বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬
চুয়াডাঙ্গা ডট নেট
শিরোনাম
বিজ্ঞাপন

ভালভার্দের শেষ মুহূর্তের গোলে রিয়ালের নাটকীয় জয়

নিজস্ব প্রতিবেদক০৫ নভেম্বর ২০২৬, ০২:১৮ এএম
ভালভার্দের শেষ মুহূর্তের গোলে রিয়ালের নাটকীয় জয়

চ্যাম্পিয়ন্স লিগে আবারও অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন রিয়াল মাদ্রিদের। গ্রিসের ক্লাব এইকে এথেন্সের মাঠে দুইবার পিছিয়ে পড়েও শেষ পর্যন্ত ৩-২ গোলে জিতেছে স্প্যানিশ জায়ান্টরা। জুড বেলিংহাম ও কিলিয়ান এমবাপ্পের গোলে দুইবার সমতায় ফেরার পর যোগ করা সময়ে জয়সূচক গোল করেন ফেদেরিকো ভালভার্দে। তাতে হারের শঙ্কা কাটিয়ে তিন পয়েন্ট নিয়ে মাঠ ছাড়ে হোসে মরিনহোর দল। এই জয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে টানা চার ম্যাচ জয়ের পাশাপাশি সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে সপ্তম জয় তুলে নিয়েছে রিয়াল।

বুধবার (৪ নভেম্বর) রাতে গ্রিসের রাজধানী এথেন্সের অলউইন অ্যারেনায় চ্যাম্পিয়ন্স লিগের লিগ পর্বের চতুর্থ ম্যাচে মুখোমুখি হয় এইকে এথেন্স ও রিয়াল মাদ্রিদ। প্রথমার্ধে ১-১ সমতা থাকলেও দ্বিতীয়ার্ধের শেষ দিকে আবারও এগিয়ে যায় স্বাগতিকরা। তবে কয়েক মিনিটের মধ্যে সমতা ফেরানোর পর যোগ করা সময়ে জয় নিশ্চিত করে সফরকারীরা।

ম্যাচের শুরু থেকেই বলের দখল নিয়ে আক্রমণ সাজানোর চেষ্টা করে রিয়াল। তবে নিজেদের মাঠে সহজে ছাড় দেওয়ার ইচ্ছা ছিল না এইকের। বরং পাল্টা আক্রমণে রিয়ালের রক্ষণকে বারবার পরীক্ষায় ফেলে গ্রিসের ক্লাবটি।

শুরুতেই স্বাগতিকদের একটি প্রচেষ্টা ঠেকিয়ে দেন রিয়াল গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়া। তবে ১২তম মিনিটে আর দলকে রক্ষা করতে পারেননি বেলজিয়ান এই গোলরক্ষক। সাবেক রিয়াল ফরোয়ার্ড লুকা ইয়োভিচের পাস থেকে বক্সের ভেতর বল পেয়ে বাঁ পায়ের শটে এইকেকে এগিয়ে দেন আবুবাকরি কোইতা।

গোল হজমের পর আক্রমণের গতি বাড়ায় রিয়াল। ২৮তম মিনিটে বেলিংহামের একটি গোল অফসাইডের কারণে বাতিল হয়। তবে বেশিক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়নি ইংলিশ এই মিডফিল্ডারকে।

৩২তম মিনিটে দুর্দান্ত এক গোলে সমতা ফেরান বেলিংহাম। বাঁ প্রান্ত থেকে মার্ক কুকুরেয়ার নিচু ক্রস ব্যাকহিলের সাহায্যে জালে পাঠান তিনি। তার অভিনব ফিনিশিংয়ে কিছুই করার ছিল না এইকের গোলরক্ষক আলবের্তো ব্রিনিওলির। ফলে ১-১ সমতায় শেষ হয় প্রথমার্ধ।

দ্বিতীয়ার্ধেও বলের দখলে এগিয়ে ছিল রিয়াল। তবে স্বাগতিকদের রক্ষণ ভাঙতে বেশ বেগ পেতে হচ্ছিল মরিনহোর শিষ্যদের। অন্যদিকে সুযোগ পেলেই দ্রুতগতির পাল্টা আক্রমণে উঠছিল এইকে।

ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিতে ৬৭তম মিনিটে জোড়া পরিবর্তন আনেন মরিনহো। বার্নার্দো সিলভার পরিবর্তে এন্দ্রিক এবং ইয়ান দিয়োমান্দের জায়গায় ভালভার্দেকে মাঠে নামান রিয়াল কোচ। শেষ পর্যন্ত এই সিদ্ধান্তই ম্যাচের ফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

তবে বদলি খেলোয়াড়দের মাঠে নামানোর পরও প্রথমে ধাক্কা খেতে হয় রিয়ালকে। ৭৫তম মিনিটে দুর্দান্ত পাল্টা আক্রমণে আবারও এগিয়ে যায় এইকে। কোইতার পাস থেকে বক্সে বল পেয়ে নিচু শটে গোল করেন স্তাভরোস পিলিওস। তাতে ম্যাচের শেষ ১৫ মিনিটে ২-১ গোলে এগিয়ে যায় স্বাগতিকরা।

কিন্তু সেই আনন্দ বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। মাত্র তিন মিনিট পরই সমতা ফেরান এমবাপ্পে। বেলিংহামের বাড়ানো বল ধরে ডান দিক দিয়ে এগিয়ে যান ডেনজেল ডামফ্রিস। তার পাস থেকে কাছের দূরত্বে গোল করেন ফরাসি ফরোয়ার্ড। ৭৮তম মিনিটে স্কোরলাইন হয়ে যায় ২-২।

সমতায় ফেরার পর জয়ের জন্য আরও মরিয়া হয়ে ওঠে রিয়াল। আক্রমণের চাপ বাড়িয়ে একের পর এক সুযোগ তৈরি করতে থাকে সফরকারীরা। অন্যদিকে নিজেদের রক্ষণ সামলাতেই বেশি মনোযোগ দিতে হয় এইকেকে।

শেষ দিকে বড় সুযোগ পেয়েছিলেন এমবাপ্পে। এন্দ্রিকের তৈরি করা আক্রমণ থেকে তার নেওয়া জোরালো শট ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে। মনে হচ্ছিল, দুই দলকে হয়তো পয়েন্ট ভাগাভাগি করেই মাঠ ছাড়তে হবে।

কিন্তু যোগ করা সময়ে বদলে যায় সবকিছু। বক্সের বাইরে থেকে দুর্দান্ত এক শটে রিয়ালের হয়ে জয়সূচক গোল করেন ভালভার্দে। উরুগুইয়ান এই মিডফিল্ডারের গোলে শেষ মুহূর্তে ৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে যায় সফরকারীরা। বাকি সময় সেই ব্যবধান ধরে রেখে রোমাঞ্চকর জয় নিশ্চিত করে মরিনহোর দল।

এই জয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে নিজেদের শতভাগ জয়ের রেকর্ড ধরে রাখল রিয়াল। প্রথম চার ম্যাচের সবকটিতে জিতে পূর্ণ ১২ পয়েন্ট সংগ্রহ করেছে স্প্যানিশ জায়ান্টরা। একই সঙ্গে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে টানা সাত ম্যাচ জয়ের ধারাও অব্যাহত রেখেছে তারা।

এর আগে লিগ পর্বে ইন্টার মিলানকে ২-১, রোমাকে ৪-৩ এবং আরবি লাইপজিগকে ৪-১ গোলে হারিয়েছিল রিয়াল। এবার এইকের মাঠে আরও একটি জয় যোগ হলো তাদের সংগ্রহে।

মরিনহোর দলের জন্য এথেন্সের জয়টি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। গ্রিসের মাটিতে অতীতে ইউরোপীয় প্রতিযোগিতায় খুব একটা স্বস্তিদায়ক অভিজ্ঞতা ছিল না রিয়ালের। এইকের বিপক্ষে আগের দুই চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ম্যাচও ড্র হয়েছিল। এবার সেই প্রতিপক্ষের মাঠে পিছিয়ে পড়েও তিন পয়েন্ট নিশ্চিত করল তারা।

এটি চলতি চ্যাম্পিয়ন্স লিগে রিয়ালের দ্বিতীয় নাটকীয় প্রত্যাবর্তন। গত ১৪ অক্টোবর রোমার মাঠে ৩-১ গোলে পিছিয়ে পড়েও শেষ আট মিনিটে তিন গোল করে ৪-৩ ব্যবধানে জিতেছিল তারা। এবার এইকের বিপক্ষেও শেষ মুহূর্তে জয় ছিনিয়ে নিল মরিনহোর শিষ্যরা।

খেলাধুলা থেকে আরও পড়ুন
আরও সংবাদ লোড হচ্ছে...