নির্বাচনে ভরাডুবির পর রিপাবলিকান নেতৃত্ব ছাড়ছেন প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার জনসন

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির বড় ধরনের পরাজয়ের পর দলীয় নেতৃত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার মাইক জনসন। বুধবার (৪ নভেম্বর) তার মুখপাত্র বার্তা সংস্থা এএফপিকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্সের পর যুক্তরাষ্ট্রের রিপাবলিকান নেতৃত্বে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে রয়েছেন জনসন। দেশটির সাংবিধানিক উত্তরাধিকার ব্যবস্থায় প্রেসিডেন্ট ও ভাইস প্রেসিডেন্টের পর তার অবস্থান।
ওয়াশিংটন থেকে এএফপি জানায়, জনসনের নেতৃত্ব ছাড়ার খবরের সত্যতা জানতে চাইলে তার মুখপাত্র ই-মেইলে ‘সঠিক’ বলে জবাব দেন।
৫৪ বছর বয়সী লুইজিয়ানার এই রিপাবলিকান নেতা বুধবার সকালে নিজের সিদ্ধান্তের কথা দলের কর্মীদের জানান। এর আগের দিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে পরাজয়ের ফলে কংগ্রেসের প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট; উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ হারায় রিপাবলিকান পার্টি। নির্বাচনের ফলকে ট্রাম্প প্রশাসন ও তাদের নীতির প্রতি ভোটারদের অনাস্থার প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকদের অনেকে।
২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকারের দায়িত্ব পালন করছেন জনসন। তৎকালীন স্পিকার কেভিন ম্যাকার্থিকে অপসারণের পর রিপাবলিকানদের অভ্যন্তরীণ বিরোধের অবসানে আপসের ভিত্তিতে তাকে এ পদে নির্বাচিত করা হয়েছিল।
মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদে রিপাবলিকানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখতে ব্যাপক প্রচার চালিয়েছিলেন জনসন। এমনকি ডেমোক্র্যাটরা নিয়ন্ত্রণ নিলেও দলের নেতৃত্বে থাকার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন তিনি। তবে সংখ্যালঘু দলের নেতা হওয়ার প্রতিযোগিতা থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়ায় এখন তার উত্তরসূরি নির্বাচনের পথ তৈরি হয়েছে।
এ পদে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন প্রতিনিধি পরিষদের বর্তমান সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা স্টিভ স্ক্যালিস এবং বিচার বিভাগবিষয়ক কমিটির চেয়ারম্যান জিম জর্ডান। দুজনই রক্ষণশীল রাজনীতির অনুসারী এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সমর্থক।

