লোগো
Advertisement

মরিয়মের মৃত্যুর মামলা: এমপি গাজী নজরুলের ৪ দিন, প্রথম স্ত্রীর ১ দিনের রিমান্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:১৩ এএম
Advertisement

দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনকে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে করা মামলায় সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। একই মামলায় তাঁর প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলামের এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়েছে।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এহসানুল ইসলামের আদালত শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।

এর আগে দুপুর ২টা ২২ মিনিটের দিকে একটি সাদা মাইক্রোবাসে করে গাজী নজরুল ইসলাম ও মাকছুদা ইসলামকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের হাজতখানায় নেওয়া হয়। পরে তাঁদের আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শেরেবাংলা নগর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শামসুদ্দোহা সরকার।

শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষে পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী রিমান্ডের পক্ষে বক্তব্য দেন। অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা তাঁদের জামিনের আবেদন করেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত গাজী নজরুলের চার দিন এবং মাকছুদা ইসলামের এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

রিমান্ড চাওয়ার পাঁচ কারণ

রাষ্ট্রপক্ষের রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, মরিয়ম খাতুন যখন ফাঁস দিয়ে মারা যান, তখন একই বাসায় মামলার এজাহারভুক্ত আসামিরা ছিলেন। ফলে তাঁর মৃত্যুর ঘটনায় তাঁদের কোনো প্রভাব ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

এ ছাড়া মরিয়মকে আত্মহত্যায় প্ররোচনা, উসকানি, মানসিক চাপ বা ভয়ভীতি দেখানো কিংবা অন্য কোনোভাবে আত্মহত্যায় সহায়তা করা হয়েছিল কি না, সে বিষয়েও আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়।

মামলার পলাতক আসামি ওবায়দুর রহমানের ভূমিকা এবং তাঁর অবস্থান শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের বিষয়টিও রিমান্ড আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি ঘটনায় অজ্ঞাতনামা অন্য কেউ জড়িত আছে কি না এবং মামলার মূল রহস্য উদঘাটনের জন্য আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন বলে রাষ্ট্রপক্ষ জানায়।

এসব কারণ দেখিয়ে তদন্তের স্বার্থে সাত দিনের পুলিশ রিমান্ড চাওয়া হয়েছিল। তবে শুনানি শেষে আদালত গাজী নজরুলের চার দিন এবং মাকছুদা ইসলামের এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

মরিয়মের বাবার মামলা

মরিয়ম খাতুনের মৃত্যুর ঘটনায় সোমবার শেরেবাংলা নগর থানায় মামলা করেন তাঁর বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ। মামলায় সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম, তাঁর প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলাম এবং গাড়িচালক ওবায়দুর রহমানকে আসামি করা হয়েছে।

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, গত জুনে ইসলামী শরিয়াহ অনুযায়ী গাজী নজরুল ইসলামের সঙ্গে মরিয়মের বিয়ে হয়। নজরুল শেরেবাংলা নগর থানা এলাকার মানিক মিয়া অ্যাভিনিউসংলগ্ন ন্যাম ভবনের ৫ নম্বর ভবনের ২০৩ নম্বর ফ্ল্যাটে বসবাস করতেন। একই বাসায় তাঁর প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলামও থাকতেন।

এজাহারে মরিয়মের পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, বিয়ের পর থেকেই বিভিন্ন বিষয় নিয়ে নজরুল ইসলাম ও মাকছুদা ইসলাম মরিয়মকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করতেন। এ বিষয়ে মরিয়ম বিভিন্ন সময়ে মুঠোফোনে তাঁর পরিবারের সদস্যদের জানিয়েছিলেন বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

যেভাবে উদ্ধার হয় মরিয়মের মরদেহ

এজাহারের তথ্য অনুযায়ী, ২০ সেপ্টেম্বর বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে গাজী নজরুল ইসলাম ফোন করে মরিয়মের বাবাকে দ্রুত বাসায় যেতে বলেন। পরে তিনি মরিয়মের খালা সুফিয়াকে সঙ্গে নিয়ে ন্যাম ভবনের ওই ফ্ল্যাটে যান। সেখানে গিয়ে তাঁরা লোকজনের ভিড় দেখতে পান।

কক্ষের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ ছিল। জানালা দিয়ে ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচানো অবস্থায় মরিয়মকে ঝুলতে দেখা যায়। পরে পুলিশের উপস্থিতিতে গণপূর্ত বিভাগের কর্মী সাইদুল ইসলাম সাবল দিয়ে দরজা ভেঙে কক্ষে প্রবেশ করেন।

পুলিশ ঘটনাস্থলে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির পর মরিয়মের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়।

হাতে লেখা চিঠি উদ্ধারের দাবি

মামলার এজাহারে আরও বলা হয়েছে, মরিয়মের বিছানা থেকে একটি হাতে লেখা চিঠি উদ্ধার করা হয়েছে। ওই চিঠিতে বিশ্বাসভঙ্গ, মানসিক কষ্ট এবং সম্পর্কের টানাপোড়েনের বিষয় উল্লেখ ছিল বলে পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।

পরিবারের অভিযোগ, গাড়িচালক ওবায়দুর রহমানের প্ররোচনায় মরিয়মের সঙ্গে গাজী নজরুল ইসলামের বিয়ে হয়। পরে নজরুল ইসলাম ও তাঁর প্রথম স্ত্রীর নির্যাতন এবং অন্য আসামিদের প্ররোচনার কারণে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে মরিয়ম আত্মহত্যার পথ বেছে নেন।

তবে এসব অভিযোগের সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে। মামলার তদন্ত ও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন সামনে এলে মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে আরও স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যেতে পারে।

আরও সংবাদ লোড হচ্ছে...