বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬
চুয়াডাঙ্গা ডট নেট
শিরোনাম
তিন বছরে ৫ লাখ বিদেশি কর্মী নেবে ইতালি, সুযোগ পাচ্ছেন বাংলাদেশিরাওবাংলাদেশকে এআই প্রয়োগ ও উদ্ভাবনে সক্ষম একটি দেশে পরিণত করতে হবে: রাষ্ট্রপতিরাজনীতিই আমার সব শেষ করে দিল, ছেলেকে হারিয়ে বিএনপি নেতারোনালদোর বিদায়ে পর্তুগালের আবেগঘন বার্তাচালকে বেঁধে ৪০ লাখ টাকার শুঁটকিভর্তি কাভার্ডভ্যান ছিনতাই, গ্রেপ্তার ৪দ্বিতীয় যমুনা সেতু প্রকল্প শুরু, সম্ভাব্য ব্যয় ১৭ হাজার ৫০০ কোটি টাকাবিক্ষোভে উত্তাল প্যারাগুয়ে, প্রেসিডেন্টের পদত্যাগ দাবি‘ওর কথা নিয়ে বেশি ভাবছি না, নতুন এসেছে, বেশি এক্সাইটেড’‘সুপার সাব’ ইব্রাহিমের গোলে জয়ে শুরু বাংলাদেশেরকীর্তনখোলার স্রোতে ভেসে গিয়ে কিশোর নিখোঁজ
বিজ্ঞাপন

আফগানিস্তানের কাছে ১১৩ রানে হার, যুব এশিয়া কাপে দুঃস্বপ্নের শুরু বাংলাদেশের

নিজস্ব প্রতিবেদক০৫ নভেম্বর ২০২৬, ০৯:৫৩ পিএম
আফগানিস্তানের কাছে ১১৩ রানে হার, যুব এশিয়া কাপে দুঃস্বপ্নের শুরু বাংলাদেশের

বোলাররা নিজেদের কাজটা অনেকটাই সেরে রেখেছিলেন। মাত্র ৫৮ রানেই আফগানিস্তানের চার ব্যাটারকে সাজঘরে পাঠিয়ে জয়ের সম্ভাবনাও তৈরি করেছিলেন তারা। কিন্তু ব্যাটারদের ব্যর্থতায় সব আশা শেষ হয়ে গেল বাংলাদেশের। ২৩২ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে মাত্র ২৬ রানেই পাঁচ উইকেট হারায় যুবা টাইগাররা। এরপর আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি দল।

আফগান বোলারদের সামনে একের পর এক উইকেট হারিয়ে মাত্র ১১৮ রানেই গুটিয়ে গেছে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দল। তাতে ১১৩ রানের বড় হার দিয়ে যুব এশিয়া কাপের অভিযান শুরু করতে হলো লাল-সবুজের প্রতিনিধিদের।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) ওমানের আল আমেরাত ক্রিকেট গ্রাউন্ডে অনূর্ধ্ব-১৯ এশিয়া কাপের ‘বি’ গ্রুপের ম্যাচে আফগানিস্তানের মুখোমুখি হয় বাংলাদেশ। টস জিতে প্রথমে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় আফগানরা। নির্ধারিত ৫০ ওভারের এক ওভার বাকি থাকতে ২৩১ রানে অলআউট হয় তারা। জবাবে মাত্র ২৫ ওভার ৫ বলেই বাংলাদেশের ইনিংস থামে ১১৮ রানে।

২৩২ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই বিপর্যয়ে পড়ে বাংলাদেশ। দ্বিতীয় ওভারে ব্যক্তিগত ৬ রানে ফিরে যান ওপেনার আবদুল্লাহ আল মুহি। আমির হামজার বলে এলবিডব্লিউ হওয়ার সময় দলের সংগ্রহ ছিল মাত্র ৭ রান।

এরপর পঞ্চম ওভারে জোড়া আঘাত হানেন নূর আলী নিয়াজাই। প্রথমে আলামিন হোসেন রনিকে এলবিডব্লিউ করার পর একই ওভারের শেষ বলে আহসান আল মুমিনকে উইকেটরক্ষকের ক্যাচ বানান তিনি। আলামিন করেন ৬ রান, আর মুমিন ফেরেন রানের খাতা খোলার আগেই। ফলে ২০ রানেই তিন উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে বাংলাদেশ।

সেখান থেকে দলকে টেনে তোলার দায়িত্ব ছিল অধিনায়ক ফরিদ হাসান ফয়সালের ওপর। কিন্তু তিনিও ব্যর্থ হন। অষ্টম ওভারের প্রথম বলে মাত্র ১ রান করে আমির হামজার বলে বোল্ড হন বাংলাদেশ অধিনায়ক। পরের বলেই শূন্য রানে এলবিডব্লিউ হন আল রাফি। তাতে মাত্র ২৬ রানে পাঁচ উইকেট হারিয়ে বড় বিপদে পড়ে যুবা টাইগাররা।

এরপর রাকিবুল হোসেনকে নিয়ে প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেন ওপেনার এসকে জারিফ সিয়াম। তবে সেই চেষ্টাও বেশিক্ষণ টেকেনি। একাদশ ওভারের প্রথম বলে ৭ রান করে সাজঘরে ফেরেন রাকিবুল। তখন বাংলাদেশের সংগ্রহ ৬ উইকেটে মাত্র ৪১ রান।

এমন বিপর্যয়ের মধ্যে সপ্তম উইকেটে কিছুটা প্রতিরোধ গড়েন জারিফ সিয়াম ও রবিউল হাসান অনিক। দুজন মিলে যোগ করেন ৫৫ রান। তবে বড় ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ায় সেই জুটি বাংলাদেশের জয়ের সম্ভাবনা আর ফিরিয়ে আনতে পারেনি।

শেষ পর্যন্ত ইনিংসের ২২তম ওভারে এই জুটি ভাঙেন সামি মুবারেজ। তার বলে বোল্ড হওয়ার আগে ৪৭ বলে ৩৩ রান করেন অনিক। চারটি চার ও একটি ছক্কায় সাজানো ছিল তার ইনিংস। দলীয় ৯৬ রানে সপ্তম উইকেট হারানোর পর আবারও ধস নামে বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ে।

এরপর মাত্র দুই রান যোগ হতেই সাজঘরে ফেরেন দলের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক জারিফ সিয়াম। ৫৮ বলে ছয়টি চারের সাহায্যে ৪১ রান করেন তিনি। সোহাইল খানের বলে এলবিডব্লিউ হন এই ওপেনার। পরের ওভারেই শেখ আতিকুর রহমান শূন্য রানে ফিরে গেলে ৯৯ রানেই নবম উইকেট হারায় বাংলাদেশ।

শেষদিকে রুবায় ইসলাম রিজনের ব্যাটে একশ রানের গণ্ডি পার করে যুবা টাইগাররা। মাত্র ১৪ বলে তিনটি চার ও একটি ছক্কায় ২১ রান করেন তিনি। তবে তার বিদায়ের সঙ্গেই শেষ হয় বাংলাদেশের ইনিংস। ২৫.৫ ওভারে ১১৮ রানে অলআউট হয় ফরিদ হাসানের দল। শেষ চার উইকেট হারাতে মাত্র ২২ রান যোগ করতে পেরেছে বাংলাদেশ।

আফগানিস্তানের হয়ে বল হাতে দাপট দেখান তিন বোলার। আমির হামজা ৬ ওভারে ২৩ রান দিয়ে তিন উইকেট নেন। নূর আলী নিয়াজাই সমান ওভারে ২৯ রানে এবং সামি মুবারেজ মাত্র ২.৫ ওভারে ১১ রানে শিকার করেন তিনটি করে উইকেট। বাকি উইকেটটি নেন অধিনায়ক সোহাইল খান।

এর আগে ব্যাটিংয়ে নেমে আফগানিস্তানও শুরুতে খুব একটা সুবিধা করতে পারেনি। বাংলাদেশের বোলারদের দাপটে মাত্র ৫৮ রানেই চার উইকেট হারায় তারা। তখন মনে হচ্ছিল, অল্প রানেই প্রতিপক্ষকে গুটিয়ে দিতে পারবে বাংলাদেশ।

কিন্তু পঞ্চম উইকেটে শাহ ফয়সাল রহিমি ও তাহির সারওয়ারি মিলে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন। দুজনের ৫৯ রানের জুটিতে প্রাথমিক বিপর্যয় কাটিয়ে ওঠে আফগানিস্তান। ৪৩ বলে চারটি চার ও দুটি ছক্কায় ৩৭ রান করেন সারওয়ারি। রবিউল হাসান অনিকের বলে আহসান আল মুমিনের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তিনি।

অন্যদিকে একপ্রান্ত আগলে রেখে ইনিংস বড় করতে থাকেন রহিমি। বাংলাদেশের বোলারদের সামলে দলের সংগ্রহ দুইশ পার করেন তিনি। শেষ পর্যন্ত ৯৭ বলে আটটি চার ও একটি ছক্কার সাহায্যে ৮৩ রান করে আউট হন এই ব্যাটার। তার ইনিংসেই লড়াই করার মতো পুঁজি পায় আফগানরা।

রহিমিকে বোল্ড করে ফেরান তাফিউল আলম তামিম। এর আগে আফগানিস্তানের দুই ব্যাটার সুবহান জাখাইল ও আবিদুল্লাহ নাদারজানকেও সাজঘরে পাঠিয়েছিলেন তিনি। শেষদিকে নূর আলী নিয়াজাইকে বোল্ড করে নিজের চতুর্থ উইকেট তুলে নেন এই পেসার।

বাংলাদেশের হয়ে বল হাতে সবচেয়ে সফল ছিলেন তাফিউল। ১০ ওভারে ৪১ রান খরচায় চার উইকেট নেন তিনি। রবিউল হাসান অনিক ৪৫ রানে দুটি উইকেট শিকার করেন। এ ছাড়া শেখ আতিকুর রহমান, রুবায় ইসলাম রিজন ও আল রাফি একটি করে উইকেট পান। অন্য উইকেটটি আসে রানআউট থেকে।

শেষদিকে আফগানিস্তানের ইনিংসে কিছুটা নিয়ন্ত্রণ ফেরায় বাংলাদেশ। দলীয় ২২০ রানে অষ্টম উইকেট হারানোর পর বাকি দুই উইকেট তুলতে মাত্র ১১ রান খরচ করে তারা। ফলে ৪৯ ওভারে ২৩১ রানেই থামে আফগানিস্তানের ইনিংস।

এশিয়া কাপের আগে গত অক্টোবরে আফগানিস্তানের বিপক্ষে চার ম্যাচের যুব ওয়ানডে সিরিজ খেলেছিল বাংলাদেশ। প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ সেই সিরিজ ২-২ সমতায় শেষ হয়েছিল। কিন্তু এবার এশিয়া কাপের মঞ্চে আফগানিস্তানের সামনে দাঁড়াতেই পারল না বাংলাদেশের ব্যাটাররা।

এই হারে গ্রুপ পর্বের শুরুতেই চাপে পড়ে গেল যুবা টাইগাররা। ‘বি’ গ্রুপে বাংলাদেশের অন্য দুই প্রতিপক্ষ শ্রীলঙ্কা ও মালয়েশিয়া। আগামী শনিবার (৭ নভেম্বর) শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ। ৯ নভেম্বর গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে প্রতিপক্ষ মালয়েশিয়া।

খেলাধুলা থেকে আরও পড়ুন
আরও সংবাদ লোড হচ্ছে...