আলমডাঙ্গায় পরকীয়ায় বাধা ও যৌতুক না পেয়ে গৃহবধূকে পিটিয়ে জখম, থানায় অভিযোগ

চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় স্বামীর পরকীয়ায় বাধা এবং নতুন করে যৌতুকের টাকা এনে দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় মোছা. সামসুন্নাহার (৫০) নামের এক গৃহবধূকে পিটিয়ে রক্তাক্ত জখম করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্বামী, ভাসুর ও পরকীয়া প্রেমিকাকে অভিযুক্ত করে আলমডাঙ্গা থানায় একটি লিখিত এজাহার জমা দিয়েছেন ভুক্তভোগী ওই নারী।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১৮ বছর আগে আলমডাঙ্গা উপজেলার ওসমানপুর এলাকার মৃত সহিদুল ইসলামের ছেলে মো. সোহাগ মাহমুদের (৩৮) সঙ্গে পারিবারিকভাবে সামসুন্নাহারের বিয়ে হয়। দীর্ঘ দাম্পত্য জীবনে তাঁদের এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। বিয়ের পর বেশ কয়েক বছর সংসার নির্বিঘ্নে কাটলেও গত প্রায় এক বছর ধরে স্বামী সোহাগ মাহমুদ ও ভাসুর শাহিন আলী (৪২) বিভিন্ন অজুহাতে যৌতুকের দাবিতে তাঁর ওপর মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন চালাচ্ছিলেন। নির্যাতন থেকে মেয়েকে বাঁচাতে সামসুন্নাহারের বাবা এর আগে কয়েক দফায় জামাতাকে পাঁচ লাখ টাকা দেন।
ভুক্তভোগী ও স্থানীয়রা জানান, সম্প্রতি সোহাগ মাহমুদ কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার পাগলা এলাকার মোছা. মুসলিমা খাতুন (৩০) নামের এক নারীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। সামসুন্নাহার স্বামীর এই পরকীয়ার প্রতিবাদ করলে তাঁর ওপর নির্যাতনের মাত্রা আরও বেড়ে যায়।
এরই ধারাবাহিকতায় গত ১৫ অক্টোবর সকাল ৮টার দিকে সোহাগ মাহমুদ ফের বাবার বাড়ি থেকে চার লাখ টাকা যৌতুক এনে দিতে স্ত্রীকে চাপ দেন। সামসুন্নাহার এতে অপারগতা প্রকাশ করলে সোহাগ ও তাঁর ভাই শাহিন আলী ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। তাঁরা গৃহবধূকে মারধর শুরু করেন এবং একপর্যায়ে মাটিতে ফেলে পেটে উপুর্যপরি লাথি মারেন। একই সঙ্গে তাঁর বুক ও পিঠে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি মেরে রক্তাক্ত জখম করা হয়। পরে হত্যার হুমকি দিয়ে তাঁকে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হয়।
মারধরের শিকার সামসুন্নাহারকে স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত উদ্ধার করে আলমডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে (হারদী হাসপাতাল) নিয়ে ভর্তি করান। সেখানে চিকিৎসা গ্রহণ শেষে স্বজনদের সঙ্গে পরামর্শ করে তিনি আলমডাঙ্গা থানায় যান। পরে স্বামী সোহাগ মাহমুদ, ভাসুর শাহিন আলী এবং পরকীয়া প্রেমিকা মুসলিমা খাতুনকে অভিযুক্ত করে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন ভুক্তভোগী গৃহবধূ।

