লোগো
Advertisement

অধিকাংশ সরকারি কর্মকর্তা চোর: স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ

নিজস্ব প্রতিবেদক ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:০৪ পিএম
Advertisement

জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেছেন, দেশের অধিকাংশ সরকারি কর্মকর্তা ঘুষ ও দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত। তাদের অনিয়ম, ঘুষখোরি ও লুটপাটের কারণে সাধারণ মানুষের জীবনে নাভিশ্বাস উঠেছে।

রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলা অডিটোরিয়ামে বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে বাংলাদেশের কোষাগার লুণ্ঠন করেছে। বিদেশি সহায়তা থেকে শুরু করে রাষ্ট্রীয় অর্থের বড় একটি অংশ তারা চুরি করে বিদেশে পাচার করেছে। এমনকি বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকেও অর্থ চুরি করে ফিলিপাইনে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ওই ঘটনায় ফিলিপাইনে জড়িত ব্যক্তিদের কারও কারও কারাদণ্ড হলেও বাংলাদেশে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কার্যকর বিচার হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।

দেশের দুর্নীতির প্রসঙ্গ তুলে স্পিকার বলেন, ‘আমাদের অদ্ভুত দেশ! অধিকাংশ সরকারি কর্মকর্তা চোর।’ তিনি অভিযোগ করেন, সরকারি বিভিন্ন দপ্তরে ঘুষ, অনিয়ম ও লুটপাটের কারণে সাধারণ মানুষ নানা ধরনের ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।

তিনি বলেন, বিশ্বের অনেক দেশে অন্যায়-অবিচারের বিচার জনগণের দাবির অপেক্ষা না করেই হয়। কিন্তু বাংলাদেশে বছরের পর বছর মানুষ বিচার চাইলেও অনেক অপরাধের যথাযথ বিচার হচ্ছে না।

আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদের নামে লন্ডনে বিপুলসংখ্যক বাড়ির তথ্য পাওয়া গেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া দুবাই ও যুক্তরাষ্ট্রেও তার সম্পদ থাকার কথা উল্লেখ করেন তিনি। এসব সম্পদ বাংলাদেশের জনগণের অর্থ লুট করে বিদেশে নেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন স্পিকার।

প্রশাসনে আওয়ামী লীগ আমলের লোকজন এখনো গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় রয়েছেন দাবি করে তিনি বলেন, এ কারণে রাষ্ট্রের প্রকৃত চিত্র জনগণের সামনে পুরোপুরি তুলে ধরা সম্ভব হচ্ছে না।

প্রতিবেশী দেশের প্রসঙ্গ তুলে স্পিকার বলেন, বাংলাদেশ ভালো থাকুক—এটা প্রতিবেশী রাষ্ট্র চায় না। তারা বাংলাদেশকে একটি করদ রাজ্যে পরিণত করার চেষ্টা করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তার দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের ১৬-১৭ বছরের শাসনামলে বাংলাদেশের মানুষের স্বার্থের পরিবর্তে প্রতিবেশী রাষ্ট্রের স্বার্থকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে এবং বেশ কিছু অসম চুক্তি করা হয়েছে, যার কারণে বাংলাদেশের স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

চট্টগ্রাম বন্দর ব্যবহারের প্রসঙ্গ তুলে হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ভারতীয় জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে এলে অন্য জাহাজ, এমনকি বাংলাদেশের জাহাজও সরিয়ে রেখে আগে ভারতীয় জাহাজের পণ্য খালাসের সুযোগ দেওয়া হয় বলে তিনি অভিযোগ করেন। এতে দেশের আমদানিকারকেরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন বলেও দাবি করেন তিনি।

এ ছাড়া ভারতের পণ্য বাংলাদেশের ভূখণ্ড ব্যবহার করে পরিবহনের ক্ষেত্রেও যথাযথ শুল্ক আদায় করা হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন স্পিকার। তার ভাষ্য, বিনা শুল্কে বা নামমাত্র শুল্কে এসব পণ্য পরিবহনের সুযোগ দেওয়ায় বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা ক্ষতির মুখে পড়ছেন।

সীমান্ত হত্যার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, প্রতিবেশী দেশের সীমান্তে প্রতিদিন বাংলাদেশি নাগরিকদের হত্যা ও আহত করার ঘটনা ঘটছে। অথচ পাকিস্তানের সঙ্গে ভারতের সীমান্ত থাকলেও সেখানে এমন পরিস্থিতি দেখা যায় না বলে মন্তব্য করেন তিনি।

মতবিনিময় সভায় বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

আরও সংবাদ লোড হচ্ছে...