সচিবের মৃত্যুতে স্থবির ইউপি কার্যক্রম, ভোগান্তিতে মানুষ

চেয়ারম্যান নেই, ইউনিয়ন পরিষদের সচিবও মারা গেছেন। দায়িত্বে থাকা প্রশাসকের নিয়মিত উপস্থিতিও নেই। চেয়ারম্যানের কক্ষে তালা, বন্ধ উদ্যোক্তার কক্ষও। মেম্বারদের জন্য নির্ধারিত হলঘর খোলা থাকলেও সেখানে নেই কোনো জনপ্রতিনিধি। ফলে জন্মনিবন্ধন, মৃত্যুসনদ, নাগরিকত্ব সনদ ও বিভিন্ন প্রত্যয়নপত্র নিতে এসে দিনের পর দিন অপেক্ষা করেও সেবা পাচ্ছেন না রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার ৪ নম্বর ভাল্লুকগাছি ইউনিয়ন পরিষদের বাসিন্দারা।
সম্প্রতি ইউনিয়ন পরিষদটিতে সরেজমিনে গিয়ে এমন চিত্র দেখা গেছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের কক্ষে ঝুলছে তালা। মেম্বারদের জন্য নির্ধারিত হলঘর খোলা থাকলেও সেখানে কোনো সদস্যকে পাওয়া যায়নি। উদ্যোক্তার কক্ষও ছিল তালাবদ্ধ। পরিষদের ভেতরে ছিলেন একজন হিসাব সহকারী ও দুজন গ্রাম পুলিশ। আর বাইরে কয়েকজন সেবাগ্রহীতা প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের জন্য অপেক্ষা করছিলেন।
ধোকড়াকুল এলাকার বাসিন্দা আব্দুল নুর কলেজে ভর্তির জন্য নাগরিকত্ব সনদ নিতে তিন দিন ধরে ইউনিয়ন পরিষদে ঘুরছেন। বুধবারও পরিষদে গিয়ে সনদ না পেয়ে ফিরে যান তিনি।
আব্দুল নুর বলেন, ‘কলেজে ভর্তির জন্য নাগরিকত্ব সনদ প্রয়োজন। তিন দিন ধরে পরিষদে আসছি। কিন্তু সনদ পাচ্ছি না। কবে পাব, সেটিও কেউ বলতে পারছেন না।’
ভোটার হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় প্রত্যয়নপত্র ও নাগরিকত্ব সনদ নিতে পরিষদে এসেছিলেন আফসানা মিমি। প্রয়োজনীয় সেবা না পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তাকেও ফিরে যেতে হয়।
সেবাগ্রহীতাদের অভিযোগ, কয়েক দিন ধরেই ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রম অনেকটা স্থবির। জরুরি প্রয়োজনে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ করতে তাদের একাধিকবার পরিষদে আসতে হচ্ছে। এতে সময় ও অর্থ—দুটিই অপচয় হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, দ্রুত ইউনিয়ন পরিষদে নতুন সচিব নিয়োগ বা বিকল্প জনবলের ব্যবস্থা করতে হবে। পাশাপাশি দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রশাসককে নিয়মিত পরিষদে উপস্থিত থেকে কার্যক্রম তদারক করতে হবে। জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট সেবাদানকারীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করে নাগরিক সেবা স্বাভাবিক করারও দাবি জানিয়েছেন তারা।
নাগরিকদের প্রশ্ন, চেয়ারম্যান না থাকলেও প্রশাসনিক ব্যবস্থায় ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রম চালু রাখার কথা। কিন্তু সচিবের মৃত্যুর পর বিকল্প জনবল দিয়ে সেবা কার্যক্রম চালু রাখার ব্যবস্থা না থাকলে সাধারণ মানুষ যাবেন কোথায়?
ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসকের দায়িত্বে থাকা পুঠিয়া উপজেলা যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের কর্মকর্তা মো. রুহুল আমিন বলেন, ‘আমি কখনো কাউকে হয়রানি করি না। তবে সচিব মারা যাওয়ার পর একটু সমস্যা হচ্ছে। তা ছাড়া অসুস্থ হয়ে পড়ায় পরিষদে যেতে পারিনি।’
পরিষদের উদ্যোক্তা মিঠুন ইসলামের অনুপস্থিতির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি ইউনিয়ন পরিষদে না থাকলেও পরিষদের কাজে ব্যস্ত ছিলাম।’

