মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ২৬ সামরিক ঘাঁটিতে ইরানের হামলা, ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির দাবি

ইরানের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত শত শত স্থাপনা
এপির বিশ্লেষণে আট মাসের সংঘাতে ইরানের পাল্টা হামলার ধরন এবং মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোর ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত চিত্র উঠে এসেছে। পেন্টাগনের ইন্সপেক্টর জেনারেলসহ বিভিন্ন স্বাধীন পর্যালোচনাতেও এ বিষয়ে তথ্য পাওয়া গেছে।
বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ১ এপ্রিল থেকে ৩০ জুনের মধ্যে ইরানের হামলায় মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোর শত শত ভবন ও অন্যান্য স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত অথবা ধ্বংস হয়েছে।
যুদ্ধের প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির হিসাব নির্ধারণে স্যাটেলাইট চিত্র গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কারণ, ট্রাম্প প্রশাসন ও মার্কিন সামরিক বাহিনী জনবল এবং সামরিক সরঞ্জামের ক্ষয়ক্ষতি সম্পর্কে খুব বেশি তথ্য প্রকাশ করেনি। এমনকি স্যাটেলাইট চিত্র প্রকাশে বিলম্বের মতো পদক্ষেপের কারণে স্বাধীনভাবে ক্ষয়ক্ষতি যাচাই করাও কঠিন হয়ে পড়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক অভিযান পরিচালনাকারী সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) ঘাঁটি ও সামরিক সরঞ্জামের ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে এপির কাছে কোনো মন্তব্য করেনি। তারা সাধারণত সামরিক গোপনীয়তা ও অপারেশনাল নিরাপত্তার বিষয়টি সামনে রেখে এ ধরনের তথ্য প্রকাশ থেকে বিরত থাকে।
তবে পেন্টাগনের মুখপাত্র শন পার্নেল দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সেনা ও সামরিক স্থাপনাগুলো সুরক্ষিত রয়েছে এবং দেশটির সামরিক বাহিনী আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় শক্তিশালী।
এপিকে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ইরান যাতে কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে না পারে, তা নিশ্চিত করতে সেন্টকমের অধীন মার্কিন সেনাসদস্যদের কার্যক্রম অব্যাহত রাখার জন্য প্রয়োজনীয় সবকিছু রয়েছে।
কুয়েতের সামরিক ঘাঁটিতে সবচেয়ে বেশি হামলা
স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণে দেখা গেছে, মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন স্থাপনাগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি হামলার শিকার হয়েছে কুয়েতের ঘাঁটিগুলো। এ ছাড়া বাহরাইন, ইরাক, জর্ডান, ওমান, কাতার, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিভিন্ন মার্কিন স্থাপনাও ইরানের লক্ষ্যবস্তু হয়েছে।
যুদ্ধ চলাকালে মার্কিন সেনাদের ওপর সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলাটি হয়েছিল কুয়েতে। ১ মার্চ পোর্ট শুয়াইবায় ড্রোন হামলায় ছয় মার্কিন সেনা নিহত হন।
কুয়েতের আলি আল সালেম বিমানঘাঁটিতে অন্তত ৩০ বার হামলা চালানো হয়। এসব হামলায় ১৫টির বেশি বিমান রাখার হ্যাঙ্গার, কয়েকটি গুদাম এবং আবাসিক এলাকার কাছাকাছি ১০টি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে।
একই দেশের ক্যাম্প বুয়েরিংয়ে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ছিল আরও বেশি। ইরানের হামলায় সেখানকার অধিকাংশ হ্যাঙ্গার ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। মার্চে ঘাঁটির একটি জিমনেসিয়াম ধ্বংস হয়। জুলাইয়ের শেষ দিকে সেনাসদস্যদের কেনাকাটার একটি দোকানেও হামলা চালানো হয়।
আঞ্চলিক দুই কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ওই ঘাঁটির গাড়ি রাখার গ্যারেজ ও খাবারঘরও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির সংবেদনশীল তথ্য প্রকাশের কারণে নাম প্রকাশ না করার শর্তে তারা এপিকে এসব তথ্য দেন।

