মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬
চুয়াডাঙ্গা ডট নেট
শিরোনাম
বিজ্ঞাপন

টানা অবরোধে স্থবির খাগড়াছড়ি, পর্যটন খাতে ধস

নিজস্ব প্রতিবেদক০২ নভেম্বর ২০২৬, ০২:১৮ পিএম
টানা অবরোধে স্থবির খাগড়াছড়ি, পর্যটন খাতে ধস

পার্বত্য যানবাহন মালিক সমিতির সভাপতি আয়ুশ চাকমা জানান, খাগড়াছড়িতে পিকআপ, জিপ, সাফারি গাড়ি, সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও মাহিন্দ্র মিলিয়ে অন্তত ৪০০ থেকে ৫০০টি যানবাহন সাজেকে চলাচল করে। টানা অবরোধের কারণে এসব যানবাহন বসে আছে। পর্যটক না থাকায় চালক ও সংশ্লিষ্ট কর্মীরাও কর্মহীন হয়ে পড়েছেন।

পর্যটনসংশ্লিষ্টদের দাবি, হোটেল, রেস্তোরাঁ ও পরিবহনসহ পর্যটনকেন্দ্রিক ব্যবসা-বাণিজ্যে প্রতিদিন বিপুল আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে।

সাজেক বন্ধ থাকায় খাগড়াছড়ির পর্যটনশিল্পে আশানুরূপ পর্যটকের দেখা মিলছে না। ছবিটি আজ সকালে জেলা পরিষদ হর্টিকালচার পার্ক থেকে তোলা। ছবি: আজকের পত্রিকা
সাজেক বন্ধ থাকায় খাগড়াছড়ির পর্যটনশিল্পে আশানুরূপ পর্যটকের দেখা মিলছে না। ছবিটি আজ সকালে জেলা পরিষদ হর্টিকালচার পার্ক থেকে তোলা। ছবি: আজকের পত্রিকা

খাগড়াছড়ি শহরের শাপলা চত্বর এলাকার মনটানা রেস্তোরাঁর মালিক মো. জিয়া বলেন, সাজেক বন্ধ হওয়ার পর প্রতিদিন ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা লোকসান হচ্ছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে রেস্তোরাঁ বন্ধ করে দিতে হবে।

খাগড়াছড়ির অন্যতম হোটেল গাইরিংয়ের ব্যবস্থাপক প্রান্ত ত্রিপুরা বলেন, সাজেক বন্ধ থাকায় তাঁদের হোটেলের অর্ধেকের বেশি কক্ষ খালি পড়ে আছে। হোটেলে অতিথি নেই বললেই চলে।

পার্বত্য জেলা পরিষদ হর্টিকালচার পার্কের কর্মচারী মনতোষ ত্রিপুরা বলেন, পর্যটকের অভাবে পার্কের জিপ লাইন ও জায়ান্ট সুইং বন্ধ রয়েছে। সাজেক বন্ধ থাকায় ১০ দিন ধরে কোনো পর্যটক আসছেন না।

খাগড়াছড়ি শহরের জুমলাইন মার্কেটের মালিক রিটন চাকমা বলেন, সাজেকে ঘুরতে যাওয়া পর্যটকদের ওপর তাঁদের ব্যবসা নির্ভরশীল। স্থানীয়দের মধ্যে তাঁদের নিজস্ব টেক্সটাইলের পোশাকের চাহিদা কম। সাজেক বন্ধ থাকায় খাগড়াছড়িতে পর্যটক নেই বললেই চলে। এক সপ্তাহ ধরে কোনো বেচাকেনা নেই। দোকান খুলে সারা দিন বসে থাকলেও ক্রেতা পাওয়া যাচ্ছে না।

সাজেক বন্ধ থাকায় খাগড়াছড়ির পর্যটনশিল্পে আশানুরূপ পর্যটকের দেখা মিলছে না। ছবিটি আজ সকালে জেলা পরিষদ হর্টিকালচার পার্ক থেকে তোলা। ছবি: আজকের পত্রিকা
সাজেক বন্ধ থাকায় খাগড়াছড়ির পর্যটনশিল্পে আশানুরূপ পর্যটকের দেখা মিলছে না। ছবিটি আজ সকালে জেলা পরিষদ হর্টিকালচার পার্ক থেকে তোলা। ছবি: আজকের পত্রিকা

খাগড়াছড়ি পর্যটন মোটেলের ব্যবস্থাপক ক্যাচিং মারমা বলেন, জেলার অধিকাংশ ব্যবসা-বাণিজ্য পর্যটনকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে। খাগড়াছড়িকেন্দ্রিক পর্যটনের বিকাশে দ্রুত উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। পর্যটকের ঘাটতি দেখা দিলেই ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হন। এ অবস্থা দীর্ঘদিন চলতে থাকলে অনেক ব্যবসায়ী আরও ক্ষতির মুখে পড়বেন।

জেলা পরিষদ হর্টিকালচার পার্কের উপসহকারী কর্মকর্তা কান্তি বিকাশ ত্রিপুরা বলেন, সাজেক ভ্যালি বন্ধ থাকায় হর্টিকালচার পার্কে পর্যটক আসছেন না। পার্কের বিভিন্ন দায়িত্বে ২১ জন কর্মী কাজ করেন। পর্যটক না থাকায় তাঁদের বেতন-ভাতাসহ অন্যান্য ব্যয় চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে।

সারাদেশ থেকে আরও পড়ুন
আরও সংবাদ লোড হচ্ছে...