চুয়াডাঙ্গার দর্শনায় অনলাইন জুয়ার বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে দুই কথিত এজেন্টকে আটক করেছে পুলিশ। এ সময় তাদের কাছ থেকে চারটি স্মার্টফোন ও একটি প্রাইভেটকার জব্দ করা হয়।
আটকরা হলেন দামুড়হুদা উপজেলার বিষ্ণুপুর গ্রামের মো. জহির উদ্দিনের ছেলে মো. রকিবুল হোসেন (২৬) এবং চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার খেজুরতলা গ্রামের মৃত আব্দুল লতিফের ছেলে মো. রিয়াদ সোহান (৩২)।
পুলিশের ভাষ্য, আটক দুজন বিভিন্ন মোবাইল অ্যাপ, ক্রিপ্টোকারেন্সি লেনদেনের প্ল্যাটফর্ম Binance, বিভিন্ন VPN ও Telegram ব্যবহার করে অনলাইন জুয়ার কার্যক্রম পরিচালনা করতেন। পাশাপাশি মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে জুয়ার অর্থ লেনদেনের সঙ্গেও তারা জড়িত ছিলেন বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তথ্য পাওয়া গেছে।
পুলিশ জানায়, চুয়াডাঙ্গার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রুহুল কবীর খানের সার্বিক দিকনির্দেশনায় এবং দর্শনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নজরুল ইসলামের তত্ত্বাবধানে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। শনিবার রাতে এসআই (নি.) মো. খুরশীদ আলমের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল অভিযানে অংশ নেয়।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রাত সাড়ে ৯টার দিকে দর্শনা থানার ঈশ্বরচন্দ্রপুর দক্ষিণপাড়া গ্রামের মন্টুর চায়ের দোকানের সামনে পাকা সড়কে অভিযান চালানো হয়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে আরও ৬-৭ জন পালিয়ে যায়। তবে রকিবুল হোসেন ও রিয়াদ সোহানকে ঘটনাস্থল থেকে আটক করা হয়।
পরে সাক্ষীদের উপস্থিতিতে আটক দুজনের কাছ থেকে একটি পুরোনো সাদা রঙের টয়োটা করোল্লা প্রাইভেটকার ও চারটি স্মার্টফোন জব্দ করা হয়। জব্দ করা ফোনগুলোর মধ্যে রকিবুল হোসেনের কাছ থেকে দুটি এবং রিয়াদ সোহানের কাছ থেকেও দুটি স্মার্টফোন পাওয়া যায়।
দর্শনা থানা পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক দুজন নিজেদের অনলাইন জুয়ার এজেন্ট হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন। তারা Binance, VPN ও Telegram সহ বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে অনলাইন জুয়ার কার্যক্রম পরিচালনা এবং মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে অর্থ লেনদেন করতেন বলে পুলিশকে জানিয়েছেন।
এ ঘটনায় জব্দ করা আলামতসহ আটক দুজনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পরে তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে অভিযানের সময় পালিয়ে যাওয়া ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আটকের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।


