প্রতিষ্ঠার ৩৬ বছরেও নিরসন হয়নি কালীগঞ্জ পৌরসভার সড়ক-ড্রেন ও যনজটের

পৌর এলাকার সড়ক ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার দুরবস্থা নিয়ে ক্ষোভ রয়েছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। পথচারী কামাল হোসেন বলেন, পৌর এলাকার বিভিন্ন সড়কে চলাচল করতে গিয়ে প্রতিদিনই ভোগান্তিতে পড়তে হয়। কোথাও রাস্তা ভাঙাচোরা, আবার কোথাও বৃষ্টির পানি জমে চলাচলে সমস্যা সৃষ্টি হয়। ড্রেনেজ ব্যবস্থা ভালো না থাকায় সামান্য বৃষ্টিতেও অনেক এলাকায় পানি জমে থাকে। তিনি এসব সমস্যা সমাধানে প্রস্তাবিত উন্নয়ন প্রকল্প দ্রুত অনুমোদন ও বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন জানান।
আরেক পথচারী সুজন হোসেন বলেন, শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে যানবাহন ও মানুষের চলাচল বাড়লেও সে তুলনায় সড়ক ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন হয়নি। অনেক স্থানে সড়কের পাশে পর্যাপ্ত ড্রেন না থাকায় পানি নিষ্কাশনে সমস্যা হয়। এতে পথচারীসহ সাধারণ মানুষকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। তিনি শুধু নতুন রাস্তা নির্মাণ নয়, পুরোনো সড়ক সংস্কার এবং পরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
স্থানীয় ব্যবসায়ী আনোয়ার হোসেন বলেন, সড়কের বেহাল অবস্থা ও পানি নিষ্কাশনের সমস্যার কারণে ক্রেতাদের দোকানে আসতে অসুবিধা হয়। বৃষ্টির সময় অনেক স্থানে কাদা ও পানি জমে থাকায় ব্যবসা-বাণিজ্যও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, বাজার ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান সংলগ্ন এলাকার উন্নয়নকাজ অগ্রাধিকার দিয়ে দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য তিনি পৌর কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রতি আহ্বান জানান।
প্রবীণ সাংবাদিক আনোয়ারুল ইসলাম রবি বলেন, একটি পৌরসভার উন্নয়ন শুধু রাস্তা নির্মাণের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে হবে না। পরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা, সড়কবাতি, বাজার ও নাগরিক সুবিধার সমন্বিত উন্নয়ন প্রয়োজন। কালীগঞ্জ পৌরসভা প্রতিষ্ঠার ৩৬ বছর পার করলেও শহরের অবকাঠামোগত উন্নয়নে আরও পরিকল্পিত উদ্যোগ দরকার। প্রস্তাবিত প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও কাজের মান নিশ্চিত করার পাশাপাশি দ্রুত অনুমোদনের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে তিনি আবেদন জানান।
কালীগঞ্জ পৌরসভার প্রকৌশলী কবির হাচান এশিয়া পোস্টকে বলেন, পৌরসভার উন্নয়নে ৪৫টি অগ্রাধিকারভিত্তিক প্রকল্পের তালিকা তৈরি করে গত ১৭ সেপ্টেম্বর আবেদন করা হয়েছে। এর মধ্যে সাতটি প্রকল্পের সংক্ষিপ্ত তালিকা করা হয়েছে। প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হলে পৌর এলাকার সড়ক যোগাযোগ ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন হবে। তিনি জানান, প্রকল্পগুলোর অনুমোদন ও বাস্তবায়নের পরবর্তী কার্যক্রম সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।
উল্লেখ্য, কালীগঞ্জ পৌরসভা ১৯৯০ সালের ১৪ মার্চ প্রতিষ্ঠিত হয়। পরে ২০১০ সালের ৬ এপ্রিল এটি প্রথম শ্রেণির পৌরসভায় উন্নীত হয়। দীর্ঘদিনের নাগরিক সমস্যা সমাধানে প্রস্তাবিত প্রকল্পগুলোর দ্রুত অনুমোদন ও বাস্তবায়নের অপেক্ষায় রয়েছেন পৌরবাসী।

