সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬
চুয়াডাঙ্গা ডট নেট
শিরোনাম
বিজ্ঞাপন

আলমডাঙ্গায় ডিবি পরিচয়ে মাছ ব্যবসায়ীকে তুলে নিয়ে মারধর, কৌশলে রক্ষা

নিজস্ব প্রতিবেদক২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০১:০১ পিএম
আলমডাঙ্গায় ডিবি পরিচয়ে মাছ ব্যবসায়ীকে তুলে নিয়ে মারধর, কৌশলে রক্ষা

চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) পরিচয়ে এক মাছ ব্যবসায়ীকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে নির্জন বাগানে বেধড়ক মারপিটের অভিযোগ পাওয়া গেছে। পরে অপহরণকারীদের কাছ থেকে কোনোমতে পালিয়ে রক্ষা পান তিনি। গুরুতর অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

মঙ্গলবার সন্ধ্যার দিকে আলমডাঙ্গা উপজেলার আইলহাঁস ইউনিয়নের খাসবাগন্দা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী খোকন আলী (৪০) ওই গ্রামের মৃত জুলমত আলীর ছেলে। তিনি পেশায় একজন মাছ ব্যবসায়ী এবং বর্তমানে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন খোকন আলী জানান, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বাজারে মাছ বিক্রি শেষে তিনি বাড়ির দিকে যাচ্ছিলেন। মাগরিবের আজানের কিছুক্ষণ পর, সন্ধ্যা আনুমানিক ৬টা ১০ মিনিটের দিকে তিনটি মোটরসাইকেলে করে ছয়জন ব্যক্তি এসে তাঁর পথরোধ করেন। নিজেদের ডিবি পুলিশের সদস্য দাবি করে তাঁরা জানান, খোকনের নামে মামলা রয়েছে এবং তাঁকে এখনই থানায় যেতে হবে।

খোকন আলী বাড়িতে স্বজনদের বিষয়টি জানাতে এবং সঙ্গে থাকা মোবাইল ফোন আনার অনুরোধ করলেও ওই ব্যক্তিরা কোনো সুযোগ দেননি। একপর্যায়ে তাঁকে জোর করে মোটরসাইকেলে তুলে নেওয়া হয়। চলন্ত অবস্থায় তাঁর মুখে কালো কাপড় বেঁধে মাথায় একটি হেলমেট পরিয়ে দেয় তারা।

কিছুক্ষণ পর মোটরসাইকেল থামিয়ে একটি অজানা স্থানে নিয়ে তাঁকে বেধড়ক মারধর শুরু করা হয়। মারপিটের একপর্যায়ে খোকন আলীর মাথা থেকে হেলমেটটি কিছুটা সরে যায়। চোখ মেলে তিনি বুঝতে পারেন চারপাশ বড় বড় আমবাগানে ঘেরা নির্জন এলাকা। সুযোগ বুঝে তিনি এক অপহরণকারীকে সজোরে লাথি মেরে ফেলে দিয়ে দৌড় দেন। অন্ধকারে দূরে একটি আলোর সন্ধান পেয়ে সেদিকে ছুটতে থাকেন। সেখানে পৌঁছালে দুজন স্থানীয় ব্যক্তির দেখা পান এবং পুরো ঘটনা খুলে বলেন। তাঁদের চিৎকারে আশপাশের লোকজন জড়ো হয়ে খোকনকে উদ্ধার করেন।

পরে স্থানীয়রা তাঁকে দ্রুত দামুড়হুদা উপজেলার চিৎলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা হাসপাতালে গিয়ে তাঁকে রাতেই বাড়ি ফিরিয়ে আনেন। তবে পরদিন বুধবার সকালে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

ভুক্তভোগীর ভাই হুমায়ুন জানান, ঘটনার খবর পাওয়া মাত্রই তিনি ঘটনাস্থলের উদ্দেশে ছুটে গিয়েছিলেন। তাঁর ভাইয়ের সঙ্গে কারও কোনো ধরনের শত্রুতা বা বিরোধ ছিল না বলে তিনি দাবি করেন। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ হিসেবে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন তাঁরা।

এ বিষয়ে আলমডাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ রাকিবুল ইসলাম জানান, মৌখিকভাবে বিষয়টি তাঁরা শুনেছেন। তবে এখনো পর্যন্ত ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আঞ্চলিক সংবাদ থেকে আরও পড়ুন
আরও সংবাদ লোড হচ্ছে...