নাইক্ষ্যংছড়িতে ৯৯৯ নম্বরে ফোন পেয়ে গিয়ে হামলার শিকার পুলিশ, অস্ত্রসহ আটক ২

জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ আসা একটি অভিযোগের তদন্তে গিয়ে বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়িতে হামলার শিকার হয়েছেন পুলিশ সদস্যরা। দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের মারধর এবং তাদের সঙ্গে থাকা সরকারি সরঞ্জাম ভাঙচুর করার অভিযোগ উঠেছে। এ সময় রামদা নিয়ে পুলিশকে ধাওয়া করার ঘটনাও ঘটে।
পুলিশ সূত্র জানায়, প্রাপ্ত অভিযোগের সত্যতা যাচাই ও আইনি পদক্ষেপ নিতে পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে সেখানে চরম উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। অভিযুক্ত ব্যক্তিরা শুরু থেকেই পুলিশের কাজে বাধা দেন এবং অসদাচরণ করতে থাকেন। একপর্যায়ে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে পুলিশ সদস্যদের মারধর করেন এবং পুলিশের সঙ্গে থাকা সরঞ্জাম ভাঙচুর করেন।
পরিস্থিতি প্রতিকূল হয়ে উঠলে দিলনূর বেগম ও তাঁর ছেলে আরিয়ান ধারালো রামদা হাতে নিয়ে পুলিশ সদস্যদের দিকে মারমুখী ভঙ্গিতে এগিয়ে আসেন। অনাকাঙ্ক্ষিত বিপদ এড়াতে পুলিশ সদস্যরা দ্রুত নিরাপদ দূরত্বে সরে যান এবং বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে থানার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানান।
খবর পেয়ে নাইক্ষ্যংছড়ি থানা থেকে অতিরিক্ত পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে উপস্থিত লোকজনের সামনে জাফর আলম ও দিলনূর বেগমের হেফাজত থেকে একটি রামদা ও একটি বটি জব্দ করা হয়। একই সঙ্গে তাদের দুজনকে আটক করে থানায় নেওয়া হয়। হামলার ঘটনায় আহত পুলিশ সদস্যরা নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন।
নাইক্ষ্যংছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোজাম্মেল হক জানান, ৯৯৯-এ পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ আইনি দায়িত্ব পালন করতে ঘটনাস্থলে গিয়েছিল। সেখানে পুলিশের ওপর হামলা এবং সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার ঘটনা ঘটে। পরে বাড়তি পুলিশ পাঠিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে দুজনকে আটক করা হয়। ঘটনাটি খতিয়ে দেখে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
ওসি আরও বলেন, আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই পুলিশ মাঠে কাজ করে। সেখানে সরকারি কাজে বাধা সৃষ্টি কিংবা আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

