শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬
চুয়াডাঙ্গা ডট নেট
শিরোনাম
সচিবের মৃত্যুতে স্থবির ইউপি কার্যক্রম, ভোগান্তিতে মানুষশ্রমিক আন্দোলনের আড়ালে সহিংসতা, ফ্যাসিবাদের পুনরুত্থানের চেষ্টা: রিজভীকাল জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস, ছুটি পাবেন না যারাপারিবারিক বিষয়ে হস্তক্ষেপের অভিযোগে স্ত্রী ও তাঁর ৬ স্বজনকে হত্যা ক্যাবচালকেরমাউন্ট এলব্রুস জয় শেষে জাতীয় পতাকা প্রত্যর্পণ করলেন পর্বতারোহী শাকিলসিমন্স যেন ক্রিকেটের ডুলি, স্পিনারকে বানালেন ওপেনারঅ্যাপ্লায়েড হিউম্যান সায়েন্স কলেজের অধ্যক্ষের পদত্যাগ দাবিতে আজিমপুরে সড়ক অবরোধইতালিতে দক্ষ কর্মীদের কাজের সুযোগ, গুরুত্ব পাচ্ছে বাংলাদেশদুই পর্বে পাকিস্তানের রাইউইন্ড ইজতেমা চলছে৯-১০ জনকে নিয়ে হোটেলে ফারজানা, জ্ঞান ফেরার পর রনি জানলেন- ‘তাদের বিয়ে হয়েছে’
বিজ্ঞাপন

ইতালিতে দক্ষ কর্মীদের কাজের সুযোগ, গুরুত্ব পাচ্ছে বাংলাদেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক০৬ নভেম্বর ২০২৬, ০১:২৪ পিএম
ইতালিতে দক্ষ কর্মীদের কাজের সুযোগ, গুরুত্ব পাচ্ছে বাংলাদেশ

এসব প্রকল্পের প্রস্তাব ইতালির শ্রম ও সামাজিক নীতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের, অভিবাসন ও সংহতি নীতিবিষয়ক মহাপরিচালকের দপ্তরে জমা দিতে হয়। মন্ত্রণালয়ের একটি আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিশন প্রকল্পগুলো মূল্যায়ন ও অনুমোদনের দায়িত্ব পালন করে।

বাংলাদেশে আর্টিকেল-২৩ নিয়ে দূতাবাসের উদ্যোগ

বাংলাদেশের কর্মীদের জন্য আর্টিকেল ২৩-এর আওতায় দক্ষ অভিবাসনের সুযোগ তুলে ধরেছে ঢাকায় অবস্থিত ইতালির দূতাবাস।

বিশ্বব্যাপী ইতালীয় ভাষা সপ্তাহ ২০২৬ উপলক্ষ্যে গত ৩ নভেম্বর ঢাকায় ‘ল্যাংগুয়েজ, সিভিক অ্যান্ড প্রফেশনাল ট্রেইনিং ফর স্কিলড মাইগ্রেশন টু ইতালি’ শীর্ষক একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

ইতালির দূতাবাস ও তাদের আন্তর্জাতিক সহযোগী অংশীদারদের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রায় ৩০০ শিক্ষার্থীর সামনে ইতালিতে দক্ষ অভিবাসনের সুযোগ এবং দেশটির অভিবাসন আইনের সাম্প্রতিক বিধান তুলে ধরা হয়। এতে ইতালীয় ভাষা শিক্ষা, নাগরিক শিক্ষা ও পেশাগত প্রশিক্ষণের গুরুত্ব বিশেষভাবে আলোচনায় আসে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন। এ ছাড়া ছিলেন বাংলাদেশে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার, আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) মিশনপ্রধান ড. লরা নিকোল টম-বন্ডে, আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) প্রতিনিধি, প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেডের (বোয়েসেল) প্রতিনিধিরা।

ইতালির দুটি প্রকল্প বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠান ফ্রন্টিয়ার স্কিলস ও ফরম্যাটের প্রতিনিধিরাও অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে নিযুক্ত ইতালির রাষ্ট্রদূত আন্তোনিও আলেসান্দ্রো বলেন, ইতালিতে বৈধভাবে কাজের সুযোগ রয়েছে। এ জন্য কোনো দালাল বা মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে অবৈধ পথে যাওয়ার প্রয়োজন নেই।

দূতাবাসের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, আর্টিকেল ২৩-এর আওতায় প্রকল্পগুলো ইতালির বেসরকারি খাতের উদ্যোগে পরিচালিত হয় এবং এসব প্রকল্পের সংখ্যা সীমিত। সাধারণত জাতীয় সংবাদপত্রে প্রশিক্ষণ ও নিয়োগের জন্য আবেদন আহ্বান করা হয়। এ ধরনের সুযোগ সম্পর্কে জানতে আগ্রহীদের দেশের প্রধান সংবাদপত্রগুলো নিয়মিত অনুসরণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশে প্রশিক্ষণ প্রকল্প বাস্তবায়নের সুযোগ

ইতালির ২০২৩ সালের নির্দেশিকায় বাংলাদেশের নাম আলাদাভাবে উল্লেখ করা হয়নি। তবে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরের যেকোনো দেশে এসব প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ রাখা হয়েছে। সে হিসাবে বাংলাদেশেও আর্টিকেল ২৩-এর আওতায় প্রকল্প বাস্তবায়নের সুযোগ রয়েছে।

অনুষ্ঠানে ইতালির সরকারি কর্মী নিয়োগের কোটা ব্যবস্থা ‘দেক্রেতো ফ্লুসি’র পরিসংখ্যানও তুলে ধরা হয়।

এতে বলা হয়, ২০২৬ সালে ১ লাখ ৬৪ হাজার ৮৫০ জন, ২০২৭ সালে ১ লাখ ৬৫ হাজার ৮৫০ জন এবং ২০২৮ সালে ১ লাখ ৬৬ হাজার ৮৫০ জন বিদেশি কর্মী নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে ইতালির।

তিন বছরে সব মিলিয়ে ৪ লাখ ৯৭ হাজার ৫৫০ জন কর্মী নেওয়া হবে। বিভিন্ন দেশের জন্য নির্ধারিত কোটা অনুযায়ী এসব কর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, অনিয়মিত অভিবাসীদের নিজ দেশে ফেরত নেওয়ার ক্ষেত্রে সহযোগিতার কারণে বাংলাদেশের জন্যও সংরক্ষিত কোটা রয়েছে।

তবে প্রচলিত কোটা ব্যবস্থার বাইরে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করেছে ইতালির অভিবাসন আইনের আর্টিকেল ২৩। এই ধারার আওতায়, ইতালির শ্রম ও সামাজিক নীতিবিষয়ক মন্ত্রণালয় অনুমোদিত ও সনদপ্রাপ্ত প্রি-ডিপারচার প্রশিক্ষণ প্রকল্প সম্পন্ন করা ব্যক্তিরা ডেকরেতো ফ্লুসির নির্ধারিত কোটা ছাড়াই বৈধভাবে ইতালিতে যাওয়ার সুযোগ পেতে পারেন।

এই প্রশিক্ষণে তিনটি বিষয় বাধ্যতামূলক। এগুলো হলো : প্রাথমিক ইতালীয় ভাষা শিক্ষা, ইতালি সম্পর্কে মৌলিক নাগরিক শিক্ষা এবং সংশ্লিষ্ট কাজের খাতের পেশাগত দক্ষতা অর্জন। প্রশিক্ষণ বাংলাদেশ থেকেই সম্পন্ন করতে হবে এবং এ জন্য কর্মীদের কোনো অর্থ ব্যয় করতে হবে না।

অনুষ্ঠানে ফরম্যাটের প্রতিনিধি আন্তোনিও মিলো আর্টিকেল ২৩-এর পাঁচটি সুবিধার কথা তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, এই ব্যবস্থায় প্রচলিত কোটা ছাড়াই ইতালিতে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে এবং প্রশিক্ষণ বিনামূল্যে দেওয়া হয়। শুরু থেকেই ইতালি সরকার প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করে। প্রশিক্ষণ শেষে কর্মীরা ইতালীয় ভাষা ও সংশ্লিষ্ট কাজ সম্পর্কে ধারণা নিয়ে দেশটিতে যেতে পারবেন। আর যারা শেষ পর্যন্ত ইতালিতে যাবেন না, তাঁরাও অর্জিত দক্ষতা বাংলাদেশে কাজে লাগাতে পারবেন।

ভিসা ও দালালের খরচ নিয়ে সতর্কতা

অনুষ্ঠানে ইতালিতে যাওয়ার নামে প্রতারণার বিষয়টিও তুলে ধরা হয়। আয়োজকেরা জানান, ইতালির ভিসার সরকারি ফি ৫০ থেকে ১১৬ ইউরো। এর সঙ্গে ভিএফএসের ফি ৩৮ ইউরো যুক্ত হয়। সব মিলিয়ে সর্বোচ্চ ১৫৪ ইউরো খরচ হয়। অথচ একই ভিসার জন্য দালালেরা ১০ হাজার থেকে ১৫ হাজার ইউরো পর্যন্ত নিচ্ছেন। এর বিনিময়ে অনেক ক্ষেত্রে ভুয়া কাগজপত্র ও মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দেওয়া হচ্ছে।

আন্তর্জাতিক থেকে আরও পড়ুন
আরও সংবাদ লোড হচ্ছে...