায়াত আমিরেরমানিক পশারীর দাফনে বাধা: সুনামগঞ্জে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের মানববন্ধনখুলনার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতির আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীরসৌদির তাবুকে ৯৪ হাজার টন জলপাই থেকে মিলবে প্রায় ১২ হাজার টন অলিভ অয়েল‘ধর্ম অবমাননার’ অভিযোগে শামীম হত্যা মামলায় যুবদল নেতা সাদিকুল রিমান্ডেফরিদপুরে ধর্ষণ ও অপহরণের দায়ে যুবকের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডআফগানিস্তানের কাছে ১১৩ রানে হার, যুব এশিয়া কাপে দুঃস্বপ্নের শুরু বাংলাদেশের
বিজ্ঞাপন

তিন মাসে বাণিজ্য ঘাটতি সাড়ে ৭ বিলিয়ন ডলার

নিজস্ব প্রতিবেদক০৫ নভেম্বর ২০২৬, ০৯:১০ পিএম
তিন মাসে বাণিজ্য ঘাটতি সাড়ে ৭ বিলিয়ন ডলার

চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) দেশের বাণিজ্য ঘাটতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৪৭ কোটি ডলারে। একই সময়ে চলতি হিসাবে ১৩৩ কোটি ডলারের ঘাটতি তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে বিদেশি বিনিয়োগ ও ঋণপ্রবাহ প্রত্যাশিত হারে না বাড়ায় সামগ্রিক লেনদেনের ভারসাম্যেও ঘাটতি বেড়ে ১১৬ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে। রেমিট্যান্সে ভালো প্রবৃদ্ধি থাকার পরও বৈদেশিক লেনদেনে এ চাপ তৈরি হয়েছে।

বিশ্ববাজারে জ্বালানি ও ভোগ্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধির কারণে আমদানি ব্যয় বেড়ে যাওয়াকে বাণিজ্য ঘাটতি বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। অন্যদিকে দেশের শিল্প খাতের স্থবিরতা ও জ্বালানি সংকটের কারণে প্রত্যাশিত হারে বাড়ছে না রপ্তানি আয়। ফলে আমদানি ও রপ্তানির মধ্যে ব্যবধান ক্রমেই বাড়ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে দেশে পণ্য আমদানি হয়েছে ১ হাজার ৯৩৩ কোটি ডলারের। আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় আমদানি বেড়েছে ১৫ দশমিক ১০ শতাংশ। বিপরীতে পণ্য রপ্তানি হয়েছে ৮৩৮ কোটি ডলারের, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ৭ শতাংশ বেশি। আমদানি ও রপ্তানির এই ব্যবধানের ফলেই বাণিজ্য ঘাটতি বেড়ে ৭৪৭ কোটি ডলারে পৌঁছেছে।

আমদানি ব্যয় বৃদ্ধির পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে জ্বালানি তেল আমদানি। বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে, চলতি অর্থবছরের জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল, পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য ও লুব্রিকেন্ট আমদানিতে ব্যয় হয়েছে ৪২২ কোটি ডলার। আগের অর্থবছরের একই সময়ে এ খাতে ব্যয় হয়েছিল ২০৫ কোটি ডলার। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে জ্বালানি ও পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য আমদানিতে ব্যয় বেড়েছে ১০৫ শতাংশ।

সংশ্লিষ্টদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির উচ্চমূল্যের কারণে দেশের আমদানি ব্যয়ে বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে শিল্প উৎপাদন ও রপ্তানি খাতে প্রত্যাশিত গতি না থাকায় বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের প্রবৃদ্ধিও আমদানি ব্যয়ের সঙ্গে তাল মেলাতে পারছে না। ফলে দেশের বৈদেশিক বাণিজ্যের ভারসাম্য ক্রমেই চাপে পড়ছে।

বাণিজ্য ঘাটতি বাড়ার প্রভাব পড়েছে দেশের চলতি হিসাবের ভারসাম্যেও। অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে (জুলাই-আগস্ট) চলতি হিসাবে ৫৯ কোটি ডলারের উদ্বৃত্ত ছিল। তবে সেপ্টেম্বর শেষে তা ঘাটতিতে পরিণত হয়েছে। তিন মাস শেষে চলতি হিসাবের ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ১৩৩ কোটি ডলারে।

অর্থাৎ মাত্র এক মাসের ব্যবধানে চলতি হিসাবের অবস্থানে বড় পরিবর্তন হয়েছে। অথচ এ সময়ে প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্সে ১৩ শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধি ছিল। তারপরও আমদানি ব্যয়ের চাপ সামাল দেওয়া সম্ভব হয়নি।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, রপ্তানি ও রেমিট্যান্সের মাধ্যমে দেশে যে পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা আসছে, আমদানির বিপরীতে তার চেয়ে বেশি ডলার ব্যয় হচ্ছে। ফলে চলতি হিসাবের ভারসাম্যে ঘাটতি তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি ও অন্যান্য পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি এ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

এদিকে চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে আর্থিক হিসাবে ঘাটতি থাকলেও সেপ্টেম্বর শেষে তা আবার উদ্বৃত্ত ধারায় ফিরেছে। তিন মাস শেষে আর্থিক হিসাবে উদ্বৃত্তের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩২ কোটি ডলার। মূলত প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই), বিদেশি অনুদান ও ঋণপ্রবাহ কিছুটা বাড়ায় আর্থিক হিসাবের অবস্থার উন্নতি হয়েছে। তবে গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় এ উদ্বৃত্ত অনেক কম।

রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন
আরও সংবাদ লোড হচ্ছে...