রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬
চুয়াডাঙ্গা ডট নেট
শিরোনাম
কচাকাটা কলেজে চার পদে নিয়োগ নিয়ে বিতর্ক, অধ্যক্ষ-সভাপতির অপসারণ দাবিপুরো উপজেলায় যমজ দুই বোন পেলেন জিপিএ-৫রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্রের মামলায় ৪ দিনের রিমান্ডে অবসরপ্রাপ্ত মেজর খন্দকার হাফিজরোগী নিয়ে হাসপাতালে ঢুকতেই দালালের ফাঁদ, ৪ জনকে কারাদণ্ডবিএনপি জাতির জন্য আপদ, এই আপদ সরাতে হবে: এ টি এম আজহারসাজেকে দ্বিতীয় দিনের মতো জেএসএস-ইউপিডিএফ গোলাগুলিপিএসসির সদস্য ড. শামীমার শপথআপনি কোথাও পালাতে পারবেন না—রামলীলা থেকে মোদিকে রাহুলের হুঁশিয়ারি১২০০ টাকা নিয়ে বিরোধে ঝিনুককে হত্যা, মরদেহ ফেলা হয় ২০০ কিমি দূরেস্বাস্থ্যসেবায় কর্মরত ডাক্তার-ফার্মাসিস্ট-নার্সদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ দেওয়া প্রয়োজন: ড. জাকির
বিজ্ঞাপন

পায়ের পেশিকে শরীরের দ্বিতীয় হার্ট বলা হয় কেন?

নিজস্ব প্রতিবেদক০১ নভেম্বর ২০২৬, ০১:২৯ পিএম
পায়ের পেশিকে শরীরের দ্বিতীয় হার্ট বলা হয় কেন?

দুর্বল কাফ মাসল কি দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যঝুঁকির ইঙ্গিত দেয়?

কাফ মাসলের পাম্পিং ক্ষমতা কমে গেলে পায়ের রক্ত সঞ্চালনে সমস্যা হওয়ার পাশাপাশি এটি সামগ্রিক শারীরিক স্বাস্থ্যের অবস্থারও ইঙ্গিত হতে পারে।

২০২০ সালে মায়ো ক্লিনিকের গবেষকেরা ২ হাজার ৭২৮ জন প্রাপ্তবয়স্কের স্বাস্থ্যসংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণ করেন। গবেষণায় দেখা যায়, যাদের কাফ মাসলের পাম্পিং কার্যকারিতা কম, তাদের পরবর্তী বছরগুলোতে মৃত্যুর ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি ছিল। ১০ বছর পর স্বাভাবিক পাম্পিং কার্যকারিতার ব্যক্তিদের মৃত্যুহার ছিল প্রায় ৬ শতাংশ। অন্যদিকে, যাদের এই কার্যকারিতা কম ছিল, তাদের ক্ষেত্রে তা ছিল প্রায় ১৮ শতাংশ।

২০২৪ সালে একই প্রতিষ্ঠানের আরেকটি গবেষণায় প্রায় ৬ হাজার রোগীর তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়। সেখানেও দেখা যায়, কাফ মাসলের মাধ্যমে রক্ত সঞ্চালনের কার্যকারিতা যত কম, মৃত্যুর ঝুঁকিও তত বেশি।

তবে গবেষণাগুলো পর্যবেক্ষণমূলক। অর্থাৎ কাফ মাসলের দুর্বলতা সরাসরি মৃত্যুর কারণ, এমন প্রমাণ পাওয়া যায়নি। বরং শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা, পেশির ক্ষয়, জয়েন্টের সমস্যা, স্নায়ু বা পেশির রোগ এবং সামগ্রিকভাবে দুর্বল স্বাস্থ্যের সঙ্গে এর সম্পর্ক থাকতে পারে।

কাফ মাসল সচল রাখবেন যেভাবে

কাফ মাসল সক্রিয় রাখতে খুব কঠোর কোনো ব্যায়ামের প্রয়োজন নেই। প্রতিদিনের কিছু সাধারণ অভ্যাসই এ ক্ষেত্রে সহায়ক হতে পারে। যেমন-

প্রতিদিন হাঁটুন

কাফ মাসল সচল রাখার সবচেয়ে সহজ উপায় হলো হাঁটা। প্রতিবার পা ফেললে পায়ের পেশি সংকুচিত হয় আর রক্তকে হৃৎপিণ্ডের দিকে ফিরতে সাহায্য করে। প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট হাঁটার অভ্যাস করতে পারেন।

প্রতি ঘণ্টায় নড়াচড়া করুন

দীর্ঘ সময় বসে কাজ করলে প্রতি ঘণ্টায় অন্তত একবার উঠে কয়েক মিনিট হাঁটুন। আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশনও দীর্ঘক্ষণ বসে না থেকে নিয়মিত উঠে হাঁটাচলার পরামর্শ দেয়।

গোড়ালি ওঠানামা করুন

বসে থাকা অবস্থায় পায়ের সামনের অংশ মেঝেতে রেখে গোড়ালি উপরে তুলুন। এরপর ধীরে ধীরে নিচে নামান। কয়েকবার এই ব্যায়াম করলে কাফ মাসল সক্রিয় হয়।

সিঁড়ি ব্যবহার করুন

সম্ভব হলে লিফটের পরিবর্তে সিঁড়ি ব্যবহার করুন। সিঁড়ি দিয়ে ওঠানামা করলে পায়ের পেশি সক্রিয় থাকে এবং শক্তি বাড়াতে সাহায্য করে।

গোড়ালি ঘোরান ও পা স্ট্রেচ করুন

দীর্ঘক্ষণ বসে থাকলে পায়ের গোড়ালি দুই দিকে ঘোরান। পাশাপাশি নিয়মিত কাফ মাসল স্ট্রেচ করার অভ্যাস করুন।

নিয়মিত শরীরচর্চা করুন

হাঁটার পাশাপাশি দৌঁড়ানো, সাইকেল চালানো ও পেশি শক্তিশালী করার ব্যায়াম করতে পারেন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরামর্শ অনুযায়ী, প্রাপ্তবয়স্কদের সপ্তাহে অন্তত ১৫০ মিনিট মাঝারি মাত্রার শারীরিক কার্যক্রম করা উচিত। পাশাপাশি সপ্তাহে দুই দিন বা তার বেশি সময় পেশি শক্তিশালী করার ব্যায়াম করতে পারেন।

পর্যাপ্ত পানি পান করুন

শরীরের স্বাভাবিক কার্যক্রম ও রক্ত সঞ্চালন বজায় রাখতে পর্যাপ্ত পানি পান করা জরুরি। পাশাপাশি ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করুন। এমন জুতা পরুন, যাতে স্বাভাবিকভাবে হাঁটাচলা করা যায়।

কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন?

পায়ের গোড়ালি বা নিচের অংশ দীর্ঘদিন ফুলে থাকলে, ব্যথা হলে বা পা ভারী মনে হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। বিশেষ করে একটি পায়ে হঠাৎ ব্যথা, ফোলাভাব, লালচে ভাব বা অস্বাভাবিক গরম অনুভূত হলে অবহেলা করবেন না। এগুলো পায়ের শিরায় রক্ত জমাট বাঁধার লক্ষণ হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া জরুরি।

সুস্থ রক্ত সঞ্চালনের জন্য শুধু হৃৎপিণ্ডের যত্ন নিলেই হবে না। এর সঙ্গে পায়ের কাফ মাসলকেও সচল রাখতে হবে। প্রতিদিন হাঁটা, দীর্ঘক্ষণ এক জায়গায় বসে না থাকা আর নিয়মিত ব্যায়ামের অভ্যাস আপনার দ্বিতীয় হৃৎপিণ্ডকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করতে পারে।

তথ্যসূত্র:

NDTV: Why Is Your Calf Muscle Called The 'Second Heart'?

Science Alert: Your Body Has a 'Second Heart', And It's Crucial You Keep It Pumping

বিনোদন থেকে আরও পড়ুন
আরও সংবাদ লোড হচ্ছে...