শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬
চুয়াডাঙ্গা ডট নেট
শিরোনাম
ইতালিতে দক্ষ কর্মীদের কাজের সুযোগ, গুরুত্ব পাচ্ছে বাংলাদেশদুই পর্বে পাকিস্তানের রাইউইন্ড ইজতেমা চলছে৯-১০ জনকে নিয়ে হোটেলে ফারজানা, জ্ঞান ফেরার পর রনি জানলেন- ‘তাদের বিয়ে হয়েছে’স্বামীর মৃত্যুর খবরে স্তব্ধ স্ত্রী, সেনাসদস্য তিতাসকে হারিয়ে শোকাহত গ্রামকুড়িগ্রামে অ্যাম্বুলেন্সের ধাক্কায় প্রাণ গেল মাদ্রাসাছাত্রেরবাংলাদেশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়েই থামল ওয়েস্ট ইন্ডিজরোনালদোর পর পর্তুগালের অধিনায়ক হচ্ছেন কে?মিশিগানে আবদুল এল সায়েদের বিজয় উদ্‌যাপন বিসমিল্লাহ কাবাবেররাফিয়া ব্যাগের আড়ালে মাদাগাস্কারের যে গল্প লুকিয়ে আছেদেশজুড়ে শোভাযাত্রা শনিবার, উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
বিজ্ঞাপন

সিলেটে পাঁচ উইকেট নিয়ে বিরল রেকর্ডে নাম লেখালেন হাসান

নিজস্ব প্রতিবেদক০৬ নভেম্বর ২০২৬, ১২:১৮ পিএম
সিলেটে পাঁচ উইকেট নিয়ে বিরল রেকর্ডে নাম লেখালেন হাসান

পাকিস্তান, ভারত, অস্ট্রেলিয়া ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের পর এবার বাংলাদেশের মাটিতেও পাঁচ উইকেটের স্বাদ পেলেন হাসান মাহমুদ। টেস্ট ক্রিকেটে নিজের প্রথম পাঁচবার ইনিংসে পাঁচ উইকেট নেওয়ার প্রতিটি কীর্তিই গড়লেন পাঁচটি ভিন্ন দেশে। তাতে অস্ট্রেলিয়ার কিংবদন্তি অফ স্পিনার নাথান লায়নের এক বিরল নজিরের পাশে নাম লিখিয়েছেন বাংলাদেশের এই পেসার। লায়নের মতোই ক্যারিয়ারের প্রথম পাঁচটি পাঁচ উইকেটের কীর্তি পাঁচ দেশে গড়লেন তিনি।

শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টের দ্বিতীয় দিনে এই মাইলফলক স্পর্শ করেন হাসান। ক্যারিবীয়দের প্রথম ইনিংসে পাঁচ উইকেট নিয়ে দেশের মাটিতে প্রথমবার এই অর্জনের দেখা পান ২৬ বছর বয়সী পেসার। একই সঙ্গে ক্যারিয়ারের প্রথম পাঁচটি ফাইফারই ভিন্ন দেশে নেওয়ার বিশেষ নজিরও গড়েন তিনি।

এর আগে নাথান লায়নও নিজের প্রথম পাঁচটি টেস্ট ফাইফার পাঁচটি ভিন্ন দেশে পেয়েছিলেন। অস্ট্রেলিয়ান স্পিনার ২০১১ সালে শ্রীলঙ্কার গলে অভিষেক টেস্টেই ৩৪ রানে পাঁচ উইকেট নিয়ে যাত্রা শুরু করেছিলেন। পরের বছর ওয়েস্ট ইন্ডিজের পোর্ট অব স্পেনে ৬৮ রানে নেন পাঁচ উইকেট। ২০১৩ সালে ভারতের দিল্লিতে ৯৪ রানে সাত উইকেট শিকার করেন তিনি।

একই বছরের ডিসেম্বরে দেশের মাটিতে মেলবোর্নে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৫০ রানে পাঁচ উইকেট নেন লায়ন। এরপর ২০১৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে দক্ষিণ আফ্রিকার পোর্ট এলিজাবেথে ১৩০ রানে পাঁচ উইকেট নিয়ে নিজের পঞ্চম ফাইফার পূর্ণ করেন তিনি।

অর্থাৎ লায়নের প্রথম পাঁচটি পাঁচ উইকেট এসেছিল শ্রীলঙ্কা, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, ভারত, অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকায়। এবার বাংলাদেশের হাসানও সেই ধারাবাহিকতার পুনরাবৃত্তি করলেন।

বাংলাদেশি পেসারের এই যাত্রা শুরু হয়েছিল ২০২৪ সালে পাকিস্তানের রাওয়ালপিন্ডিতে। সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে ৪৩ রানে পাঁচ উইকেট নিয়ে স্বাগতিকদের দ্বিতীয় ইনিংস ধসিয়ে দিয়েছিলেন তিনি। বাংলাদেশের ঐতিহাসিক সিরিজ জয়ের অন্যতম নায়কও ছিলেন হাসান।

সেই বছরের সেপ্টেম্বরে ভারতের বিপক্ষে চেন্নাই টেস্টে আবারও আলো ছড়ান ডানহাতি এই পেসার। রোহিত শর্মা, বিরাট কোহলি, শুভমান গিল ও ঋষভ পন্তের মতো ব্যাটারদের ফিরিয়ে ৮৩ রানে পাঁচ উইকেট নেন তিনি। ভারতের মাটিতে টেস্টে এক ইনিংসে পাঁচ উইকেট নেওয়া প্রথম বাংলাদেশি বোলার হওয়ার ইতিহাসও গড়েছিলেন সেদিন।

এরপর তৃতীয় ফাইফারের জন্য দীর্ঘ অপেক্ষা করতে হয় হাসানকে। চলতি বছরের আগস্টে অস্ট্রেলিয়ার ডারউইনে সেই অপেক্ষা শেষ হয়। তবে এবার পাঁচেই থামেননি তিনি। স্টিভ স্মিথ, ট্রাভিস হেডদের বিপক্ষে দুর্দান্ত বোলিংয়ে ৫৫ রানে ছয় উইকেট নেন হাসান। তার তোপে অস্ট্রেলিয়া প্রথম ইনিংসে অলআউট হয়েছিল মাত্র ১৯৮ রানে।

সেই পারফরম্যান্সের সুবাদে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের কোনো সংস্করণে পাঁচ উইকেট নেওয়া প্রথম বাংলাদেশি বোলার হন হাসান। এখনো সেটিই তার টেস্ট ক্যারিয়ারের সেরা বোলিং। ওই ম্যাচে বাংলাদেশও অস্ট্রেলিয়াকে নয় উইকেটে হারিয়ে ঐতিহাসিক জয় পেয়েছিল।

দুই মাস পর অক্টোবরে সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতে আফগানিস্তানের বিপক্ষে আবারও পাঁচ উইকেট নেন তিনি। ৫৫ রানে পাঁচ উইকেট নেওয়ার পথে হ্যাটট্রিকও করেন হাসান। বাংলাদেশের প্রথম পেসার হিসেবে টেস্টে টানা তিন বলে তিন উইকেট নেওয়ার নজির গড়েন তিনি। এর আগে দেশের হয়ে এই সংস্করণে হ্যাটট্রিক করেছিলেন দুই স্পিনার অলক কাপালি ও সোহাগ গাজী।

আবুধাবির সেই পারফরম্যান্সে চারটি ভিন্ন দেশে টেস্ট ফাইফার নেওয়ার কীর্তি গড়েছিলেন হাসান। প্রথম চারটি পাঁচ উইকেটই ছিল দেশের বাইরে। এবার সিলেটে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সেই তালিকায় যুক্ত হলো বাংলাদেশ।

সফরকারীদের প্রথম ইনিংসে শুরু থেকেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন হাসান। বৃহস্পতিবার প্রথম দিনে ক্যাভেম হজকে বোল্ড করে উইকেট শিকারের সূচনা করেন তিনি। পরে ৬১ রান করা অভিষিক্ত কেভিন উইকহ্যামকেও ফিরিয়ে দেন।

তবে অন্য প্রান্তে বড় ইনিংস খেলতে থাকেন আমির জাঙ্গু। প্রথম দিন ১১১ রানে অপরাজিত ছিলেন তিনি। দ্বিতীয় দিনেও ইনিংস এগিয়ে নিতে থাকেন ক্যারিবীয় ব্যাটার। জাস্টিন গ্রিভসকে সঙ্গে নিয়ে পঞ্চম উইকেটে গড়েন ১০৬ রানের জুটি।

অবশেষে দ্বিতীয় নতুন বলে জাঙ্গুকে ফিরিয়ে সেই জুটি ভাঙেন হাসান। ২১২ বলে ১৩টি চার ও দুটি ছক্কায় ১৩৩ রান করে বোল্ড হন জাঙ্গু। তাঁর বিদায়ের পরের বলেই অধিনায়ক রোস্টন চেজকে উইকেটরক্ষক লিটন দাসের ক্যাচ বানান হাসান।

টানা দুই বলে দুই উইকেট নিয়ে হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনাও তৈরি করেন বাংলাদেশের এই পেসার। পরের বলেই জশুয়া বিশপকে এলবিডব্লিউ দিয়েছিলেন আম্পায়ার। তবে রিভিউ নিয়ে বেঁচে যান ক্যারিবীয় ব্যাটার। রিপ্লেতে দেখা যায়, বল প্যাডে লাগার আগে ব্যাট স্পর্শ করেছিল।

হ্যাটট্রিক হাতছাড়া হলেও হাসানের পঞ্চম উইকেট পেতে বেশি অপেক্ষা করতে হয়নি। পরে সেই বিশপকেই ফিরিয়ে ক্যারিয়ারের পঞ্চম ফাইফার পূর্ণ করেন তিনি। হাসানের পাঁচ শিকার ক্যাভেম হজ, কেভিন উইকহ্যাম, আমির জাঙ্গু, রোস্টন চেজ ও জশুয়া বিশপ।

এই অর্জন হাসানের জন্য আরও বিশেষ হয়ে থাকল দেশের মাটিতে প্রথম পাঁচ উইকেট পাওয়ার কারণে। এতদিন বিদেশের উইকেটে ধারাবাহিকভাবে সফল হলেও ঘরের মাঠে এমন পারফরম্যান্সের অপেক্ষায় ছিলেন তিনি।

পাকিস্তানের রাওয়ালপিন্ডি, ভারতের চেন্নাই, অস্ট্রেলিয়ার ডারউইন, সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবি এবং বাংলাদেশের সিলেট। পাঁচটি ভিন্ন দেশের পাঁচটি মাঠেই নিজের প্রথম পাঁচটি ফাইফার গড়লেন হাসান।

খেলাধুলা থেকে আরও পড়ুন
আরও সংবাদ লোড হচ্ছে...